জুলাইপন্থী হওয়ায় লাইফ সাপোর্টে থাকা কারিনাকে নিয়ে আ.লীগের বিদ্বেষমূলক প্রচারণা

১১ মে, ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা ফুটবলার কায়সার হামিদের মেয়ে কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে আছেন। গত শুক্রবার (৮ মে, ২০২৬) রাতে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

কারিনা দীর্ঘদিন ধরে লিভার-সংক্রান্ত (Fatty Liver) জটিলতায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি তার হেপাটাইটিস এ এবং ই ধরা পড়ে, যা থেকে লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়।

কায়সার হামিদ মেয়ের জীবন বাঁচাতে সরকার ও দেশবাসীর কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।

কারিনা কায়সার ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় (জুলাই ২০২৪) সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় ছিলেন এবং আন্দোলনের পক্ষে জনমত গঠনে ভূমিকা রেখেছিলেন। তার এই রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই বর্তমানে তার অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করা হচ্ছে।

বিভিন্ন পোস্টে কারিনা কায়সারকে “গণভবন লুটপাটকারী” হিসেবে অভিহিত করে তার মৃত্যু কামনা করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট Sushanta Das Gupta ফেসবুকে এক পোস্ট করে লিখেছেন, “গণভবনে লুটপাটকারী এই কারিনা কায়সার এই মুহূর্তে লাইফ সাপোর্টে আছে। সবাই উনার জন্য দোয়া করুন।”

পোস্টটিতে আড়াই হাজারের মতো মানুষ মন্তব্য করেছেন, যেখানে অধিকাংশই আওয়ামী লীগ পন্থীদের। কমেন্টগুলোতে কারিনা কায়সারকে ‘লালবদর’ উপাধি দিয়ে বলেছে সে তার কৃতকর্মের (জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ) শাস্তি পেয়েছে। এছাড়াও, একাধিক কমেন্টে কারিনা কায়সারকে স্লাটশেমিং করে মন্তব্য করা হয়েছে।

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আরেক অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ডাল্টন সৌভাত হীরা এক পোস্টে বলেন, “আমি শিওর এই কারিনা কায়সার হাতীর নাঙ রা আওয়ামী লীগ থাকলে,প্রধান মন্ত্রীর ত্রান তহবিল থেকেই যাবতীয় টাকা পয়সা তুলে ফেলত। তারেক রহমান রে একটা বিশেষ ধন্যবাদ,উনি এইসব হাতী দের পিম্পদের আশে পাশে ঘেষতে দেন না।”

অ্যাক্টিভিস্ট নিঝুম মজুমদার একটি ভিডিও প্রকাশ করে বলেন, “আজকে কারিনা কিন্তু প্রত্যেকের সহমর্মিতা, ভালোবাসা, আদর, স্নেহ পেতে পারত। সবাই মিলে কিন্তু আজকে কারিনাকে সাহায্য করত। কিন্তু দেখুন, এই নোংরা কাজটার কারণে বাংলাদেশের একটা বড় অংশ যারা মুক্তিযুদ্ধের, মুক্তবুদ্ধির, যারা বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসে, যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসে, আমি আওয়ামী লীগ বাদ দিলাম, যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের, তারা কিন্তু এই মেয়েটা থেকে সরে এসেছে। সে গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে।”

আওয়ামী লীগ পন্থী আরেক অ্যাক্টিভিস্ট Murshida Bhuiyan Mira লিখেছেন, “কখনো কখনো খারাপ সংবাদও খুশির কারণ হয়।

পাপ বাপকেও ছাড়ে না। '২৪ এর জুলাই-আগস্টে সুন্দর সাজানো দেশটাকে ধ্বংস করা সবগুলো অমানুষ কোন না কোনভাবে ভয়ঙ্কর শাস্তি পাচ্ছে এবং পাবে। গণভবন থেকে হ্যান্ডব্যাগ ও ল্যাপটপ চুরি করা কায়সার হামিদ দম্পতির মেয়ে কারিনা কায়সার লাইফ সাপোর্টে।”

তাছাড়া আওয়ামীপন্থী ফেসবুক পেজ এবং গ্রুপে কারিনা কায়সার কে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করে উল্লাস করতে দেখা গেছে। দেখুন এখানে, এখানে, এখানে

লাইফ সাপোর্টে থাকা কারিনা কায়সারকে নিয়ে যৌন ইঙ্গিতমূলক পোস্টও করতে দেখা গিয়েছে। একটি পোস্টে কারিনা কায়সারের ছবি বিকৃত করে দাবি করা হয়েছে কারিনা কায়সার এইডস এ আক্রান্ত হয়েছেন।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সঙ্ঘবদ্ধ আক্রমণ করা হয়েছে। বিশেষ করে নারীদের লক্ষ করে ব্যাপক হারে স্লাটশেমিং করা হয়েছে।

শুধু আওয়ামী লীগ নয়, জুলাই পন্থীদের বিরুদ্ধে প্রচারণা করেছে ভারতীয়রাও। ২০২৫ সালে ১২ ডিসেম্বর শহীদ শরিফ ওসমান হাদীর মাথায় গুলি করার পর ভারত থেকে পরিচালিত বেশ কিছু অ্যাকাউন্ট হাদীর হত্যাচেষ্টাকে উল্লাস করেছে এবং এই আক্রমণকারীদেরকে ভারতীয় স্বার্থরক্ষাকারী ‘এজেন্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ধন্যবাদ জানিয়েছে।

শুধু ওসমান হাদি নয়, বিভিন্ন সময়ে ভারতে বাংলাদেশি সন্দেহে একের পর এক ব্যক্তিকে মেরে ফেলাকেও উদযাপন করেছে হিন্দুত্ববাদীরা।