RAB Impersonation and an Attempted Abduction: How Did Suman Mia’s Name Enter the Case?
৬ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টা ৫৭ মিনিট। রাজধানীর পুরান ঢাকার কলতাবাজারে একটি ভবনের সামনে এসে থামে নম্বরপ্লেটবিহীন সাদা রঙের একটি টয়োটা হ্যারিয়ার গাড়ি। ওই ভবনটির সপ্তম তলায় নারীদের একটি আবাসিক মেস রয়েছে।
ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, টি-শার্ট ও থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট পরা এক ব্যক্তি গাড়িটি থেকে নামেন। এরপর পাশে মোটরসাইকেলে থাকা আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে নিয়ে সিগারেট ধরান। কিছুক্ষণের মধ্যে সাদাপোশাকে আরও তিন ব্যক্তি সেখানে তাদের সাথে যুক্ত হন।

মেসে অন্য কয়েকজনের সঙ্গে থাকতেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫–১৬ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মমতাজ আরা বর্ষা।
ভিন্ন আরেকটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ভবনের সামনে মোটরসাইকেলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের কয়েকজন বর্ষাদের ভাড়া করা ফ্ল্যাটের (মেসের) দরজায় কড়া নাড়ছেন।
কড়ার নাড়ার প্রেক্ষিতে ভেতরে থাকা নারীরা আগুন্তুকদের পরিচয় জানতে চান। উত্তরে আগুন্তুকরা প্রথমে তাদের পরিচয় দিতে চাননি। পরে নিজেদের ‘র্যাব সদস্য’ বলে পরিচয় দিয়ে দরজা খুলতে বলেন।
এরপরও দরজা না খোলায় একপর্যায়ে ‘র্যাব সদস্যরা’ দরজা ভাঙার চেষ্টা করলে মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। কিন্তু এরই মধ্যে আশপাশের ফ্ল্যাটের লোকজন জড়ো হলে র্যাব সদস্যদের জোরাজুরিতে নারীরা দরজা খুলেন।
বাসায় ঢুকে সাদাপোশাকের তিন ব্যক্তি তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে তারা বর্ষাকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বর্ষা ও মেসে থাকা অন্যরা র্যাব সদস্যদের কাছে তল্লাশি বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখতে চান। তবে ওই ব্যক্তিরা পরোয়ানা দেখাতে পারেননি বলে জানিয়েছেন মেসের সদস্যরা।
এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে সূত্রাপুর থানা-পুলিশের একটি দল পৌঁছায়। একই সময়ে র্যাবের স্টিকারযুক্ত র্যাব-২-এর তিনটি গাড়িও ভবনের নিচে আসে। ওই গাড়িগুলোতে আসা ইউনিফর্ম পরিহিত র্যাব সদস্যরা সপ্তম তলায় যান এবং জানান, ক্যান্টনমেন্ট থানায় দায়ের হওয়া একটি চুরির মামলায় মমতাজ আরা বর্ষার নাম রয়েছে। এ কারণে তাকে নিয়ে যাওয়া হবে।
কাছাকাছি সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম এবং তাদের সাথে ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক তারেক বিন আতিক।
তারেক বিন আতিক দ্য ডিসেন্টকে বলেন, সাদাপোশাকে আসা ব্যক্তিরা প্রথমে ভুল করে সেখানে গিয়েছেন বলে দাবি করেন। পরে তারা জানান, একটি চুরির মামলার আসামিকে ধরতে এসেছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে বর্ষাকে গাড়িতে তোলা হয়। তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয়।
সাদাপোশাকে আসা ব্যক্তিদের কাছে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা পরিচয়পত্র না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে তারা বর্ষাকে না নিয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হন।
সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান ওইদিন দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “র্যাব-২ থেকে একটি টিম এসেছিল। তারা ক্যান্টনমেন্ট থানার একটি মামলার আসামির ব্যাপারে সেখানে গিয়েছিল।”
মমতাজ আরা বর্ষার দাবি, টয়োটা হ্যারিয়ার গাড়িতে করে আসা থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট পরা ব্যক্তিটি তার ছোট বোনের সাবেক স্বামী সুমন আহমেদ, যিনি সুমন মিয়া নামেও পরিচিত।

বর্ষার ছোট বোন শারমিন আক্তার শ্রাবণীও দ্য ডিসেন্টের কাছে ওই ব্যক্তিকে তার সাবেক স্বামী হিসেবে শনাক্ত করেছেন। সাদা গাড়িটিও তার সাবেক স্বামীর বলে দাবি করেন তিনি।
বর্ষার অভিযোগ, তার ছোট বোনের সঙ্গে সুমন মিয়ার পারিবারিক বিরোধের জেরে র্যাবের সঙ্গে নিজের যোগাযোগ ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন সুমন।
কে এই ‘প্রভাবশালী’ সুমন মিয়া?
