ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মন্দির দখলের চেষ্টায় অভিযুক্ত শহিদ মিয়া জামায়াত নেতা নন
সম্প্রতি ভারত থেকে পরিচালিত এক্সের (সাবেক টুইটার) একাধিক পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল এলাকায় জামায়াত নেতা শহিদ মিয়া ও তার সহযোগীরা ঐতিহাসিক মোহনলাল মন্দির অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করছেন। একই দাবিতে সংবাদ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমও।
দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
তবে দ্য ডিসেন্ট যাচাই করে দেখেছে, মোহনলাল মন্দির অবৈধভাবে দখলের চেষ্টায় অভিযুক্ত শহিদ মিয়া জামায়াত নেতা নন।
একাধিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গতকাল বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের বাদে অরুয়াইল গ্রামে মন্দিরের সম্পত্তি ও খাল উদ্ধারের দাবিতে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দুপুর ২টার দিকে মোহনলাল জিউর মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে শতাধিক নারী-পুরুষের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। তারা দখল হয়ে যাওয়া জায়গায় গিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় স্থানীয় শহিদ মিয়া ও তার লোকজন মিছিলে বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনা সম্পর্কিত কী-ওয়ার্ড সার্চ করে একাধিক সংবাদমাধ্যমে পাওয়া প্রতিবেদনে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা থাকলেও অভিযুক্ত শহিদ মিয়ার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য নেই।
দ্য ডিসেন্ট শহিদ মিয়ার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যাচাইয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, হিন্দু কমিউনিটি নেতাসহ একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলেছে। এতে শহিদ মিয়ার জামায়াতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি।
মোহনলাল জিউর মন্দিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পরেশ ঘোষ দ্য ডিসেন্টকে বলেন, ‘‘ওর ছেলেরা বিএনপি করে। এরা হিন্দু বিদ্বেষী ও সন্ত্রাস টাইপের লোক।’’
অরুয়াইল ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আবু ইসমাইল বলেন, ‘‘সহিদ মিয়া ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন।’’ তবে তার আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততার তথ্য নিশ্চিত হতে পারেনি দ্য ডিসেন্ট।
স্থানীয় ফার্মাসিস্ট আশরাফুল হক নিলয় বলেন, ‘‘সহিদ মিয়াকে জামায়াতের সাথে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কখনও দেখিনি। এমনিতে তার ভাই-ভাতিজারা বিএনপির সাথে সম্পৃক্ত।’’
সুতারাং, মোহনলাল মন্দির অবৈধভাবে দখলের চেষ্টায় অভিযুক্ত শহীদ মিয়া জামায়াত নেতা—এমন দাবি সত্য নয়।