জামায়াত-শিবিরের ওপর হামলাকে ‘বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর শিবিরের হামলা’ বলে প্রচার

Mohammed Raihan
লেখক
মোহাম্মদ রায়হান
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ফেসবুকে হামলার একটি ভিডিও শেয়ার করে এটিকে শরীয়তপুরে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রশিবিরের হামলা বলে দাবি করা হচ্ছে।

কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, দাবিটি সত্য নয়। এটি মূলত বরগুনার পাথরঘাটায়  নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার সময় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনার ভিডিও।

ভিডিওটির কী-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে মূল ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়। মূল ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছিলো গত ৯ ফেব্রুয়ারি MD Razib Akon নামে একটি আইডি থেকে। ভিডিওটির ক্যাপশন ছিলো “দেখুন কিভাবে মনির গু'ন্ডা বাহিনী আজকে পাথরঘাটায় জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীদের উপর স'ন্ত্রা'সী হামলা করেছে। নূরুল ইসলাম মনির ভাগিনা নয়ন।”

নুরুল ইসলাম মনি বরগুনা-২ (বেতাগী–বামনা–পাথরঘাটা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। এছাড়াও ভিডিওটিতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী সুলতান আহমদের একটি নির্বাচনী ব্যানার দেখা যাচ্ছে। সুলতান আহমদ একই আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী।

যদিও হামলাকারীদের পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট কী-ওয়ার্ড সার্চ করে উক্ত ঘটনায় আয়োজিত দুইপক্ষের সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। 

উক্ত হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সুলতান আহমদ এক লিখিত বক্তব্যে বলেন, “গতকাল সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বরগুনা-২ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের উদ্যোগে পাথরঘাটা উপজেলা শহরের কেএম লতিফ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জনসভার আয়োজন করা হয়। জনসভায় ব্যাপক জনসমাগম দেখে বিরোধীপক্ষ ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নুরুল ইসলাম মনি ও তাঁর নেতা–কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন স্থানে সভাগামী সাধারণ জনগণকে বাধা দেয়।”

সুলতান আহমদ অভিযোগ করেন,“পাথরঘাটা পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট—ব্রিজের গোড়া, ফেরিঘাট, বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও সড়ক মোড়ে দলবদ্ধভাবে অবস্থান নিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরু গুরুতর আহত হন। এ সময় দায়িত্ব পালনকালে একাধিক সাংবাদিকও বাধার মুখে পড়েন। হামলাকারীরা একাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে, পাঁচটির বেশি মূল্যবান মোবাইল ছিনিয়ে নেয় এবং নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত ভাড়াকৃত অটোরিকশা ভাঙচুর করে। এসব ঘটনার মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন।”

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে একইদিন আয়োজিত আরেকটি সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল ইসলাম মনি বলেন, “গতকাল পাথরঘাটা উপজেলায় জামায়াতের জনসভায় প্রত্যাশিত লোকসমাগম হয়নি। সেই ব্যর্থতা আড়াল করতেই পাথরঘাটার সাবেক এমপি গোলাম সরোয়ার হিরুর ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। পরে ওই ঘটনার দায় বিএনপির ওপর চাপিয়ে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চলছে।”

অর্থাৎ, শরীয়তপুরে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রশিবিরের হামলার যে দাবি করা হয়েছে সেটি সত্য নয়, এটি বরগুনার পাথরঘাটায়  নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার সময় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনার ভিডিও।