বর্ষা বলেন, সুমন মিয়া একজন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে র্যাব, পুলিশ ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সঙ্গে কাজ করেছেন।
বর্ষার দাবি, গণ-অভ্যুত্থানের আগে ‘মুজিব অ্যাপস’ তৈরি করে সুমন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠতা অর্জন করেন। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে তিনি প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ করেন বর্ষা।
বর্ষার ভাষ্য, বারবার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে তার বোন সুমন মিয়ার কাছ থেকে গত ১১ এপ্রিল বিচ্ছেদ গ্রহণ করেন। সুমন বিচ্ছেদে রাজি ছিলেন না। ফলে বিচ্ছেদের পর সুমন তাদের ক্রমাগত হুমকি দিতেন বলে অভিযোগ বর্ষার।
এসব হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে সুমন মিয়ার বিরুদ্ধে গত ১২ জুলাই দিনাজপুর সদর থানায় জিডি করেন তার সাবেক স্ত্রী শারমিন আক্তার শ্রাবণী। এরপর ১৯ জুলাই তিনি একই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে সুমনের বিরুদ্ধে মামলা করে দায়ের করেন। এরপরও নানাভাবে সুমনের হুমকি অব্যাহত ছিল বলে দাবি করেন বর্ষা।
তার অভিযোগ, পরিবারের সদস্যদের “এক এক করে শেষ করে দেওয়ার” পাশাপাশি “এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ করব” এবং মাদকদ্রব্য দিয়ে ফাঁসানোর অর্থে “স্বর্ণ ভরে” ধরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল সুমনের পক্ষ থেকে।
এরপর গত ১২ আগস্ট রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি চুরির মামলার এজাহারে বর্ষার নাম যুক্ত করার ঘটনা ঘটে।
এই প্রেক্ষাপটে সুমন মিয়ার পরিকল্পনাতেই র্যাবের দল তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন বর্ষা।
তিনি দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “মিথ্যা মামলায় নাম ঢুকিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেই থেমে থাকেনি। আমার নামে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে একের পর এক মানহানিকর প্রোপাগান্ডা রিপোর্ট করা হচ্ছে। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে আমার ব্যক্তিগত ছবি পাঠিয়ে আমার মানহানি করা হচ্ছে। এ অবস্থায় আমি ও আমার পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।”
আওয়ামী আমলে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন সুমন
রংপুরের পীরগঞ্জে জন্ম নেওয়া ৩২ বছর বয়সী মো. সুমন মিয়া নিজেকে একজন তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। তার সাবেক স্ত্রী শারমিন আক্তার শ্রাবণী এবং সাবেক শ্যালিকা মমতাজ আরা বর্ষার দাবি, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজের সূত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন তিনি।
সুমন দুর্বারটেক নামের একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। দুর্বার টেকনোলজিস লিমিটেড এবং সুমন মিয়া ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু’ অ্যাপ তৈরি করেন। পরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অ্যাপটি উদ্বোধন করেন। এসময় সুমন মিয়াকে শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে দেখা যায়।

এছাড়াও, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সাথেও সুমনের ছবি পাওয়া গেছে।
২০১৭ সাল থেকে চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত সুমন মিয়া শারমিন আক্তার শ্রাবণীর সাথে বিবাহিত ছিলেন। বিয়ের সময় শ্রাবণীর বয়স ছিল ১৫ বছর। তাদের ৪ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
