টিআইবির বরাতে ভুয়া তথ্য ছড়াতে একজোট হাসিনাপুত্র জয় ও কয়েকটি মিডিয়া

The Dissent Desk
লেখক
দ্য ডিসেন্ট ডেস্ক
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও হাসিনার সাবেক ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারির ফেসবুক পোস্টে এবং বিডিনিউজ, দৈনিক ইত্তেফাক ও নাগরিক টিভিসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বরাতে একযোগে একটি ভুয়া খবর ছড়ানো হয়েছে।

বিডিনিউজ তাদের এক প্রতিবেদনে আজ সোমবার অনুষ্ঠিত টিআইবির এক সংবাদ সম্মেলনের বরাতে লিখেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনেজাল ভোট পড়েছে ২১ দশমিক শতাংশ

দৈনিক ইত্তেফাক এক ভিডিও প্রতিবেদনের ক্যাপশনে লিখেছে, “জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭০টি আসনে ২১. শতাংশ জালভোট পড়েছে: টিআইবি

নাগরিক টিভি ”নির্বাচনে জাল ভোট পড়েছে ২১.৪ শতাংশ:টিআইবি” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

কাছাকাছি সময়ে শেখ হাসিনার সাবেক ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি ফেসবুক পোস্টে একই দাবি করেছেন। তিনি লিখেছেন, "ইউনুসের বিশ্বের সেরা নির্বাচনে ভোট পরেছে ২৪.৬৪ শতাংশ। এটা আমাদের কথা না, টিআইবি এই রিপোর্ট দিয়েছে। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ীনির্বাচনে জালভোট দেয়া হয় ২১. শতাংশ, এবং ভোটের আগেই বক্সে সিলমারা ব‍্যালট ভরে রাখা হয়েছে ১৩. শতাংশ। অর্থাৎ ৩৪. শতাংশই ভুয়া ভোট।

কিন্তু ইউনুসের নির্বাচন কমিশন দেখিয়েছে ৫৯.৪৪ শতাংশ। প্রকৃতপক্ষে ভোট দিয়েছে ৫৯.৪৪৩৪. = ২৪.৬৪ শতাংশ।"

তার কিছুক্ষণ পর হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “টিআইবির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, জাল ভোট পড়েছে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ ও প্রতিপক্ষের এজেন্টকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে ১৪.৩ শতাংশ।

According to observations by Transparency International Bangladesh (TIB), fake votes were cast in 21.4 percent of cases, and in 14.3 percent of centers, opposition polling agents were obstructed from entering.”

আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করেছে।

তবে টিআইবি সংবাদমাধ্যমগুলোর এবং হাসিনার সাবেক কর্মকর্তার ছড়ানো খবরটিকে অসত্য হিসেবে চিহ্নিত করে বিবৃতি দিয়েছে।

টিআইবির ওয়েবসাইটে আজ "নির্বাচনে জাল ভোট পড়া নিয়ে টিআইবির নামে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, সতর্ক থাকার আহ্বান" শিরোনামে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাল ভোট পড়া নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)- কে উদ্ধৃত করে ভুল অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণশীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্যকে ভুলভাবে প্রচার প্রকাশ করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। বিষয়ে গণমাধ্যমকে অতিদ্রুত ভুল সংশোধনসহ বিভ্রান্তি প্রতিরোধে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

গণমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টিআইবির মাঠপর্যায়ের গবেষণার জন্য দৈবচয়ন পদ্ধতিতে নমুনাভিত্তিকভাবে নির্বাচিত ৭০টি আসনের মধ্যে ২১. শতাংশ আসনে এক বা একাধিক জালভোট প্রদানের ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। তথ্যকে পুরো নির্বাচনে ২১. শতাংশ জালভোট পড়েছে- এমনভাবে ব্যাখ্যা করা সম্পূর্ণ ভুল, ভিত্তিহীন অমূলক।

প্রেক্ষিতে যে সব গণমাধ্যম ইতোমধ্যে এই তথ্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করেছে, তাদের যথাযথ সংশোধনী প্রকাশের জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। অন্যথায়, ধরনের বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে বিবেচনা করা হবে।"

দ্য ডিসেন্ট এর যাচাইয়েও দেখা গেছে টিআইবিরত্রয়াদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণরিপোর্ট এর তথ্যকে বিভ্রান্তকরভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

টিআইবি ১৬ ফেব্রুয়ারিত্রয়াদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণনামক তাদের গবেষণা রিপোর্টটি প্রকাশ করে।

সেখানে বলা হয়, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ট্র্যাকিং-এর উদ্দেশ্যে মোট ৩০০টি সংসদীয় আসন থেকে প্রতিনিধিত্বশীলন নমুনায়ন পদ্ধতি ব্যবহার করে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৭০টি আসন নমুনা হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।

উক্ত রিপোর্টেনির্বাচনের দিন সংঘটিত অনিয়মপ্রসঙ্গে বলা হয়, “গবেষণায় অন্তর্ভূক্ত ৪০ শতাংশ আসনে একাধিক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।

এছাড়া জালভোট প্রসঙ্গে ২১. শতাংশ আসনে জালভোট পড়ার অভিযোগ পড়েছে বলে দেখানো হয়।

প্রসঙ্গে টিআইবি এর আউটরিচ এন্ড কমিউনিকেশন ডিরেক্টর মোহাম্মদ তোহিদুল ইসলাম বলেন, “২১. শতাংশ জাল ভোট পড়েছে এমন তথ্য টিআইবি এর প্রতিবেদনে বলা হয় নি। মূলত ৭০ টি আসনে নির্বাচনী পর্যবেক্ষণের পর বলা হয়েছে যে, ২১. শতাংশ আসনে জাল ভোট পড়ার ঘটনা পাওয়া গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, “আমাদের পর্যবেক্ষণকৃত ৭০টি আসনের মধ্যে ২১ শতাংশ আসনের মধ্যে 'এক-একাধিক' জাল ভোট পড়ার ঘটনা পরিলক্ষিত হয়েছে।

অর্থাৎ, জরিপ করা ৭০টি আসনের মধ্যে ২১ শতাংশ আসনে এক বা একাধিকটি জাল ভোট পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এর অর্থ এটি নয় যে, জাতীয় নির্বাচনে বা জরিপ পরিচালনা করা ৭০টি আসনে মোট ভোটের ২১ শতাংশ জাল ভোট পড়েছে।