মোবাইল চুরির অভিযোগে আটক ব্যক্তিকে নিজেদের কর্মী দাবি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের

Mohammed Raihan
লেখক
মোহাম্মদ রায়হান
২ আগস্ট, ২০২৬

ফেসবুকে একজন ব্যক্তিকে বিদ্যুতের খুঁটির সাথে বেঁধে রাখার একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, তিনি ছাত্রলীগকর্মী এবং জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ার কারণে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে।

গত ১ আগস্ট নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আল আমিন রহমান তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি পোস্ট করে লেখেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি খাম্বায় একটা করে ছাত্রদল কর্মী এইভাবে বেঁধে রাখার সক্ষমতা ছিলো ছাত্রলীগের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা ছাত্রদলকে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ভাবে মোকাবিলা করছি, তাদের নিয়ে ডাকসু নির্বাচনও করছি। আবার রাজনৈতিক বিরোধীতার কারণে ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিতও ঘোষণা করছি। কিন্তু নড়াইলে ছাত্রদল যেটা করলো, সেটা সবধরনের রাজনৈতিক শিষ্টাচারের উর্ধ্বে। বাংলাদেশের সবগুলো ক্যাম্পাস শি*বি*রের দখলে, একটাতেও নিজেদের আয়ত্বে নিতে পারেনাই। অথচ একজন নিরীহ কর্মিকে পেয়ে তাদের বাহাদুরি দেখাইলো।”

তিনি আরো বলেন,  “ছাত্রলীগের ভুলভ্রান্তি আছে, মানুষ ক্ষমতায় থাকলে ভুলভ্রান্তি করে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু একজন ছাত্রলীগ  একা ম*ব করে এইভাবে নির্যাতন করার মধ্যে কোন বীরত্ব নাই। এখন যারা ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা, বিশেষ করে এমপি মানসুরা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিসান, শাওন, অনিক সহ অনেকেই টিএসসিতে নির্বিবাদে ঘুরাঘুরি করছে, তাদের কেউ একা পেয়ে নির্যাতন করেনাই। ভবিষ্যত কাকে কখন কোথায় নিয়ে যাবে বলা যায়না।”

আল আমিন রহমানের পোস্টটি শেয়ার করেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। যদিও তিনি পোস্টটি পরবর্তীতে সরিয়ে ফেলেন। 

এছাড়াও ছাত্রলীগ সমর্থক আরো কিছু আইডি থেকে ভিডিওটি শেয়ার করে লেখা হয়েছে, “আমার প্রান প্রিয় ভাইটার জন্য অনেক খারাপ লাগলো, কিন্তু কি করার আমার কিছু করার ছিলোনা, যারা এগুলো করেছেন, একটা কথা মাথায় রাখবেন, ক্ষমতা সারাজীবন থাকবেনা, কিন্তু থেকে যাবে এই অত্যাচার গুলো, ইনশাআল্লাহ এই বাংলার মাটিতে একদিন এগুলোর হিসাব হবে।”

দেখুন এখানে এবং  এখানে

কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, দাবিটি সত্য নয়। জয় বাংলা স্লোগান দেওয়া কিংবা ছাত্রলীগ করার কারণে নয় বরং চট্টগ্রামের হাসপাতাল থেকে মোবাইল চুরির অভিযোগে তাকে আটক করে বেঁধে রাখা হয়েছিলো।

ভিডিওতে দেখা যায়, উক্ত ব্যক্তির গলায় একটি প্ল্যাকার্ড ঝুলছে, যেখানে লেখা রয়েছে, “আমি একজন মোবাইল চোর। আমি হাসপাতাল থেকে মোবাইল চুরি করি।”

এছাড়াও লোকটির পেছনের দিকে সার্জিস্কোপ হাসপাতাল নামে একটি হাসপাতালের নাম দেখা যাচ্ছে। গুগল ম্যাপে সার্চ দিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালটির অবস্থান ৫০, কে.বি. ফজলুল কাদের রোড, পাঁচলাইশ, চট্টগ্রাম। 

গুগল ম্যাপ থেকে সার্জিস্কোপ হাসপাতালের পাশে অবস্থিত খায়ের জেনারেল স্টোর নামক একটি দোকানের সাইনবোর্ডে দৃশ্যমান মোবাইল নম্বর থেকে নম্বর সংগ্রহ করে কথা হয় মো. ইদ্রিস নামের একজনের সাথে। তাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি ঘটেছে ১০-১৫দিন আগে। তিনি শুনেছেন, উক্ত ব্যক্তিকে মোবাইল চুরির অভিযোগে বেঁধে রাখা হয়েছিলো। মেডিকেয়ার নামে ওখানে একটা হাসপাতাল আছে সেখানে এই ঘটনাটা ঘটেছে বলে জানান তিনি।

তার কথার সূত্র ধরে মেডিকেয়ার হাসপাতালের রিসিপশনের সাথে যোগাযোগ করে দ্য ডিসেন্ট। সেখানে থাকা রিনা নামের একজন কর্মী বলেন, ‘‘ঘটনাটি ঘটেছিলো ১০-১২ দিন আগে। সকালের দিকে মোবাইল চুরি করার সময় তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে সে দারোয়ানের কাছে মোবাইল চুরির কথা স্বীকার করে। এরপর দুপুরের দিকে হাসপাতালের ম্যানেজমেন্ট আসলে তাকে হাসপাতালের সামনে বেঁধে রাখা হয়।’’

পরবর্তীতে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানান রিনা।