শ্রাবণী সুমনের আওয়ামী লীগ সংযোগ বিষয়ে দ্য ডিসেন্টকে বলেছেন, “সরকারের জন্য যে অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছিল, সেটার পেছনে আট কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছিল। সে শেখ হাসিনার কাছ থেকে কোনো টাকা নেয়নি; অ্যাপটি তৈরি করে উপহার দিয়েছিল। এরপর থেকেই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও প্রভাব বাড়তে থাকে।”
শ্রাবণী বলেন, “সে আইটি ও হ্যাকিংয়ে অনেক দক্ষ। বিভিন্ন পরিচিত ব্যক্তি ও মডেলের ফেসবুক পেজসহ অনলাইনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে দিত। এই কাজ করতে গিয়েই অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয়।”
সুমনের সাবেক স্ত্রীর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ও পেইজ পরিচালনা, তথ্য সংগ্রহ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গেও সুমনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তিনি র্যাব, পুলিশ ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) ‘তথ্যদাতা’ হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন বলে দাবি করেন শ্রাবণী।
শ্রাবণীর বোন বর্ষা বলেন, “সুমন র্যাব, পুলিশ ও ডিজিএফআইয়ের ইনফর্মার হিসেবে কাজ করত। তাদের বিভিন্ন আইটি-সংক্রান্ত কাজও করে দিত। কখনো তথ্য বের করা, কখনো অনলাইন অ্যাকাউন্ট বা পেজের সমস্যা সমাধান—এ ধরনের কাজের মাধ্যমেই তাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।”
তার আরও অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিষয়ে তথ্য দেওয়া এবং তাদের ধরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সুমনের ভূমিকা ছিল।
পরিবারটির দাবি, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যোগাযোগের পাশাপাশি নিজের তথ্যপ্রযুক্তিগত দক্ষতা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত পর্যায়েও প্রভাব বিস্তার করতেন সুমন। তারা অভিযোগ করেন, তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য, ফোন নম্বর, অবস্থান ও অনলাইন অ্যাকাউন্টের তথ্য বের করতে পারতেন বলে দাবি করতেন।
বর্ষা বলেন, “আমাদের নম্বর বদলানোর পরও সে নতুন নম্বর বের করে ফেলত। কার সঙ্গে যোগাযোগ করছি, কোথায় আছি—এসবও জানতে পারত। সে আইটির লোক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে তার পরিচিত মানুষ আছে বলে আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকতাম।”
শ্রাবণীও অভিযোগ করেছেন, ফোন নম্বর পরিবর্তন এবং বাসা বদলের পরও সুমন তাদের নতুন যোগাযোগের তথ্য পেয়ে যেতেন। তবে এসব তথ্য প্রযুক্তিগতভাবে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে, পরিচিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে নাকি অন্য কোনোভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা নিশ্চিত করা যায়নি।
সুমনের আর্থিক সামর্থ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে পরিবারটি। শ্রাবণীর দাবি, বর্তমানে তার তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কার্যত বন্ধ এবং দৃশ্যমান কোনো বড় ব্যবসায়িক কার্যক্রম নেই। তারপরও তার দেড় কোটি টাকার বেশি মূল্যের বাড়ি ও গাড়ি রয়েছে।
শ্রাবণী বলেন, “একটি সাধারণ প্রতিষ্ঠানের সিইওর আয় কত? তার কোম্পানি এখন বন্ধ, তেমন কোনো কাজও নেই। অথচ তার বাড়ি ও গাড়ির মূল্য দেড় কোটি টাকার বেশি। এত টাকা সে কোথা থেকে পেয়েছে, সেটি তদন্ত করা দরকার।”
