এআই ভিডিও ছড়িয়ে বাংলাদেশে ‘হিন্দু হত্যা’ দেখাচ্ছে ভারতীয়রা

The Dissent Desk
লেখক
দ্য ডিসেন্ট ডেস্ক
২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

ময়মনসিংহ জেলার ভালুকায় গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক পোশাকশ্রমিককে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলে দলবদ্ধভাবে পিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে এবং ইতোমধ্যে জড়িত একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।

দীপু চন্দ্র দাসকে হত্যার পর বাংলাদেশ, ভারত, নেপালসহ বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ হয় এবং ভারত সরকার ঘটনার প্রতিবাদ জানায়।

এই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি একটি ভিডিও ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি একটি রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন, যেখানে আশপাশের কয়েকটি দোকানে আগুন জ্বলছে। তিনি বলছেন
আমি বাংলাদেশে আছি। এখন রাত।দীপু চাদার’-এর মতো আমাদেরও মেরে ফেলবে। এখানে কী হচ্ছে, আপনি দেখতে পাচ্ছেন। দয়া করে এই ভিডিওটি যত বেশি সম্ভব শেয়ার করুন, যাতে কেউ আমাদের বাঁচাতে পারে। আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। হঠাৎ করে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে গেছে।

দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে:


একজন এক্স ব্যবহারকারী ভিডিওটি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন, “বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

এছাড়া, কেউ কেউ দাবি করেছেন যে ভিডিওটি ২৩ ডিসেম্বর ধারণ করা হয়েছে।

ভারতের সুদর্শন নিউজের সাংবাদিক সাগর কুমারও ভিডিওটি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন,“বাংলাদেশে প্রতিদিন হিন্দুরা মারা যাচ্ছে। বাংলাদেশে হিন্দুরা বলছে, ‘আমাদের কে বাঁচাবে?’ নরেন্দ্র মোদি জি, দয়া করে তাদের বাঁচান।

অনেক মানুষই এই ভিডিওটিকে আসল বলে বিশ্বাস করছেন। একজন এক্স ব্যবহারকারী এভাবে সাহায্যের জন্য আকুতি করার বদলেমারো না হলে মরো”—এই নীতি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।

দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা যায়, আলোচিত ভিডিওটি সত্য নয়; বরং এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি।

ভিডিওটিতে একাধিক অসংগতি রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ওই ব্যক্তি দীপু চন্দ্রের নাম ভুলভাবেদীপু চাদারউচ্চারণ করেছেন।

এছাড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বিদ্যুতের খুঁটির মাঝখান থেকে কোনো দৃশ্যমান আলোর উৎস ছাড়াই আলো নির্গত হচ্ছে। একই সঙ্গে একটি গাড়িও চোখে পড়ে, যার দরজার রঙ গাড়ির বাকি অংশের রঙের সঙ্গে মিলছে না। ভিডিওতে একটি খুঁটির ওপর উত্তোলিত বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাও দেখা যায়। কিন্তু ব্যক্তি যখন সেটির পাশ দিয়ে হাঁটেন, তখন ওই খুঁটির একটি অংশের রঙ হঠাৎ সাদা হয়ে যেতে দেখা যায়।

এছাড়াও, এআই ভিডিও শনাক্তকারী টুল DeepFake-O-Meter–এর একাধিক মডেল ভিডিওটিকে এআই হিসেবে শনাক্ত করেছে।

ভিডিওটি যেভাবে এলো

ভিডিওটির কয়েকটি কী–ফ্রেম রিভার্স সার্চ করে দেখা যায়, এটি প্রথমে ২৪ ডিসেম্বর ইনস্টাগ্রামে কুলদীপ মীনা নামের এক ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছিল।

এ ভিডিওর সঙ্গে অ্যাকাউন্টে থাকা কুলদীপের নিজের ছবির তুলনা করলে স্পষ্ট হয়, তিনি নিজেই নিজের ছবি ব্যবহার করে এই এআই ভিডিও তৈরি করেছেন। এছাড়াও, কুলদীপ বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতনের দৃশ্য দাবি করে এমন বহু এআই ভিডিও শেয়ার করেছেন।

অর্থাৎ, বাংলাদেশে হিন্দু হত্যার দাবিতে যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে, সেটি সত্য নয়।