ফেসবুকে বিক্রি হচ্ছে ৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া সার্টিফিকেট!
ফেসবুকে বিজ্ঞাপন প্রচার করে বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ও মাস্টার্সের ভুয়া সার্টিফিকেট। বেশকিছু ফেসবুক পেইজ থেকে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টস (ইউল্যাব), গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়; এই চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (অনার্স) ও স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) এর সার্টিফিকেট সরবরাহ করার দাবি সম্বলিত বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে।
দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নামে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখানে স্টুডেন্ট আইডি তৈরি করে গ্রাহকদের মনে বিশ্বাস তৈরি করা হয় যে, সার্টিফিকেটগুলো আসল। পরবর্তীতে এই ভুয়া সার্টিফিকেট সরবরাহ করে টাকা হাতিয়ে নেয় এসব প্রতারকচক্র।
কীভাবে পাওয়া গেছে এসব পেইজ
ফেসবুকে “বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট লাগবে?” লেখা সম্বলিত একটি বিজ্ঞাপনের সূত্র ধরে অনুসন্ধান শুরু করে দ্য ডিসেন্ট। বিজ্ঞাপনটিতে বলা হয়, “এখন ঘরে বসেই পাচ্ছেন অনলাইনে ভেরিফাইড অনার্স ও মাস্টার্স লেভেলের সার্টিফিকেট! যা চাকরির আবেদন, প্রমোশন, কিংবা বিদেশে ভি*সা–ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া— সব ক্ষেত্রেই ব্যবহারযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য।”
পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কী-ওয়ার্ড সার্চ দিয়ে এরকম মোট ১০টি ফেসবুক পেইজ খুঁজে পায় দ্য ডিসেন্ট। ফেসবুক পেইজগুলো হচ্ছে - ক্যারিয়ার সমাধান, EduHub Agency, Education Level Up, সার্টিফিকেট লাগবে, Honours/Masters Consultancy, ক্যারিয়ার সমাধান, সার্টিফিকেট সার্ভিস, University Point, GradeFixer - The System Insider এবং Certificeta Zone।
ফেসবুকে প্রচার হচ্ছে বিজ্ঞাপন
শুধু ফেসবুক পোস্ট নয়, পেইজগুলো থেকে প্রায়ই সার্টিফিকেট বিক্রির বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে অর্থ খরচ করে। ক্যারিয়ার সমাধান পেইজ থেকে গত ১৫ এপ্রিল থেকে একটি বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। EduHub Agency থেকেও গত ১৫ এপ্রিল থেকে বিজ্ঞাপন চলছে। Education Level Up থেকে গত ৪ এপ্রিল থেকে এধরণের একটি বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। Honours/Masters Consultancy থেকে গত ১৪ এপ্রিল থেকে একটি বিজ্ঞাপন চালানো হচ্ছে। ক্যারিয়ার সমাধান পেইজটিতে ৩টি সক্রিয় বিজ্ঞাপন দেখা গেছে। সেগুলো রান করা শুরু হয়েছে ১৫ এপ্রিল, ১৬ এপ্রিল এবং ১৮ এপ্রিল থেকে। সার্টিফিকেট সার্ভিস-এ ২টি বিজ্ঞাপন প্রচারিত হচ্ছে যেগুলো শুরু করা হয়েছে ১৬ এপ্রিল এবং ২০ এপ্রিল। এছাড়াও University Point পেইজে গত ১৫ এপ্রিল থেকে একটি বিজ্ঞাপন এবং Certificeta Zone-এ গত ১১ এপ্রিল থেকে একটি বিজ্ঞাপন প্রচারিত হতে দেখা গেছে।

ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে চালানো হচ্ছে ভুয়া সার্টিফিকেট বিক্রির প্রচারণা
বিজ্ঞাপন প্রচারে প্রতিদিন গড়ে ন্যূনতম ১ ডলার (প্রায় ১১০ টাকা) ব্যয় ধরা হলে, ২১ এপ্রিল পর্যন্ত হিসাব করে দেখা যায়, ক্যারিয়ার সমাধান নামে একটি পেইজে ১৫ এপ্রিল এবং একই নামে আরেকটি পেইজে ১৬ ও ১৮ এপ্রিল থেকে চালু হওয়া তিনটি বিজ্ঞাপন মিলিয়ে মোট প্রায় ১৭ ডলার, অর্থাৎ ১,৮৭০ টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে এই ব্যয় আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
