ইতালিতে বাঁধনকে উগ্রপন্থী সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদ ও ৩ মামলার মিথ্যা দাবি ছড়াচ্ছেন আওয়ামীপন্থীরা

Roby Hossain
লেখক
রবি হোসাইন
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ফেসবুকে আওয়ামীপন্থী একাধিক একাউন্ট থেকে  ইতালির প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম ‘Corriere della Sera’ এর আদলে তৈরি একটি পত্রিকার পৃষ্ঠার ছবি ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগের অভিযোগে বাংলাদেশি অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে ইতালীয় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। 

অন্যদিকে, 'Kazi Mamun' নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করে দাবি করা হয়েছে, "জ/ঙ্গি বাঁধনের বিরুদ্ধে ইতালীতে ৩টি মামলা।" ওই পোস্টের কমেন্টে কাজী মামুন লিখেছেন “ওর সাথে নতুন আল কা/য়েদার কী সম্পর্ক, ইউরোপে জ/ঙ্গিবাদ ছড়াতেই গেছে কিনা এসব বিষয়ে এখন খতিয়ে দেখা হবে”

দেখুন এখানে এবং এখানে

দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা যায়, বাঁধনকে উগ্রপন্থী সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার বিরুদ্ধে ৩টি মামলা হওয়ার দাবি দুটি ভুয়া। ‘Corriere della Sera’ পত্রিকার নামে প্রচারিত ছবিটি সম্পাদিত।

বাস্তবে বাঁধনের বিরুদ্ধে ইতালিতে কোনো মামলা হয়নি। এবং বাঁধনকে উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বাঁধন নিজেই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

তার ওপর হামলার ঘটনায় হামলাকারীদের শনাক্ত করতে তদন্ত করছে ইতালীয় পুলিশ। 

ভাইরাল হওয়া সংবাদপত্রের ছবিতে দেখানো কথিত প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়েছে, “La polizia italiana interroga Azmeri Haque Badhon” (ইতালীয় পুলিশ আজমেরী হক বাঁধনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে)।  

ছবিটিতে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। কথিত ওই প্রতিবেদনের মূল লেখায় ‘seopettate’, ‘radicall’, ‘M momento’, ‘sull'ssito’ ও ‘conerete’ এর মতো একাধিক বানান ও টাইপোগ্রাফিক ভুল রয়েছে। 

বাস্তবে ৮ সেপ্টেম্বর ‘Corriere della Sera’ বা এর আঞ্চলিক সংস্করণ ‘Corriere del Veneto’ তে প্রকাশিত প্রকৃত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল “Azmeri Haque Badhon, the Bangladeshi actress and women's rights activist, was attacked in Mestre by her fellow countrymen: "I was with my nephew; they could have killed me.

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাঁধনের ওপর হামলার সময় হামলাকারীরা তাকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ বলে উল্লেখ করে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতালির পুলিশের বিশেষ শাখা তদন্ত করছে 

৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিডিনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাঁধন পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। বাংলাদেশি দূতাবাস ও কনস্যুলেট তাকে আইনি সহায়তা দিচ্ছে বলেও ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়।

অর্থাৎ, বাঁধনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি; বরং তিনিই ভুক্তভোগী হিসেবে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

প্রসঙ্গত, ইতালির ভেনিসে আজমেরী হক বাঁধন তার ভাইয়ের ফ্যামিলির সাথে পার্কে হাঁটতে গেলে বাংলাদেশ সময় গত সোমবার দিবাগত রাত ১টায় তাকে হেনস্তা ও মারধর করেছেন ইতালিতে থাকা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মারধরের সময় তাকে জুলাই জঙ্গি আখ্যা দিয়ে  উদযাপনও করতে দেখা গেছে দলটির পলাতক নেতাকর্মীদের।