জাহাজ ভাঙার সময় বিষাক্ত গ্যাসে শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে ‘বোমা বিস্ফোরণে হিন্দু নিহত’ বলে প্রচার
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বোমা বিস্ফোরণে ৩ জন হিন্দু নিহত হয়েছেন বলে ফেসবুকে কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছে।
এরকম দাবি সম্বলিত পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, দাবিটি বিভ্রান্তিকর। বোমা বিস্ফোরণে নয় বরং জাহাজভাঙা কারখানায় কাজ করার সময় স্ক্র্যাপ জাহাজ থেকে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তারা নিহত হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট কী-ওয়ার্ড সার্চ করে এ বিষয়ে গত ১৪ আগস্ট বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।
উক্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি জাহাজ ভাঙার ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। শুক্রবার সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলায় ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।”
সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর এই ঘটনায় আটজন শ্রমিক নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে বিবিসি বাংলাকে বলেন, "জাহাজ কাটছে, তখন গ্যাস লিকেজ হয়ে মারা গেছে।"
এছাড়াও দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর একটি জাহাজভাঙা কারখানায় স্ক্র্যাপ জাহাজের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ছড়িয়ে পড়া ‘বিষাক্ত গ্যাসে’ নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৮ জন হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল নামের একটি কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।”
উক্ত প্রতিবেদনে নিহত আট শ্রমিকের মধ্যে চারজনের নাম–পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন, সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭) এবং দুই সহোদর মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)।
অর্থাৎ, সেখানে শুধু হিন্দু নয়, মুসলিম শ্রমিকও নিহত হয়েছেন।