তবে শ্রাবণী ও বর্ষার উত্থাপিত এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি দ্য ডিসেন্ট। বিশেষ করে সুমনের সম্পদ, আয়, প্রতিষ্ঠান বা বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সুমনের যোগাযোগ অক্ষুণ্ন ছিল বলে দাবি বর্ষা ও শ্রাবণীর। তাদের অভিযোগ, পুরোনো যোগাযোগ কাজে লাগিয়েই পারিবারিক বিরোধে র্যাবকে প্রভাবিত করেছেন তিনি।
বর্ষা বলেন, “সরকার পতনের পরও র্যাব ও পুলিশের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। সে জানত কাকে দিয়ে কী কাজ করাতে হবে। আমার বোন মামলা করার পর সেই প্রভাব ব্যবহার করেই আমাকে একটি চুরির মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।”
তবে সুমন মিয়া দ্য ডিসেন্টকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমার র্যাবের সাথে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমার যদি এতো টাকা থাকতো তবে এই টাকা কী আছে, কোথায় আছে সেটা সবাই জানতো। ওরা বললেই তো হবেনা।”
র্যাব কর্মকর্তার বাসায় চুরির মামলায় বর্ষার নাম
সুমনের সাথে সাবেক স্ত্রী শ্রাবণী ও তার পরিবারের বিরোধের মধ্যে গত ১২ আগস্ট রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করেন র্যাব-২-এ কর্মরত সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হাসান মুহাম্মদ মুহতারিম।
মামলার এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, এই র্যাব কর্মকর্তার বাসা থেকে ১৪ লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণ ‘চুরি’ হয়। আসামি হিসেবে নিজের গাড়িচালক মো. রাসেল এবং তার স্ত্রী মাছুরা বেগমের নাম উল্লেখ করেছেন। তাদেরকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাসার কাজের জন্য ওই টাকা রাখা হয়েছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, “রাসেল ওই পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন যে, তার নিজের স্ত্রী মাছুরার ওপর ‘জিন ভর করেছে’। ওই ‘জিন’ পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর পরিবারের অনেক তথ্য জানে এবং তার কথামতো চললে তার পেশাগত উন্নতি হবে ও পারিবারিক বিপদ দূর হবে—এমন কথা বলা হয়েছিল।”
এজাহারে হাসান মুহাম্মদ মুহতারিমকে ‘পুলিশ কর্মকর্তা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুহতারিমের স্ত্রী একজন সিনিয়র সহকারী সচিব। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ‘জিনের কথা’ বলে রাসেল ও তার স্ত্রী ওই নারীর কাছ থেকে টাকা ও সোনার গয়না নিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে চেতনানাশক খাইয়ে টাকা ও সোনার গয়না চুরির অভিযোগও আনা হয়েছে।
এজাহারের ভাষ্য অনুযায়ী, রাসেল ও তার স্ত্রী মাছুরা চুরি করা স্বর্ণ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মমতাজ আরা বর্ষার কাছে বিক্রি করেছিলেন।
যদিও বর্ষা দাবি করেছেন, তিনি রাসেল ও তার স্ত্রীকে চেনেন না। তাদের কাছ থেকে কখনো কিছু কেনেনি।
“আমি এদের কাউকে চিনি না। আমি ১০ ভরি স্বর্ণ কেনার মতো সামর্থ্য বা প্রয়োজনও আমার নাই। আমি তিনটি টিউশনি করে নিজের খরচ চালাই। একটা ফোন ব্যবহার করি সেটাও কিস্তিতে কেনা। তদন্ত করা হোক কোথায় কবে আমি স্বর্ণ কিনেছি ”, দ্য ডিসেন্টকে বলেছেন বর্ষা।
বর্ষার দাবি, সুমন মিয়া প্রভাব বিস্তার করে এই মামলায় তার নাম ঢুকিয়েছেন।
বর্ষার মেসে অভিযানের ব্যাপারে র্যাব-২–এর পরিচালক এবং পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক নয়মুল হাসান দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “একটি মামলায় এজাহারনামীয় আসামি ধরতে র্যাব সেখানে গিয়েছিলো। সেসময় আসামিকে না ধরতে র্যাবের উপর চাপ তৈরি করা হয়েছে।”
