কেরানীগঞ্জে বোমা বিস্ফোরণের হোতা সেই আল-আমিন গ্রেফতার
কেরানীগঞ্জে একটি মাদ্রাসা ভবনে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের হোতা পলাতক শেখ আল-আমিন ওরফে রাজিব ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের বিশেষ শাখা এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। সংস্থাটির অন্তত ৩জন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য ডিসেন্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এই কর্মকর্তাদের কেউই নাম প্রকাশ করতে চাননি। পুলিশের অন্য একটি বিশেষায়িত গোয়েন্দা শাখাও আল-আমিনের গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আজ বুধবার তাকে আদালতে তুলে রিমান্ড চাওয়ার কথা রয়েছে।
কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার কদমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এটিইউ’র একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গতবছরের ডিসেম্বরে কেরানীগঞ্জে বোমা বিস্ফোরণের পর থেকেই আল-আমিনকে গ্রেফতার করার জন্য হন্যে হয়ে খুঁজছিল পুলিশ। তবে তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সম্প্রতি আল-আমিন অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা শুরু করেন। তার উপস্থিতির সম্ভাবনা জানতে পেরে গত পরশুদিন সোমবার কদমতলীর একটি জায়গায় অভিযান পরিচালনা করা হলেও তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। তবে পরদিন (গতকাল) কদমতলী এলাকায় তার উপস্থিতির কথা জানতে পেরে তাকে আটক করে এন্টি টেররিজম ইউনিট।
গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় একটি মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে নারী, শিশুসহ চারজন আহত হয়। শেখ আল-আমিন নামে আইএস মতাদর্শী নিউ জেএমবির একজন সদস্য মাদ্রাসার আড়ালে বোমা বানাচ্ছিলেন বলে সেসময় জানিয়েছিল পুলিশ। বিস্ফোরণের পর আহত স্ত্রী ও সন্তানদের হাসপাতালে ভর্তি করে আল-আমিন পালিয়ে যান।
এর আগে জঙ্গিবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১৭ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন বক্তাবলী থেকে র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন শেখ আল-আমিন।
শেখ আল-আমিন ওরফে রাজিব ইসলামের গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের মোল্লারহাট থানায়। পুলিশের নথি থেকে জানা যায় তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে সন্ত্রাসবিরোধী সহ বিভিন্ন ধারায় মোট ৭টি মামলা ছিল।