EduHub Agency পেইজে ১৫ এপ্রিল থেকে চালু বিজ্ঞাপনে ন্যুনতম ৭ ডলার বা ৭৭০ টাকা খরচ হয়েছে। Education Level Up পেইজে ৪ এপ্রিল থেকে বিজ্ঞাপন চালু থাকায় ব্যয় হয়েছে ন্যুনতম ১৮ ডলার বা ১,৯৮০ টাকা। অন্যদিকে, Honours/Masters Consultancy পেইজে ১৪ এপ্রিল থেকে চালু বিজ্ঞাপনে ন্যুনতম ৮ ডলার বা ৮৮০ টাকা ব্যয় হয়েছে।
Certificate Service পেইজে ১৬ ও ২০ এপ্রিল থেকে চালু হওয়া দুটি বিজ্ঞাপনে ন্যূনতম ৮ ডলার বা ৮৮০ টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া University Point পেইজে ১৫ এপ্রিল থেকে চালু বিজ্ঞাপনে ন্যূনতম ৭ ডলার বা ৭৭০ টাকা এবং Certificeta Zone পেইজে ১১ এপ্রিল থেকে চালু বিজ্ঞাপনে ন্যূনতম ১১ ডলার বা ১,২১০ টাকা খরচ হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ২১ এপ্রিল পর্যন্ত এসব পেইজ থেকে মোট ন্যুনতম ৭৬ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৮,৩৬০ টাকা বিজ্ঞাপনে ব্যয় করা হয়েছে।
মেটা এড পলিসি অনুযায়ী, বিজ্ঞাপনে এমন কোনো পণ্য, সেবা বা অফার প্রচার করা যাবে না, যা প্রতারণা বা ভুল তথ্য দিয়ে মানুষের টাকা বা ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
এছাড়াও কোনো বিজ্ঞাপনদাতা সন্দেহজনক মনে হলে বা প্রতারণার ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়ে বিজ্ঞাপন দিলে, তাকে অতিরিক্ত যাচাইয়ের মুখে পড়তে হতে পারে বলে পলিসিতে উল্লেখ রয়েছে।
কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এসব সার্টিফিকেটের বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে মেটা এড পলিসি লঙ্ঘিত হয়েছে।
৩০ হাজার টাকায় ইউল্যাবের সার্টিফিকেট, দরকষাকষিতে ২০ হাজার!
বিজ্ঞাপন দেখে এসব পেইজের ইনবক্সে প্রার্থী সেজে মেসেজ দেয়া শুরু করে দ্য ডিসেন্ট। এর মধ্যে ক্যারিয়ার সমাধান নামক পেইজটি জানায়, তারা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি এবং গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট দিতে পারবে। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের অনার্স সার্টিফিকেট নিতে কত টাকা লাগবে জানতে চাইলে তারা ৩০ হাজার লাগবে বলে জানান। EduHub Agency জানায়, তারা ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টস (ইউল্যাব), হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় —এই দুই প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেট সরবরাহ করতে পারবে। Honours/Masters Consultancy-ও একই কথা জানায়। এরমধ্যে EduHub Agency-এর সাথে দরকষাকষি করলে ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টস (ইউল্যাব)–এর ইংরেজি বিভাগের অনার্সের সার্টিফিকেট সর্বশেষ ২০ হাজার টাকা লাগবে বলে জানায় তারা।
একই চক্র চালায় কয়েকটি পেইজ
পেইজগুলোর সাথে কথা বলে আমরা বুঝতে পারি, ক্যারিয়ার সমাধান, EduHub Agency, Honours/Masters Consultancy এবং ক্যারিয়ার সমাধান — এই চারটি পেইজ মূলত একই চক্র দ্বারা পরিচালিত। তাদের প্রথম যখন মেসেজ দেওয়া হয় তখন চারটি পেইজ থেকেই একই ধরণের লেখা সম্বলিত অটো-জেনারেটেড রিপ্লাই পাওয়া যায়। যেমন- “আপনি কি অর্ডার কনফার্ম করতে চান ? যদি ১০০% সিওর অর্ডার করতে চান তাহলে আমি আপনাকে হোয়াটস্যাপ নাম্বার দিব ওই হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে আপনার ডকুমেন্টস জমা দিলে আপনার কাজ করে দিবে ইনশাআল্লাহ”---এই মেসেজটি চারটি পেইজ থেকেই রিপ্লাই পাওয়া গেছে। এছাড়া তাদের কাজের প্রক্রিয়া, শর্ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম এবং টাকার পরিমাণের মধ্যেও মিল রয়েছে। এছাড়াও এই চারটি পেইজের সাথে যোগাযোগের জন্য যে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটি দেওয়া হয়েছে সেটিও একই।
