সালমান মুক্তাদিরের নামে ভুয়া ফটোকার্ড ছড়ালেন বিতর্কিত ছদ্মলেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদ

Mohammed Raihan
লেখক
মোহাম্মদ রায়হান
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

“আধুনিক গরুর রচনা সমগ্র” নামক বইয়ের ছদ্মলেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদ গত ২৭ সেপ্টেম্বর তার ফেসবুক একাউন্টে একটি ফটোকার্ড প্রচার করেন।  ফটোকার্ডটিতে লেখা রয়েছে, “জিজ্ঞাসাবাদে সালমান মুক্তাদির: বিএনপি চাঁদা না পেয়ে ভাঙচুর করেছে, এটা ভুলে বলে ফেলেছি”। 

ফটোকার্ডটিতে “The Document” নামে একটি কথিত সংবাদমাধ্যমের নাম দেখা যায়। কিন্তু সার্চ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা ইন্টারনেটে এই নামের কোনো সংবাদমাধ্যমের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফেসবুকে এই নামে একটি পেইজ খুঁজে পাওয়া যায় কিন্তু সেখানেও এধরনের বক্তব্য সম্বলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি।  উল্লেখ্য, মহিউদ্দিন মোহাম্মদ এর আগেও একাধিকবার বিভিন্ন অস্তিত্বহীন কথিত সংবাদমাধ্যমের নাম ব্যবহার করে অসত্য তথ্য ছড়িয়েছেন। 

সালমান মুক্তাদিরকে নিয়ে ফটোকার্ডটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও, ২৮ সেপ্টেম্বর সময় টিভির একটি টকশোতে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিক ও বিশ্লেষক সাহেদ আলম এই ফটোকার্ডটি দেখিয়ে দাবি করেন, “সালমান মুক্তাদির বলছে, বিএনপি চাঁদা না পেয়ে ভাঙচুর করেছে এটা ভুলে বলে ফেলেছি।”

তবে, দ্য ডিসেন্টের যাচাই এ দেখা যায়, প্রচারিত উক্তিটি অসত্য। সালমান মুক্তাদির এমন কোনো মন্তব্য করেননি। 

সালমান মুক্তাদিরের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ, ঘটনার পর প্রকাশিত তার ভিডিও বক্তব্য এবং অন্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতেও তার এমন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, শনিবার রাতে ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেসময় মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে মি. মুক্তাদিরের স্টুডিও এবং ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। 

ঘটনার পর রাতেই ফেসবুলে এক লাইভ ভিডিওতে সালমান মুক্তাদির হামলা ও লুটপাটের জন্য বিএনপির কর্মীদের দায়ী করেন এবং বিএনপিকে চাঁদাবাজ দল বলে মন্তব্য করেন।

সালমান মুক্তাদির ভিডিওতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "ভিডিওটা শুধু খুবই স্পেশালি বানানো আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ - উনার জন্য। আপনি প্লিজ কোনো টেনশন নিবেন না, দিস ইজ নরমাল ইন বাংলাদেশ"।

এরপর রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে সালমান মুক্তাদির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “দেখেন, এই দেশের ক্ষমতাধীন সরকার এখন কে? বিএনপি। সেই সরকারের সাথে এখন যিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, যাঁদের ফুল সিকিউরিটি এনশিওর করার কথা, যারা বলছে যে ইলেকশনের পরে সবকিছু নরমাল হয়ে যাবে, এই দায়িত্ব কার নেওয়ার কথা? আপনার। সো বিএনপির আন্ডারে, এই সরকারের আন্ডারে আপনার সালাউদ্দিন আহমেদ, যখন আপনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনার আন্ডারে যখন এই ধরনের কিছু হয়, আপনি ধরতে পারছেন যে কালকে পালায়ে যেতে পারেন নাই, তিনজনকে ধরা হয়ে গেছে, তাদের বন্দুক যেখান থেকে ফায়ার করা হয়েছে সেটার আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে, তাদের চাপাতি, কোড়াল সব সংগ্রহ করা হয়েছে, তাদের ফোনের ভিডিও আমি দেখলাম, তাদের চেহারা আমি দেখলাম, তারা স্বীকার করতেছে মানুষের কাছ থেকে মাইর খাওয়ার পর, মানুষের মুখে শুনতেছি তারা বিএনপির নাম নিয়ে নিছে।”

সালমান বলেন, “সবকিছুর পর আমি বলতেই পারব না যে বিএনপি সরকারের আমলে, ওরা স্বীকার করতেছে, মানুষের থেকে শুনতেছি, মারামারি হচ্ছে। আমার স্যানিটি বজায় রাখতে হবে, কম্পোজার বজায় রাখতে হবে, এরপর আমার স্পিচ ঠিক রাখতে হবে। আমি বিএনপিকে কোনো কথা বলতে পারব না, আঙুল তুলতে পারব না। আমি খুবই কনফিউজড! আপনি কি বিএনপির পিয়ার ম্যানেজমেন্ট ক্রাইসিসের দায়িত্ব নিয়েছেন নাকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন? এখানে আমি খুবই কনফিউজড। বিকজ দ্য প্রবলেম ওয়াজ দ্য সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি। রিগার্ডলেস, এখানে কি ভূমি দখল ছিল? চাঁদাবাজি ছিল? বিএনপির লোক ছিল? আওয়ামী লীগের লোক ছিল? ওই দখল যে করছে তার লোক ছিল? যাকে দখল করা হচ্ছে তার লোক ছিল? আই অ্যাম নট সাপোজ টু টেক কেয়ার অফ দিস, নোবডি ইজ সাপোজ টু টেক কেয়ার অফ দিস।”

বিতর্কিত ছদ্মলেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদ  এর আগেও একাধিকবার অসত্য তথ্য ছড়িয়েছেন।  গত ১১ সেপ্টেম্বর তিনি একটি ফটোকার্ড শেয়ার করেন। ফটোকার্ডে লেখা ছিল, ‘‘১ বছরে চট্টগ্রাম বিভাগে নতুন এইডস রোগী ৪৬৮ জনের ৩৭৪ জনই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী। বিয়ে ভেঙে যাচ্ছে অনেকের।’’

কিন্তু দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা যায়, মহিউদ্দিন মোহাম্মদের দাবিটি অসত্য।

এছাড়াও গত ১৪ জুন অক্সফোর্ড ইউনিয়ন “ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থান এবং বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ” শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনার আয়োজন করে। সেখানে বক্তা হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম, কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সহ অন্যরা প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। 

এই অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে উক্ত অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয়েছিল, এনসিপি এবং জামায়াত-শিবিরের লোকজন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলরুম ভাড়া নিয়ে নিজেরাই ওই অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। 

তবে দ্য ডিসেন্ট যাচাই করে দেখেছে, উক্ত অনুষ্ঠানটি অক্সফোর্ড ইউনিয়নই আয়োজন করেছিল। সেক্ষেত্রে তারা অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটির সহযোগিতা নিয়েছিল।