সুমন মিয়ার প্রভাবে বর্ষার নাম এই মামলার এজাহারে যুক্ত করা হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে নয়মুল হাসান বলেন, “সুমন কে? সুমনকে তো আমি চিনি না। এই নামে র্যাব-২ কেউ নেই।”
সুমন মিয়া এই চুরির মামলা সংশ্লিষ্ট কেউ না হওয়া সত্ত্বেও বর্ষার মেসে র্যাবের অভিযানের সময় সুমন কেন উপস্থিত ছিলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে এই র্যাব কর্মকর্তা বলেন, “এই ধরনের অভিযানগুলো সংশ্লিষ্ট কোন পরিচিত ব্যক্তিকে তথ্যদাতা হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়।”
ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “থানায় দায়ের করা চুরির মামলার ভিত্তিতে চোরাই স্বর্ণালংকার কেনার অভিযোগ তদন্ত করতে র্যাব ওই অভিযান চালায়। এএসপির বাসা থেকে প্রায় ৩৯ লাখ টাকার নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছিল। মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার হলেও তাদের কাছ থেকে কোনো মালামাল উদ্ধার হয়নি। এ বিষয়ে পুলিশ র্যাবকে রিকুইজিশন দিয়েছিল।”
তিনি বলেন, “এজাহারে মমতাজ আরা বর্ষার নাম উল্লেখ করে চোরাই স্বর্ণালংকার কেনার অভিযোগ করা হয়েছিল। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চুরি যাওয়া মালামাল সম্পর্কে তথ্য বা আলামত পাওয়া যেতে পারে, এমন তথ্যের ভিত্তিতেই র্যাব সেখানে গিয়ে থাকতে পারে।”
চুরির মামলার বাদী হাসান মুহাম্মদ মুহতারিমকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কোন প্রমাণের ভিত্তিতে বর্ষার নাম এজাহারে যুক্ত করা হয়েছে? জবাবে তিনি বলেন, “বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্য মতে তার নাম দেয়া হয়েছে।”
বর্ষার মোবাইলে আসা একটি রহস্যজনক বার্তা
র্যাব কর্মকর্তার দায়ের করা মামলায় গত ২৮ আগস্ট তার গাড়িচালক রাসেল ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই দিনই বর্ষার মোবাইল ফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কয়েক ধাপে সন্দেহজনক একটি বার্তা আসে। দ্য ডিসেন্ট বর্ষার মোবাইল থেকে বার্তাগুলো দেখেছে।
একটি বার্তায় লেখা ছিল, “আপা, অনেক ঝামেলায় আছি। জিনিসের টাকা তো দিল না আমিন ভাই। সব কি দিনাজপুর পাঠাইছেন আমিন ভাইয়ের কাছে? আপনি তো কল বা মেসেজ দেখতেছেন না। এদিকে পুলিশ আমাকে খোঁজে।”

বর্ষা ও শ্রাবণীর দাবি, অপরাধমূলক লেনদেন বা চোরাই মাল গ্রহণের সঙ্গে বর্ষার সম্পৃক্ততা রয়েছে—এমন ধারণা তৈরির উদ্দেশ্যে বার্তাগুলো পাঠানো হয়েছিল।
বার্তাগুলো দেখে সন্দেহ হওয়ায় বর্ষা তার বোনকে বার্তাটির স্ক্রিনশট পাঠান। দ্য ডিসেন্ট এই বার্তা নিয়ে বর্ষা ও শ্রাবণীর মধ্যে গত মাসে হওয়া হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথন ভেরিফাই করেছে। এরপর শ্রাবণী দিনাজপুর থানায় যান। সেখানে তদন্ত কর্মকর্তাকে স্ক্রিনশট দেখিয়ে তার উদ্বেগের কথা জানান।
শ্রাবণী বলেন, “আমি এসআই মিজানুর রহমানকে বলি, বার্তাগুলো আমার সুবিধার মনে হচ্ছে না। আমার বোনকে চোরাই জিনিসের সঙ্গে জড়ানোর মতো করে লেখা হয়েছে। এসআই বলেন, যেহেতু আমাদের জিডি ও মামলা রয়েছে, তাই চিন্তা না করতে।”
দিনাজপুর থানার এসআই মিজানুর রহমানও দ্য ডিসেন্টকে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, “শ্রাবণী ওই সময় আমাকে মেসেজগুলো দেখিয়ে তার উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলো। আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত।”
এরপর ৬ সেপ্টেম্বর র্যাবের সদস্যরা কলতাবাজারের মেস থেকে তাকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
