যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেইড জালিয়াতিতে দণ্ডিত পাকিস্তানি নারীকে বাংলাদেশি বানাল মিডিয়া
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগে জাকিয়া খান নামের ৫৫ বছর বয়সী এক পাকিস্তানি নারীকে সাড়ে ৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন মার্কিন আদালত।
তিনি হ্যাপি ফ্যামিলি ও ফ্যামিলি সোশ্যাল নামে দুটি ডে কেয়ার সেন্টারের মালিক ছিলেন এবং প্রায় ৬৪ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া বিল জমা দিয়ে মেডিকেড থেকে ৫৬ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত আয় ও সম্পদের মানুষের জন্য পরিচালিত একটি সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি।
কালবেলা, চ্যানেল ২৪, এনটিভি, ইত্তেফাক, যুগান্তর, আজকের পত্রিকা, আরটিভি ও বাংলা ট্রিবিউনসহ একাধিক বাংলাদেশি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, জাকিয়া খান বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত।
দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা যায়, সংবাদমাধ্যমগুলোর এই দাবি সঠিক নয়। দণ্ডিত জাকিয়া খান বাংলাদেশি নন, তার জন্ম পাকিস্তানের লাহোরে।
মার্কিন বিচার বিভাগের (ডিওজে) ওয়েবসাইটে গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাকিয়া খানের শাস্তির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে ‘হ্যাপি ফ্যামিলি’ এবং ‘ফ্যামিলি সোশ্যাল’ নামে দুটি অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার পরিচালনার আড়ালে তিনি এই প্রতারণা করেন।
পরবর্তীতে জাকিয়া খানের পরিচালিত ‘হ্যাপি ফ্যামিলি অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার’ এবং তার নাম ব্যবহার করে ইউটিউবে সার্চ করে দেখা যায়, তিনি এবং তার প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত পাকিস্তানি কমিউনিটির কাছে বেশ পরিচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য জুইশ এডিশন’ এ ২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত “$68 Million Muslim Day Care Fraud Linked to New York Dems” শিরোনামের নিবন্ধে বলা হয়, জাকিয়া খান এবং তার ছেলে আহসান ইজাজ নিউইয়র্ক পুলিশের প্রথম পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পরিদর্শকের পদোন্নতি অনুষ্ঠানের স্পন্সর ছিলেন, যেখানে পাকিস্তানের জাতীয় সংগীতও বাজানো হয়েছিল।
এতে আরও বলা হয়, নিউইয়র্কের ‘লিটল পাকিস্তান’ কমিউনিটিকে কেন্দ্র করে এই প্রতারক চক্রটি গড়ে উঠেছিল। ১৩ জন অভিযুক্তের বেশিরভাগই পাকিস্তানি মুসলিম বলে উল্লেখ করা হয়।
‘Mtv Mardan’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর আপলোড করা একটি সাক্ষাৎকারে জাকিয়া খানকে বলতে শোনা যায়, “আমি বেসিক্যালি লাহোর থেকে এসেছি এবং ১৮ বছর ধরে এখানে আছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা আমেরিকায় থাকলেও আমরা পাকিস্তানি হওয়ায় গর্ববোধ করি।”
২০২৪ সালের ৬ মে ‘Dunya International Official’ চ্যানেলে আপলোড করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জাকিয়া খানের প্রতিষ্ঠান ‘হ্যাপি ফ্যামিলি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার’ এ একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (NYPD) এবং নিউইয়র্কে নিযুক্ত পাকিস্তানের কনসাল জেনারেল উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ‘Kawish NY TV’ চ্যানেলে ২০২২ সালের ২৪ আগস্ট প্রকাশিত একটি ভিডিওতে জাকিয়া খানের প্রতিষ্ঠানে পাকিস্তানের ৭৫তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দিয়েছেন।
পাশাপাশি, পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘The News International’ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টে তাকে ‘পাকিস্তানি-আমেরিকান নারী’ হিসেবে উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেইড জালিয়াতির দায়ে দণ্ডিত জাকিয়া খান বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নন। তিনি মূলত পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত একজন মার্কিন নাগরিক।