অর্ধেক টাকা অনলাইন ভেরিফিকেশনের পর
তারা দাবি করে, কোনো অগ্রিম টাকা নেওয়া হবে না। প্রথমে অনলাইন ভেরিফিকেশন ও স্টুডেন্ট পোর্টাল অ্যাক্সেস তৈরি করে দেওয়া হবে, যা যাচাই করার পর একই দিনে ৫০ শতাংশ টাকা পরিশোধ করতে হবে। বাকি ৫০ শতাংশ কুরিয়ারে হার্ডকপি পাওয়ার পর ক্যাশ অন ডেলিভারির মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে।
তারা আরও জানায়, সার্টিফিকেটের সঙ্গে মার্কশিট, মিডিয়াম অফ ইনস্ট্রাকশন (এমওআই) ও দুটি রিকমেন্ডেশন লেটার দেওয়া হবে এবং এসব নথি নোটারি, বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাটেস্টেশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অ্যাটেস্টেশনসহ সরবরাহ করা হবে।
তাদের দাবি, তাদের দেওয়া সার্টিফিকেটের সঙ্গে অনলাইন ভেরিফিকেশন নিশ্চিত করা হয় এবং এগুলো চাকরি, বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও ভিসার ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য।
ডকুমেন্টস পাঠাতে হয় হোয়াটসঅ্যাপে
তারা অর্ডার নিশ্চিত করতে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার কথা বলে এবং একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর প্রদান করে। নম্বরটি হলো +447403 658996।
তাদের দেওয়া হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করলে তারা এসএসসি/ এইচএসসি/ ডিপ্লোমা এর যেকোনো একটা সার্টিফিকেট অথবা মার্কশীট এর ছবি, এন আই ডি / পাসপোর্ট এর উভয় পাশের ছবি, প্রার্থীর পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও সিগনেচার এর ছবি তুলে পাঠাতে বলে। সে অনুযায়ী একটি ভুয়া এইচএসসি সার্টিফিকেটের ছবি, একটি এআই জেনারেটেড পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও আরেকটি ভুয়া এনআইডি কার্ডের ছবি তাদের পাঠায় দ্য ডিসেন্ট। তারা সেগুলো গ্রহণও করে।
এরপর তারা জানায়, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পরদিন সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ইউল্যাবের স্টুডেন্ট পোর্টালে অনলাইন ভেরিফিকেশন করে দেওয়া হবে। অনলাইনে সবকিছু যাচাই করে সন্তুষ্ট হলে এবং কাজ চালিয়ে যেতে চাইলে একই দিনের দুপুর ২টার মধ্যে অর্ধেক টাকা পরিশোধ করে কনফার্ম করতে বলা হয়।
পরবর্তীতে তারা ইউজারনেম, পাসওয়ার্ড, স্টুডেন্ট আইডি এবং ফল প্রকাশের তারিখ সরবরাহ করে ইউল্যাব পোর্টাল (www.ulabportal.online) নামের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন ভেরিফিকেশন করতে বলে। তাদের মতে, এটি ইউল্যাবের স্টুডেন্ট পোর্টাল। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী লগইন করে তথাকথিত ভেরিফিকেশন করলে দেখা যায়, সেখানে আমাদের সরবরাহ করা নাম অনুযায়ী একটি স্টুডেন্ট প্রোফাইল তৈরি হয়েছে।

ইউল্যাবের ভুয়া স্টুডেন্ট পোর্টালে তথাকথিত অনলাইন ভেরিফিকেশন
তথাকথিত অনলাইন ভেরিফিকেশনের পর তারা একটি বিকাশ নম্বর দেয় শর্তানুযায়ী অর্ধেক টাকা পাঠানোর জন্য৷ নম্বরটি হলো 01326847527। ট্রু কলারে নম্বরটি ‘Ripon Bhai Tangail’ লেখা রয়েছে।
Ulabportal.online নামে ভুয়া স্টুডেন্ট পোর্টাল
তাদের দেয়া ‘ইউল্যাব স্টুডেন্ট পোর্টাল’-এ প্রবেশ করলে দেখা যায়, সেখানে আমাদের সরবরাহ করা নাম অনুযায়ী সিজিপিএ, কোর্সের নাম, প্রতি কোর্সে প্রাপ্ত গ্রেড, রেজাল্ট প্রকাশের তারিখসহ আরো বিভিন্ন তথ্য রয়েছে।

ভুয়া স্টুডেন্ট পোর্টালে দেখানো সিজিপিএ