বর্ষা দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “আমাকে র্যাবের তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং এই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মেসেজের যোগসূত্র রয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বর র্যাব আমার বাসায় আসার পর আমি উকিলের মাধ্যমে একটি চুরির মামলার কথা জানি। আমাকে এসএমএস করা হয় ২৮ আগস্ট বিকেল ৫টা ৩৪ মিনিটে।”
পরিবারটির অভিযোগ, আগে দেওয়া ‘স্বর্ণ ভরে দেওয়ার’ হুমকির সঙ্গে চুরির মামলায় বর্ষার নাম আসার যোগসূত্র রয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে সুমন নিজের যোগাযোগ ও প্রভাব ব্যবহার করে তাকে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেন বর্ষা।
তাদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়, যখন ঘটনার দিন ভোরে বর্ষার মেসের সামনে সুমনকে দেখা যায় বলে দাবি করেন তারা। সিসিটিভি ফুটেজে নম্বরপ্লেটহীন একটি সাদা টয়োটা হ্যারিয়ার গাড়িতে আসা ব্যক্তিকে সুমন হিসেবে শনাক্ত করেছেন দুই বোন।
বর্ষার ভাষ্য, “যে মানুষটি আমাদের এক সপ্তাহের মধ্যে দেখে নেওয়া এবং স্বর্ণ দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দিয়েছে, সেই মানুষটিই ঘটনার দিন ভোরে আমার বাসার সামনে ছিল। এরপর একটি চুরির মামলায় আমাকে নিয়ে যেতে র্যাব আসে। এসব ঘটনাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।”
এ ব্যাপারে সুমন মিয়ার সাথে কথা বলে দ্য ডিসেন্ট। ৬ তারিখ সকালে তিনি বর্ষার বাসার নিচে গিয়েছিলেন কিনা জানতে চাইলে সুমন মিয়া সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তর না দিয়ে বলেন, “কোনো মামলা বা কোনো আসামির ক্ষেত্রে বিবাদী কাকে নির্বাচন করবে? অবশ্যই পরিচিত ব্যক্তিকে।”
কিন্তু পারিবারিক বিরোধের সময়ে তিনি সোর্স হিসেবে কাজ করতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার সাথে কনফ্লিক্ট থাকলে প্রশাসন বুঝতে পারবে আমি পারফেক্ট পার্সন। আমি সবথেকে লোকেট করে দিতে পারবো ভালো। তবে আমি এসব বিষয়ে ইন্টারেস্টেড না। কি মামলা হয়েছে না হয়েছে আমি জানিওনা।”
৬ সেপ্টেম্বর তিনি বর্ষার বাসায় গিয়েছেন কিনা আবারও প্রশ্ন করলেও তিনি বলেন, “আমি এসবের মধ্যে নাই। যাচ্ছিওনা। আমি তাদেরকে নিয়ে মাথাও ঘামাচ্ছিনা।”
বিভিন্ন নম্বর থেকে বর্ষা ও শ্রাবণীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে সুমন মিয়া বলেন, “ওরাই আমাকে হুমকি দেয়। বিভিন্ন নম্বর থেকে গালাগালি করে।”
বর্ষাকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে দুটি মিডিয়ায় রিপোর্ট
৬ সেপ্টেম্বর বর্ষাকে র্যাব তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকে দ্য ডিসেন্টসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করে। তবে বর্ষা অভিযোগ করেছেন, কিছু মিডিয়ায় প্রতিবেদনে অসত্য তথ্য দিয়ে তাকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
৯ সেপ্টেম্বর নাগরিক টেলিভিশন “জবির সেই শিক্ষার্থী নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেত্রী, বিলুপ্ত র্যাবকে ঘিরে বিতর্ক!” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনে ভোর ৬ টায় সাদাপোশাকে বর্ষাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিবরণ উল্লেখ না করে দাবি করা হয়েছে, ৬ সেপ্টেম্বর র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বর্ষাকে গ্রেফতার করতে গেলে ‘মবের’ মুখে তাকে ছেড়ে দিতে হয়।
প্রতিবেদনে মমতাজ আরা বর্ষাকে একটি ‘স্বর্ণ-চোরাচালান গ্রুপের’ সদস্য হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়।
তবে নাগরিক টিভি বর্ষার ‘স্বর্ণ-চোরাচালান গ্রুপের’ সদস্য থাকার কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি।
