মাদ্রাসায় ছাত্র নির্যাতনের ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও এক্স-এ ভারতে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি লেখক তসলিমা নাসরিন এবং বিতর্কিত প্রোপাগান্ডিস্ট সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী তাদের নিজ নিজ ভেরিফাইড একাউন্টে একটি মাদ্রাসায় শিশুকে উল্টো করে ঝুলিয়ে নির্যাতনের ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেছেন, এটি বাংলাদেশের মাদ্রাসায় ছাত্র নির্যাতনের ঘটনা।
তবে দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা যায়, দাবিটি সঠিক নয়। মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ঝুলিয়ে নির্যাতনের এই ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো মাদ্রাসার নয় বরং পাকিস্তানের রাওয়ালপিণ্ডির একটি মাদ্রাসায় ২০১৯ সালের ঘটনা।
যাচাইয়ে ভিডিওটির কী-ফ্রেম বিশ্লেষণ ও রিভার্স ইমেজ সার্চ করে হুবহু মিল পাওয়া যায় এমন একটি ভিডিও পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম The Express Tribune এর একটি প্রতিবেদনে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটি ২০১৯ সালের ২৮ শে জুন প্রকাশিত হয়েছিল।
ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পাকিস্তানের রাওয়ালপিণ্ডিতে অবস্থিত একটি মাদ্রাসায় এক শিশুকে উল্টো করে ঝুলিয়ে শাস্তি দেওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, এবং পরে রাওয়ালপিণ্ডি পুলিশ ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে। এছাড়াও একই ঘটনার বিষয়ে ARY NEWS, Geo News সহ একাধিক পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই একই ভিডিওটি গত বছরও বাংলাদেশের ঘটনা দাবি করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছিল, যা সে সময় বিভিন্ন ফ্যাক্টচেকিং সংস্থা যাচাই করে বিভ্রান্তিকর হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।
অর্থাৎ, ভাইরাল ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো মাদ্রাসার নয়; এটি পাকিস্তানের একটি পুরনো ঘটনার ভিডিও, ফলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো দাবিটি বিভ্রান্তিকর।