কিন্তু পোর্টালটি যাচাই করে দেখা যায়, এটি ইউল্যাব অর্থাৎ ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট কোনো ওয়েবসাইট নয়। আরও যাচাইয়ে দেখা যায়, ইউল্যাবের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের ডিজাইন নকল করে এই পোর্টালটি তৈরি করা হয়েছে।
এছাড়া ডোমেইনের তথ্য চেক করে দেখা যায়, পোর্টালটি ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি নিবন্ধিত হয়েছে এবং সর্বশেষ আপডেট করা হয়েছে একই বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি। ডোমেইনটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি।

ভুয়া ওয়েবসাইটটির ডোমেইনের তথ্য
এছাড়াও, তাদের সরবরাহ করা স্টুডেন্ট আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে ইউল্যাবের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে লগইন করতে চাইলে সেখানে ইনভ্যালিড মেসেজ প্রদর্শিত হয়।
এ ব্যাপারে ইউল্যাবের ডেপুটি কন্ট্রোলার অফ এক্সামিনেশন্স ফারুক হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “আমাদের এখানে ভেরিফিকেশন করা হয় দুই মাধ্যমে। এক্সাম অফিসের থ্রুতে ডকুমেন্টগুলো আসে ভেরিফাই করার জন্য অথবা রেজিস্টার অফিসে ইমেইল আসে হার্ড কপি, মানে স্ক্যান কপি আকারে। সেটা আবার আমরা অনলি কন্ট্রোল অফিস থেকে ওই ইমেইলের থ্রুতে আমরা ভেরিফাই করে দেই। মানে দুইভাবে ভেরিফিকেশন হয় ইউল্যাব থেকে। একটা হলো যেটা বললাম স্ক্যান কপি এক্সাম অফিসে অথবা রেজিস্টার অফিসের ইমেইলে আসে, পরে এক্সাম কন্ট্রোল অফিসের ইমেইল থেকে এগুলো ভেরিফাই করে দেয়া হয়। নাম্বার টু হলো হার্ড কপি যারা অফিসে নিয়ে আসে সরাসরি ভিজিট করে, হার্ড কপিতে আমরা সিল দিয়ে ভেরিফাই করে দেই। এই দুইটা ওয়ে-তে একমাত্র আমরা ভেরিফাই করি।”
প্রতারিত হচ্ছেন অনেকেই
এরকম সার্টিফিকেট তৈরি করতে গিয়ে অনলাইনে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অনেকেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী দ্য ডিসেন্টকে বলেন, তারা প্রথমে মিষ্টি কথায় বিশ্বাস অর্জন করে পরে টাকা নিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। তার দাবি, এভাবে তার কাছ থেকে প্রায় ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং পরে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
আরেকজন বলেন, “এদের একেকজনের ২০ টার বেশি আইডি রয়েছে। আপনি নক দিলে দেখবেন অ্যাডভান্স চাইবে তখন এক সময় হতাশ হয়ে অ্যাডভান্সও দিবেন তখন সঙ্গে সঙ্গে ব্লক দেবে। আর কিছু কিছু আছে লাখ টাকা নিয়ে ওয়েবসাইট হ্যাক করে ইডিট করে নাম্বার যুক্ত করে দেয় যা কিছু সময় স্থায়ী হয়। রিয়েল রেজাল্ট থাকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের রেজাল্ট শীটে যা কখনই পরিবর্তন সম্ভব নয়। এসব কাগজ দিয়ে কোনো চাকরিও পাবেন না কখনও।”
তাদের কাছে সার্টিফিকেট কেনার চেষ্টা করেছেন এমন আরেকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অনলাইনে টেম্পোরারি করে দেখাতে পারবে, বা নাম কারেকশন করে। তারপর টাকা দিলেই আর পাওয়া যায় না । কারন তারা শুধু অনলাইন পর্যন্ত এডভান্স ছাড়া করবে, অনলাইন হবার পর পরই টাকা দিতে হবে। যদি তা না হতো, ২ দিন ১০ দিন বা সব ডকুমেন্টেস দিয়ে টাকা চাইতো সব সিকিউরিটি নিয়ে। তাইলে মনে হতো সব রিয়েল।”
তিনি আরো বলেন, “আমি চেক দিতে চাইছি যে, যেইদিন সব কাগজ পাবো, সেইদিন টাকা উঠাইয়া নিবে। কিন্তু না, অনলাইন হবার ৩ ঘন্টার মধ্যেই টাকা দিতে হবে। কয়েকজনের সাথেই কথা বলছি, কেউ সব দেবার পর টাকা নেয়ার পক্ষে না। অনলাইন দেখেই টাকা দিতে হবে ৫০%। অনেকেই দেখছি, টাকা পাবার পর অনলাইন থেকে নাই হয়ে গেছে। তাই আমার সব কাজ শেষ হবার পর টাকা দিবো বলেছি, এখন অব্দি কেউ রাজিই হয় নাই।”