হবিগঞ্জে নারীকে এসিড নিক্ষেপকারী ব্যক্তি বিএনপি নেতা রিদয় নন
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, ‘‘প্রবাসীর স্ত্ৰী কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়াতে এসিড নিক্ষেপ করলেন হবিগঞ্জ জেলা বিএনপি নেতা রিদয়!’’
অন্য পোস্টে ‘‘রিয়াজুল ইসলাম রিদয়’’ নাম উল্লেখ করে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বলে পরিচয় দেওয়া হয়েছে।
দেখুন এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে
দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, হবিগঞ্জে নারীকে এসিড নিক্ষেপের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি বিএনপি বা ছাত্রদলে সম্পৃক্ত নন। বরং তালাক দেওয়ার ক্ষোভে ভূক্তভোগী নারীর সাবেক স্বামী এসিড নিক্ষেপ করেছে। তাছাড়া এসিড নিক্ষেপকারীর নাম রিদয় নয়। তার নাম উজ্জল মিয়া।
ভিডিওটির রিভার্স ইমেজ ও প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে যমুনা টিভির ইউটিউব চ্যানেলে ‘হবিগঞ্জে নারী শ্রমিকের মুখে এসিড নিক্ষেপের অভিযোগ’ শিরোনামে গত ৫ জুন প্রকাশিত প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। সেই প্রতিবেদনের সঙ্গে ভাইরাল হওয়া ফুটেজগুলো মিল পাওয়া গেছে।
এছাড়াও মূলধারার একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কোথাও তার রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘‘হবিগঞ্জে রুবিনা আক্তার (২৫) নামে একটি কোম্পানীর শ্রমিকের মুখ মন্ডল এসিডে ঝলসে দিয়েছে সাবেক স্বামী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা জাতীয় বার্ণ ইনস্টিটিউটে প্রেরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।’’
‘‘পুলিশ জানায়, হবিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের উজ্জল মিয়ার (২৮) সঙ্গে গত দুই বছর আগে বিয়ে হয় রুবিনার সঙ্গে। এক পর্যায়ে তাদের মাঝে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হলে ৬ মাস আগে উজ্জলকে তালাক দেন রুবিনা। তাদের দুই সন্তান বর্তমানে উজ্জল মিয়ার কাছে রয়েছে। এরপরও উজ্জল তার পিছু ছাড়েনি। বিভিন্ন সময়ে রাস্তাঘাটে আসা যাওয়ার পথে এবং তার কর্মস্থলে গিয়েও রুবিনাকে উত্যক্ত করতো উজ্জল।’’
‘‘পুলিশ আরও জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে রুবিনা কোম্পানি থেকে কাজ শেষে বাড়ি আসার পথে বহুলায় বাড়ির পাশে পৌছলে পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা উজ্জল তার মুখে এসিড নিক্ষেপ করেন। তখন রুবিনা চিৎকার শুরু করলে লোকজন এগিয়ে এলে উজ্জল পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা বার্ণ ইনস্টিটিউটে প্রেরণ করা হয়।’’
এদিকে গত ০২ মে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের কমিটির তালিকা থেকে জানা যায়, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একমাত্র সাংগঠনিক সম্পাদকের নাম গোলাম মাহবুব।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্য ডিসেন্ট। তিনি বলেন, ‘‘যে এসিড মেরেছিল তার নাম উজ্জল মিয়া বলেই আমরা জানি। অন্য কোনো নাম এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আমরা পাইনি। উজ্জল মূলত রিকশা চালায়।’’
সুতরাং, হবিগঞ্জ জেলা বিএনপি নেতা বা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এক নারীকে এসিড নিক্ষেপের দাবিটি সঠিক নয়। বরং এটি ওই নারীর সাবেক স্বামী কর্তৃক এসিড নিক্ষেপের ঘটনা।