ফেসবুকে ছড়ানো ভুয়া ফটোকার্ডের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে

Mohammed Raihan
লেখক
মোহাম্মদ রায়হান
১৩ জুন, ২০২৬

আজ ১৩ জুন কক্সবাজার সদরের পিএমখালীতে ‘পাতলী খাল পুনঃখনন’ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন ও সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, “যে বাজেটের মাধ্যমে জনগণের জন্য স্বস্তির ব্যবস্থা করছে সরকার, সেই বাজেট বলে বিরোধী দল মানে না। তারা দাবি তুলেছে কেন মদের উপরে আমরা ট্যাক্স বাড়ালাম। তারা দাবি তুলেছে কেন আমরা সিগারেটের উপরে ট্যাক্স বাড়ালাম। এই তাদের দুঃখ।”

বিএনপির অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রধানমন্ত্রীর পুরো বক্তব্যটি প্রকাশ করা হয়েছে।  এখানে

একই বক্তব্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রচারিত হয়েছে। দেখুনঃ স্টার নিউজ, ইত্তেফাক, কালের কন্ঠ, ৭১ টিভিএনটিভি, সময় নিউজ। 

যদিও দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে বাজেটে মদ, সিগারেট বা তামাকজাত দ্রব্যের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বিরোধী দল কোনো বক্তব্য দিয়েছে—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিরোধী দলগুলোর অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট এবং সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন খুঁজেও এ ধরনের কোনো বক্তব্য মেলেনি।

তবে ফেসবুকে ছড়ানো একটি ভুয়া ফটোকার্ডের বার্তার সাথে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মিল পাওয়া গেছে।

ফেসবুকে সংশ্লিষ্ট কী-ওয়ার্ড দিয়ে অনুসন্ধান করে দৈনিক কালের কণ্ঠের আদলে তৈরি সম্প্রতি ছড়ানো একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়। সেখানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি মিছিলের ছবি ব্যবহার করে দাবি করা হয়, “বাজেটে বিড়ি, সিগারেট, মদ, গাঁজা ও তামাকজাত দ্রব্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল।”

ফটোকার্ডটি সম্বলিত পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে

এই ফটোকার্ডটি ভুয়া। কালের কণ্ঠ এমন কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটে এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে খুঁজেও এমন কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

ফেসবুকে ছড়ানো ভুয়া ফটোকার্ডটিতে তারিখ হিসেবে ১১ জুন উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু কালের কণ্ঠের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে ১১ জুন তারিখে উক্ত শিরোনামে কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে ১১ জুন প্রকাশিত আরেকটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায় যেটির শিরোনাম “প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল”। 

এছাড়া ভাইরাল ফটোকার্ডে দৃশ্যমান মিছিলের ব্যানারে লেখা রয়েছে “বাজেটে বিড়ি, সিগারেট, মদ, গাঁজা ও তামাকজাত দ্রব্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল”। 

কিন্তু জামায়াতের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ ও ইউটিউব চ্যানেল এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ওই মিছিলের ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, ব্যানারে প্রকৃতপক্ষে লেখা ছিলো “গনবিরোধী ও লুটপাটের বাজেটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল”।

দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে

ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা রিউমার স্ক্যানারও ১২ জুন এই ফটোকার্ডটিকে ভুয়া হিসেবে শনাক্ত করেছে। দেখুন এখানে

এর বাইরে বাজেট নিয়ে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অফিশিয়াল ফেসবুক পেজেও মদ, সিগারেট, বিড়ি, গাঁজা বা তামাকজাত দ্রব্যের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কী-ওয়ার্ড দিয়ে সংবাদমাধ্যমে অনুসন্ধান করেও এমন কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

জামায়াতে ইসলামী প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে “অবাস্তবায়নযোগ্য, উচ্চাভিলাষী ও লুটপাটের সহায়ক” বলে আখ্যা দিয়েছে। 

দলটির দাবি, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জনবান্ধব, সুপরিকল্পিত ও বাস্তবায়নযোগ্য বাজেটের পরিবর্তে সরকার ঋণনির্ভর ও বাস্তবতা-বিবর্জিত একটি বাজেট দিয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত দুর্নীতি ও লুটপাটকে উৎসাহিত করবে।