পলাতক আ.লীগারদের হুমকি পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য চাইলেন যুবলীগ নেতা কামাল উদ্দিন

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ দক্ষিণ জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক আইনবিষয়ক সহসম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের কাছ থেকে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।

২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা ৫৭ মিনিটে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক ভিডিও পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাহায্য প্রার্থনা করেন।

পোস্টে কামাল উদ্দিন জানান, তিনি আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের সমালোচনা করায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও পলাতক নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন, সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জসিম (প্রকাশ রাশিয়া জসিম), সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুসেন কবির এবং মোহাম্মদ দিদার হোসেন ও শহিদ নামে দুটি ফেসবুক আইডি তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।

তিনি বলেন, “উনারাসহ আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন আমাকে যেকোনো সময়, যেকোনো মুহূর্তে মেরে ফেলতে পারে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আপনাদের কাছে এদের কাছ থেকে আমি নিরাপত্তা চাচ্ছি। আমাকে কেউ মেরে ফেললে এই আমিনুল ইসলাম আমিন, হুসেন কবির, জসিম প্রকাশ রাশিয়া জসিম, ফেসবুক আইডি মোহাম্মদ দিদার ও শহিদ—উনারাই দায়ী থাকবে এবং উনাদের নামে মামলা হবে। আমি আপনাদের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন করছি।”

এর আগে বিকেল ৩টা ২৮ মিনিটে দেওয়া আরেকটি পোস্টে তিনি দুটি আইডির স্ক্রিনশট যুক্ত করে লেখেন, “আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। স্ক্রিনশটের ফেসবুক আইডির দুই ব্যক্তিসহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী কেন্দ্রীয় কমিটি ও সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হোসেন কবির ও জসিম প্রকাশ রাশিয়ার জসিম আমাকে প্রতিনিয়ত মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আমাকে কেউ মেরে ফেললেই তারা দায়ী থাকবে।’

স্ক্রিনশটে মোহাম্মদ দিদার হোসেন ও শহিদ নামে দুটি ফেসবুক আইডি দৃশ্যমান।

কামাল উদ্দিনকে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিদেশে পলাতক নেতাদের সমালোচনা করে নিয়মিত পোস্ট দিতে দেখা যায়।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে কামাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, “আসন্ন ১৭ নং সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাইয়ে দেবে বলে সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুসেইন কবির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জননেতা জনাব আলহাজ্ব মোসলেম উদ্দিন আহমেদ এম.পির নাম দিয়ে ১৫,০০,০০০৳ (পনের লাখ) টাকার চেক নিয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আমাকে মনোনয়ন দেওয়া তো দূরে থাক, কেন্দ্রে আমার নামটি পর্যন্ত পাঠায়নি।”

সেই চেক ও টাকা ফেরত চেয়ে আইনজীবী কামাল উদ্দিন বলেন, “এখন আমি আমার চেক ও টাকা ফেরত চাই। অন্যথায় বিষয়টি নিয়ে আমি তৃণমূলের আশা-ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল জননেত্রী শেখ হাসিনার দ্বারস্থ হব এবং ফৌজদারি মামলা করতে বাধ্য হব।”

পরবর্তীতে ১০ জানুয়ারি তৎকালীন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক) অপপ্রচার করার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মো. কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

মো. কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৩, ২৫, ২৯ ও ৩১ ধারায় মামলাটির আবেদন করেন সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুসেইন কবির।