নাহিদ ইসলামের নামে ফেসবুকে ছড়ানো ভুয়া পাসপোর্টের ভিত্তিতে রিট
ঢাকা-১১ আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলাম এর প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। রিটে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ ডোমিনিকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন।
৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামীম আহমেদ এই রিট দায়ের করেন। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনের সচিব, সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার এবং নাহিদ ইসলামকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট দায়েরের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও নাহিদ ইসলামের বিদেশি নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে নাহিদের নামে একটি বিদেশি পাসপোর্টের ছবিও পোস্ট করা হচ্ছে।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাহিদ ইসলামের নামে ডোমিনিকার পাসপোর্ট দাবি করে একটি ছবি ছড়ানো হয়। ২০ জানুয়ারি দ্য ডিসেন্ট এ প্রকাশিত একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে নাহিদ ইসলামের নামে ছড়ানো পাসপোর্টের ছবিটিকে ভুয়া বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে ছবির উৎস, বারকোড, ব্যবহৃত ছবি ও স্বাক্ষরের অসামঞ্জস্যসহ একাধিক ত্রুটি তুলে ধরা হয়।
এছাড়াও সে সময় রিউমার স্ক্যানার ও ফ্যাক্টওয়াচ পৃথক ফ্যাক্টচেকে ওই ছবিটিকে ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করে। ওই ফ্যাক্টচেকগুলোতে দেখানো হয়, ভাইরাল ছবিটি ডোমিনিকার পাসপোর্টের একটি অনলাইন টেমপ্লেট সম্পাদনা করে তৈরি করা হয়েছে। রিভার্স ইমেজ সার্চে একই টেমপ্লেট একাধিক ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়। বারকোডেও অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
অর্থাৎ নাহিদ ইসলামের বিদেশি পাসপোর্ট থাকার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো যে ছবিটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল, সেটি ভুয়া ছিল।
ডেইলি স্টারের সংবাদের বরাতে জানা যায়, মো. নাহিদ ইসলাম এর প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদনেও অভিযোগ করা হয়েছে। ওই আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামীম আহমেদ আজ রোববার হাইকোর্টে এ রিট করেন। রিটে অভিযোগ করা হয়েছে, নাহিদ ইসলাম হলফনামায় তথ্য গোপন করেছেন। তিনি ক্যারিবিয়ান দেশ কমনওয়েলথ অব ডমিনিকার নাগরিকত্ব নিয়েছেন। দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য।
রিট পিটিশনের একটি কপি সংগ্রহ করেছে দা ডিসেন্ট। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে রিটকারী আইনজীবী হিসেবে মোহাম্মদ মঞ্জু মোল্লার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। দ্য ডিসেন্টের সংগ্রহ করা রিট পিটিশনের কপিতেও আইনজীবী হিসেবে মোহাম্মদ মঞ্জু মোল্লার স্বাক্ষর পাওয়া গেছে।
রিটের সংযুক্তি ৪ এ লেখা হয়েছে, “Copy of the petitioner collected a copy of the passport of the petitioner which was available in the social media and the same”
অর্থাৎ রিট আবেদনের সঙ্গে পাসপোর্টের যে কপি সংযুক্ত করা হয়েছে, সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যে ছবিটি আগেই ফ্যাক্টচেকের মাধ্যমে ভুয়া প্রমাণিত হয়েছিল।
এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামীম আহমেদ ও তার আইনজীবির সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।