আবারও ভুয়া খবর ছড়িয়ে পোস্ট ডিলিট করলেন সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর
যুক্তরাজ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক বাংলাদেশী প্রবাসী অ্যাক্টিভিস্টকে ১৯৭১ সালে বুদ্ধিজীবী হত্যায় অভিযুক্ত চৌধুরী মুঈনুদ্দীন হিসেবে প্রচার করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর।
পোস্টটি পরবর্তীতে একদফা এডিট করে ডিলেট করে দেন। যদিও এ নিয়ে তার টাইমলাইনে কোনো ব্যাখ্যা দেননি এই সিনিয়র সাংবাদিক। এর আগেও তিনি এমন ভুয়া খবর ছড়িয়ে ডিলিট করেছিলেন।
গতকাল (১৬ জুন) এক পোস্টে তিনি লিখেন, ‘‘যাহা এনসিপি তাহাই জামাত। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে লন্ডনেও 'এনসিপি অ্যালায়েন্স ইউকে' যেন তারই প্রমাণ রাখলো। হাসনাত আবদুল্লাহর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারা বুদ্ধিজীবী হত্যার জন্য কুখ্যাত এবং যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চৌধুরী মুঈনুদ্দীনকে হাজির করেছে।’’
পরবর্তীতে পোস্টটি আর তার টাইমলাইনে পাওয়া যায়নি।
আনিস আলমগীর ছাড়াও প্রবাসী অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরও ওই ব্যক্তিকে ‘বুদ্ধিজীবী হত্যার অন্যতম কুশীলব’ বলে প্রচার করেন। তিনিও কোনো ব্যাখ্যা ছাড়া পোস্টটি সরিয়ে ফেলেন।
জুলকারনাইন সায়ের লিখেছিলেন, ‘‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ- ১৯৭১ এ শহীদদের আত্মত্যাগ ও লাখো মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে পাওয়া জন্মভূমি বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের পথে অন্তরায় এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার অন্যতম কুশীলবকে যারা তাদের রাজনৈতিক গণসংযোগের অতিথি হিসেবে গ্রহণ করে এবং প্রথম সারিতে বসার সুযোগ করে দেয়, তাদের প্রতি একরাশ ঘৃণা ও ধিক্কার।’’

জুলকারনাইন সায়ের পোস্ট ডিলিট করলেও সায়েরকে উৎস হিসেবে উল্লেখ করে একই পোস্ট আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি ও পেইজ থেকে পোস্ট করা হয়েছে।
দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এবং এখানে।
জুলকারনাইন সায়ের পোস্টটি ডিলেট করলেও গুগলে সায়ের এর পোস্টটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়।
এছাড়াও একাধিক সাংবাদিক, আওয়ামীপন্থী একাউন্ট থেকে ওই ব্যক্তিকে যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চৌধুরী মুঈনুদ্দীন বলে প্রচার করা হয়েছে।
কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।

ছবির ব্যক্তি কে?
দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, ওই অনুষ্ঠানে থাকা ব্যক্তির নাম ব্যারিস্টার আতাউর রহমান। তিনি একজন প্রবাসী কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট। এছাড়াও তিনি রিফর্ম বাংলাদেশ নামক একটি প্ল্যাটফর্মের সভাপতি এবং গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল, ইউকের সাবেক চেয়ারম্যান।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার আতাউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি দ্য ডিসেন্টকে বলেন, ‘‘আমি তো আমি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছি। এখানে অভিবাসীদের আইনি সেবা দিয়ে আসছি এবং সিলেটের মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করছি। আমি কীভাবে মইনুদ্দীন হবো! আমি মূলত হাসনাত আবদুল্লাহকে নিয়ে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলাম, সিলেট-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করার জন্য।’’
‘‘আমার রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড বামধারার। আমি সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) শাখার আহ্বায়কও ছিলাম। এখন দাঁড়ি আছে মুখে, নামাজ পড়ি বলে অনেকে জামায়াত ট্যাগ দিয়ে দেয়।’’ বলেন ব্যারিস্টার আতাউর রহমান।