জুলাই শহীদের স্ত্রীকে ছাত্রদল নেতা কর্তৃক ধর্ষণের ভুয়া গল্প প্রচার

Yahya Maruf
লেখক
ইয়াহ্‌ইয়া মারুফ
৩ মার্চ, ২০২৬

Bangladesh Live নামে একটি ফেসবুক পেইজের পোস্টে দাবি করা হয়েছে, "সিলেটে জুলাই শহীদ আবুল কালামের স্ত্রীকে গ'ণ'ধ'র্ষ'ণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।"

ওই পোস্টে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে দাবি করা হয়েছে, "ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২ মার্চ) সিলেট নগরীর বন্দরবাজার এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহীদ আবুল কালামের স্ত্রী নিলিমা বেগম (২৫) স্বামীর মৃ'ত্যু'র পর বন্দরবাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় একাই বসবাস করতেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি একটি সুপারশপে কাজ করতেন। সোমবার সকালে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে নিজেদের ছাত্রদল নেতা পরিচয় দিয়ে তাকে ইফতার সামগ্রী দেওয়ার কথা বলা হয়। নিলিমা বেগম আছরের সময় আসতে বলেন। নির্ধারিত সময়ে তারা বাসায় উপস্থিত হলে ভদ্রতার খাতিরে তিনি তাদের বসতে দেন। পরে তারা বুঝতে পারে বাসায় আর কেউ নেই। এ সময় অভিযুক্তরা তাকে জো’র’পূ’র্ব’ক রাতভর সংঘবদ্ধ ধ'র্ষ'ণ করে বলে অভিযোগ করেন ভু'ক্তভোগী নারী। ঘটনার পর রাত পর্যন্ত তাকে বাসায় আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে ভু'ক্তভোগী নারী সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।"

তবে দ্য ডিসেন্ট এর যাচাইয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে এই গল্পটি ভুয়া।

প্রথমত, ভিকটিমের নাম পরিচয় উল্লেখ করা হলেও ছাত্রদলের কোন নেতা এই অপরাধে জড়িত তার তথ্য দেয়া হয়নি। এবং যেসব সূত্রের বরাতে খবরটি দেয়া হয়েছে সেগুলোর কোনটিরই নাম পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি।

দ্বিতীয়ত, সিলেটের পুলিশের কাছে এরকম কোন ঘটনার তথ্য নেই।

সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাঈনুল জাকির বলেন, "এরকম একটি নিউজ দেখে ওসমানী হাসপাতালের ওসিসি সহ বেশ কয়েক জায়গায় খোঁজ নিয়েছি। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এরকম কোনো ভিকটিমের তথ্য পাওয়া যায় নি। থানায়ও কেউ এরকম অভিযোগ করেননি।"

তৃতীয়ত, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসির দায়িত্বে থাকা পুলিশের এসআই সেলিনা রুবি জানান, "সোমবার (২ মার্চ) থেকে আজ (৩ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নিলিমা বেগম নামের কোনো ভিকটিম ভর্তি হননি।"

চতুর্থত, ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত সরকারি গেজেট অনুযায়ী, ৮৩৪ জন জুলাই শহীদের মধ্যে 'আবুল কালাম' নামের সিলেট অঞ্চলের কোন শহীদের নাম নেই।

পঞ্চমত, দ্য ডিসেন্ট এর প্রতিনিধি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিলেটে অঞ্চলের কয়েকজন নেতার কাছে এই নামে কোন শহীদ আছেন কিনা জানতে চাইলে, তারা জানিয়েছেন এমন কোন শহীদের তথ্য তাদের কাছে নেই।

এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ বলেন, "সিলেট বিভাগের গেজেটভুক্ত জুলাই শহীদ ৩২ জন। সেখানে আবুল কালাম নামে কোনো শহীদ নাই। তাদের নিয়ে নিয়মিত কাজ করেন আমাদের ৫ জন সদস্য। তাদের সঙ্গেও কথা বলছি, তারা জানিয়েছেন, কোনো শহীদের পরিবারের সঙ্গে এরকম ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেনি। এবং তিনি এসএমপির কোতোয়ালী থানার ওসি মহোদয়কে ফোন দিয়ে তড়িৎ ঘটনা সত্যতা যাচাইয়ের অনুরোধ করেন।"