ভারতে মুসলিমদের বাড়িঘর ভাঙচুরের দৃশ্য বলে ছড়াচ্ছে নেপালের ভিডিও
ফেসবুকে একটি ঘর ভাঙচুরের ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হয়েছে, এটি ভারতে উগ্রবাদী হিন্দু কর্তৃক মুসলিমদের বাড়িঘর ভাঙচুরের দৃশ্য।
এরকম দাবি সম্বলিত পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, দাবিটি সত্য নয়। এটি নেপালে বনবিভাগ কর্তৃক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের দৃশ্য।
ভিডিওটির কী-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে “nonextquestion” নামে একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওর সাথে উক্ত ভিডিওটির মিল খুঁজে পাওয়া যায়। গত ১৫ জুন পোস্ট করা ওই ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়েছে, “কাইলালি বিভাগীয় বন কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তাকে গোদাবরী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কয়েকটি বাড়ির ছাদে পাথর ছুড়তে দেখা গেছে—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি বড় বড় পাথর ছুড়ে বাড়িগুলোর টিনের ছাদে আঘাত করছেন। এতে বাড়িগুলো ক্ষতিগ্রস্ত বা ভেঙে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
“khabarchowk.np” নামক আরেকটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকেও একই ক্যাপশনে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। এছাড়াও গত ১৬ জুন নেপালি “NTV WORLD” নামে নেপালি সংবাদমাধ্যমের ফেসবুক পেইজে “কাইলালিতে বনভূমি দখল উচ্ছেদ অভিযান: গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো কয়েক ডজন অবৈধ স্থাপনা” শিরোনামে পোস্ট করা একটি ভিডিওর ১৫ সেকেন্ড থেকে উক্ত ভিডিওর ঘটনাটির মিল পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, ভিডিওটি নেপালের বনবিভাগ কর্তৃক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের, উগ্রবাদী হিন্দু কর্তৃক ভারতে মুসলিমদের বাড়িঘর ভাঙচুরের দৃশ্য নয়।
তবে ভারতে মুসলিমদের লক্ষ্য করে সহিংসতা ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অফ সিভিল রাইটস বা এপিসিআর গত ৯ মে এক প্রতিবেদনে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, সম্পত্তিতে হামলা এবং ভীতি প্রদর্শনের ৩৪টি ঘটনা তুলে ধরে।
প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণ করে দ্য ডিসেন্ট দেখেছে, এসব ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুসলিমদের ঘরবাড়ি—যার সংখ্যা ১৭টি। এরপর রয়েছে ধর্মীয় উপাসনালয় বা মসজিদ, যার সংখ্যা ১০টি। পাশাপাশি মুসলিম মালিকানাধীন ৮টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও হামলার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।
যদিও এসব হামলার বেশিরভাগই নির্দিষ্টভাবে মুসলিমদের লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে, তবে অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষও এর শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় এবং দলটির নেতাকর্মীদের বাড়িঘরেও হামলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।