টকশোতে বসে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে 'প্রতারণা ও ষড়যন্ত্র' বললেন সিনিয়র সাংবাদিক পান্না
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন সিনিয়র সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ প্রতিদিন আয়োজিত ‘রাজনীতিতে উসকানি’ শীর্ষক টকশোতে আলোচক হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের তনিমা রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত টকশোতে অন্য আলোচক ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান ও কালের কণ্ঠের যুগ্ম সম্পাদক সাঈদ খান।
টকশোতে মঞ্জুরুল আলম পান্না বলেন, “চব্বিশের আন্দোলনে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নেমেছিল। একটা বৃহৎ গোষ্ঠী। ওটা ষড়যন্ত্র না। ষড়যন্ত্র পেছনে ছিল। মানুষ সেটা বুঝতে পারেনি।”
তিনি বলেন, “জেফ্রি স্যাক্স কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির জননীতি বিভাগের অধ্যাপক। তিনি দীর্ঘ আর্টিকেল লিখেছিলেন ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়ায় যে, কীভাবে মার্কিন প্লট নির্মাণ করা হয়েছিল; কী পরিমাণ টাকা, অর্থ এখানে বিনিয়োগ করা হয়েছে। ষড়যন্ত্র ছিল। কিন্তু মানুষের যে অংশগ্রহণ, সেটা তো আর ষড়যন্ত্র না। মানুষ তো আর বুঝতে পারেনি যে এর মধ্যে ষড়যন্ত্র আছে কি না।”
পান্না আরও বলেন, “মানুষ নেমেছে। মানুষের ক্ষোভ ছিল তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের প্রতি। নির্বাচনহীন সরকারব্যবস্থা বা দুর্নীতি এগুলোর প্রতি মানুষের একটা ক্ষোভ ছিল।”
আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, “মানুষ নেমেছে এবং কোন জায়গা থেকে নেমেছে? ওই সময় সামনের সারিতে থাকা এখনকার যে একটি বিশেষ দলের নেতৃত্বে আছে, তখনকার ছাত্রনেতারা। তারা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্লোগান দিল। ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নানা ধরনের গান বাজালো। মানুষ হিপনোটাইজড হয়ে পড়েছিল। হিপনোটাইজড হয়ে প্রতারণার স্বীকার হয়েছিলো।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষ মনে করলো আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বলা যাচ্ছে না। এরাই কথা বলছে। এরা আবার মুক্তিযুদ্ধের কথা বলছে। তাহলে তো এরাই রিয়েল হিরো। মানুষ আস্থা রাখল। পরবর্তীতে রাতারাতি দেখা গেল যে, এই আন্দোলনের নেতৃত্ব যারা দিয়েছে, তারা আসলে মুখোশধারী ছিল। একেবারে একাত্তরকে উল্টে-পাল্টে দিতে চায়।”
টকশোতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান পান্নাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনাকে জুলাইন গণ-অভ্যুত্থানকে স্বীকার করে কথা বলতে হবে।”
তখন প্রতিউত্তরে পান্না বলেন, “স্যরি। স্যরি। স্যরি। আমি কেন স্বীকার করবো? এটাকি জুলাই চেতনা? আপনি আমাকে ইম্পোজ করছেন জুলাই চেতনা?”
পান্না বলেন, “চব্বিশ ষড়যন্ত্র ছিল। চব্বিশে ইউনূস সরকার এসেছে। নাভিশ্বাস উঠিয়ে দিয়েছে জনজীবনে। চব্বিশের পরে একাত্তরের খোল পাল্টে ফেলা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রমাণ তো দুই আর দুইয়ে চার অঙ্ক কষে দেখানো লাগে না। সমীকরণ, ইকুয়েশন মেলানোর আরও অনেক পথ আছে।” আচ্ছা, যেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন চেয়েছিল, এই তো। এর বেশি কিছু তো না। চব্বিশের স্বপ্ন, চব্বিশের এসব চেতনা-ফেতনা কিছু ছিল না।”