অভিনয়ের ভিডিওকে আনসার সদস্যের সঙ্গে ‘নারায়ণগঞ্জের ডন’-এর তর্ক বলে প্রচার করেছে ৭ সংবাদমাধ্যম
ট্রাফিক আইন অমান্য করে উল্টোপথে মোটরসাইকেল চালানোর সময় এক যুবক নিজেকে ‘নারায়ণগঞ্জ জেলার ডন’ দাবি করে আনসার সদস্যদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছেন—এমন দাবিতে একটি ভিডিও মূলধারার সাতটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমগুলো হলো দেশ টিভি, ভোরের কাগজ, ডেইলি বাংলাদেশ, মাছরাঙা টিভি, ভোরের কাগজ, মর্নিং পোস্ট এবং গণকণ্ঠ।
এর পাশাপাশি, মোটরসাইকেলে থাকা যুবককে যুবদলের একজন নেতা দাবি করেও ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, ভিডিওতে দেখানো ঘটনাটি বাস্তব নয়। পাশাপাশি, মোটরসাইকেলে থাকা যুবক যুবদলের নেতা—এমন দাবিরও কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। মূলত, ভিডিওটি একটি সাজানো বা স্ক্রিপ্টেড অভিনয়ের অংশ।
যাচাইয়ের সময় ‘Muhammad Razim’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে গত ১৩ জুলাই প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘নারায়ণগঞ্জের ডন মানি আগুন আইন সবার জন্য সমান আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না।’
ওই ভিডিওর দৃশ্যের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত আলোচিত ভিডিওটির মিল পাওয়া যায়।
ভিডিওটি পুরোপুরি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ঘটনাটি বাস্তব কোনো বিরোধ বা তর্ক নয়; বরং পূর্বপরিকল্পিত ও অভিনীত একটি দৃশ্য।
এরপর ‘Muhammad Razim’ নামের অ্যাকাউন্টটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এর বায়োতে লেখা রয়েছে, ‘নারায়ণগঞ্জ এর ডন পরিবারের নতুন আইডি,সবাই সাপোর্ট করে পাশে থাকবেন।’
অ্যাকাউন্টটিতে প্রকাশিত অন্যান্য ভিডিও যাচাই করেও দেখা যায়, আলোচিত ভিডিওতে নিজেকে ‘নারায়ণগঞ্জ জেলার ডন’ দাবি করা ব্যক্তি একাধিক ভিডিওতে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
উদাহরণ দেখা যাবে এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
অর্থাৎ, উল্টোপথে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে আনসার সদস্যরা এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি নিজেকে ‘নারায়ণগঞ্জ জেলার ডন’ বলে পরিচয় দিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন—এমন দাবিতে সাতটি সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওটি কোনো বাস্তব ঘটনার ফুটেজ নয়। এটি একটি সাজানো নাটিকার অংশ।