সিরাজগঞ্জে হিন্দু বৃদ্ধার সৎকারে ‘তৌহিদি জনতার’ বাধার দাবি ভিত্তিহীন

The Dissent Desk
লেখক
দ্য ডিসেন্ট ডেস্ক
৬ জানুয়ারী, ২০২৬

শ্মশানের নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের অভ্যন্তরীণ বিরোধে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় এক হিন্দু বৃদ্ধা নারীর মরদেহ সৎকারে সাময়িক জটিলতা সৃষ্টি হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি চাবি দিতে দেরি করায় স্বজনরা বিক্ষোভ করেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে চাবির ব্যবস্থা হয় এবং সেদিনই মরদেহ সৎকার সম্পন্ন করা হয়।

তবে এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ে।

‘হিন্দু জাগরণ’ ফেসবুক পেজে বিক্ষোভের একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হয়েছে,
“উল্লাপাড়ায় এক সনাতন ধর্মাবলম্বীকে জি/হা/দী/রা দাহ করতে বাধা দেওয়ার জন্য সবাই মৃতদেহ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সামনে অবস্থান নেয়। এই হলো বাংলাদেশের হিন্দুদের অবস্থা!”

দেখুন এখানে:

একই দাবিতে আরও পোস্ট দেখুন এখানে এবং এখানে:

এই ঘটনা শেয়ার করে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে—এমন দাবিতে পোস্ট দেখুন এখানে এবং এখানে:

তবে যাচাই করে দেখা যায়, এ ঘটনায় সাম্প্রদায়িকতার কোনো সংযোগ নেই। মূলত শ্মশানের নামকরণ নিয়ে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের দ্বন্দ্বের ফলে সৎকারে জটিলতা দেখা দেয়।

মৃত মিনা বণিকের ছেলে সন্তোষ বণিক কালের কণ্ঠকে বলেন, “রবিবার রাতে আমার মা মিনা বণিকের মৃত্যু হয়। সোমবার সকালে মরদেহ নিয়ে সৎকারের জন্য উল্লাপাড়া মহাশ্মশানে গেলে ঘোষগাতি গ্রামের বাবলু ভৌমিক শ্মশানের চাবি না দিয়ে আমাদের তাড়িয়ে দেন। এ কারণে মরদেহ নিয়ে উপজেলা চত্বরে গিয়ে স্বজন ও গ্রামবাসী বিক্ষোভ করেন।”

দেখুন এখানে:

স্থানীয়দের বরাতে বিডিনিউজ জানায়, মিনা বণিকের মৃত্যুর পর মাইকিংয়ে শ্মশানের নাম ‘ভুল’ বলায় এ ঘটনা ঘটে।

ঝিকিরা এলাকার রাজেশ কুমার সাহা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই মহাশ্মশানটি উল্লাপাড়া মহাশ্মশান নামে পরিচিত। এখানে আমাদের উপজেলার সকল হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের সৎকার করা হয়। সম্প্রতি এই মহাশ্মশানটির নাম ঘোষগাতি মহাশ্মশান করা হয়। এরপর থেকেই দায়িত্বে নিয়োজিতরা এখানে সৎকারে বাধা দিচ্ছে।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঘোষগাতি গ্রামের বাবলু ভৌমিক বলেন, “মিনা বণিকের ছেলেরা উল্লাপাড়া মহাশ্মশানের নাম উল্লেখ করে মাইকিং করেছে। এটি এখন ঘোষগাতি মহাশ্মশান। সে কারণে তাদের চাবি না দিয়ে মাইকিং করা মহাশ্মশান যেখানে আছে, সেখানে যেতে বলা হয়েছিল। তবে বিক্ষোভের পর ইউএনও অফিস থেকে যোগাযোগ করা হলে মৃত ব্যক্তির স্বজনদের কাছে চাবি দেওয়া হয়েছে।”

ইউএনও এটিএম আরফি বলেন, “হিন্দু সম্প্রদায়ের এক বৃদ্ধা নারীর মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে মহাশ্মশানের চাবি চাওয়া হলে তাৎক্ষণিক না দেওয়ায় কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছিল। পরে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে চাবির ব্যবস্থা করা হলে ওই মহাশ্মশানেই মরদেহ সৎকার করা হয়।”

দেখুন এখানে

এছাড়াও একাধিক গণমাধ্যমে ঘোষগাতি গ্রামের বাবলু ভৌমিককে জামায়াত নেতা হিসেবে দাবি করা হয়েছে। দেখুন এখানে, এখানে

এ বিষয়ে বাবলু ভৌমিককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে, ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট উল্লাপাড়ায় জামায়াতের এক জনসভায় বাবলু কুমার ভৌমিককে জামায়াতের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার একটি ভিডিও পাওয়া যায়।

দেখুন এখানে

অর্থাৎ, সিরাজগঞ্জে সৎকার নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় সাম্প্রদায়িকতার কোনো সংযোগ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মূল ঘটনা আড়াল করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।