নাগরিক টিভি লিখেছে, “ঘটনার পরপরই গণমাধ্যমে পারিবারিক শত্রুতার জের ধরে মমতাজ ওরফে বর্ষাকে গ্রেফতার কিংবা গুম করার চেষ্টা করা হয়েছে এমন যেসব অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়েছে, আমাদের অনুসন্ধানে সেসব দাবির পক্ষে কোনো সুস্পষ্ট ভিত্তি পাওয়া যায়নি। বরং সেদিন জবি শিক্ষার্থীদের পাওয়া নিরাপত্তা ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানার দায়ের করা মামলার হাত থেকে বাঁচতে ছলচাতুরি করার পাশাপাশি র্যাবকে ঘিরে বিতর্ক করা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।”
বর্ষা দ্য ডিসেন্টকে জানান, “গ্রেফতারের সময় আমার সাবেক দুলাভাই সুমন মিয়ার উপস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণ থাকার পরেও নাগরিক টিভি মিথ্যা লিখেছে।”
তিনি প্রশ্ন করেন, “আমি এমন কিছু করিনি যাতে বলা যায় যে, আমি মামলার হাত থেকে বাঁচতে ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়েছি।”
নাগরিক টিভির প্রতিবেদনে বলা করা হয়, “বর্ষার এক রুমমেট জানান, বর্ষা টিউশনি করে প্রতিমাসে মাত্র ৭ হাজার টাকা পেতেন এবং তিনি দুই সিট নিয়ে একাই থাকতেন, যার ভাড়া ছিল ৬ হাজার ৫০০ টাকা। তিনি আরও জানান, বর্ষা তার মোবাইল নম্বর বা সঠিক পরিচয় তার রুমমেট কাউকেই কখনো দিতেন না। তিনি আরো বলেন, বর্ষা প্রায় সারাদিনই বিভিন্ন মানুষের সাথে মোবাইলে কথা বলতেন ও তার লাইফস্টাইল আর চলাফেরা ছিলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সবার থেকে আলাদা।”
তবে বর্ষার রুমমেট দ্য ডিসেন্টকে বলেছেন, “আমি এবং বর্ষা আপু ছাড়া আমাদের রুমে আর কেউ থাকেনা। নাগরিক টিভি আমার সাথে কোনো কথা বলেনি।”
এছাড়াও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বর্ষা তার ভবনের দারোয়ানকে বলেছিলেন কেউ তাকে খুঁজতে আসলে যাতে জানানো হয় যে, বর্ষা ওই বিল্ডিংয়ে থাকেন না এবং তাকে চেনেন না।
এ ব্যাপারে বর্ষা দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “আমি নিষেধ করেছিলাম তবে নাগরিক আগের বা পরের বক্তব্য না নিয়ে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রতিবেদন করেছিলো। আমার বোনের ডিভোর্সের সকল কাগজ আসতো আমার ঠিকানায়। আমি আপনাকে ঠিকানাসহ কাগজগুলো দেখাতে পারবো। এ প্রেক্ষিতে সুমন মিয়া আমাকে এবং আমার পরিবারকে হুমকি দেওয়া শুরু করলে আমি দারোয়ানকে বলি যে, আমার বোনের ডিভোর্স হয়েছে জানেন, আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি, এজন্য কেউ যদি আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে তবে তাকে বলবেন আমি বাসা ছেড়ে দিছি বা আপনি কিছু জানেন না।”
তিনি বলেন, “নিউজে এছাড়াও আমার লাইফ স্টাইল নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে। আমি খুবই সাদামাটা জীবন যাপন করি। আমার বর্তমানে ব্যবহার করা ফোন ও কিস্তিতে কেনা, আমি আপনাকে প্রমাণ দিতে পারবো। আমি যদি স্বর্ণ চোরাচালানে যুক্ত থাকতাম, তাহলে তো আমার কিস্তিতে ফোন কিনা লাগতো না।”
নাগরিক টিভির প্রতিবেদনে ‘সচেতন নাগরিক’, ‘আইন বিশেষজ্ঞের’ বক্তব্য ব্যবহার করা হয়েছে যারা র্যাবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্য করার সমালোচনা করেছেন। তবে প্রতিবেদনে এই কথিত সচেতন নাগরিক এবং আইন বিশেষজ্ঞদের পরিচয় বা নাম দেওয়া হয়নি।
নাগরিক টিভির প্রতিবেদনে বর্ষা বা তার পরিবারের কারো বক্তব্য নেওয়া হয়নি।
১০ সেপ্টেম্বর কালবেলা “জবির সেই ছাত্রীর পেছনে জিনের বাদশার হাত, বর্ষা দীর্ঘদিন চোরাই স্বর্ণ বিক্রির চক্রে জড়িত” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনে, বর্ষাকে চোরাই স্বর্ণ বিক্রিতে সহায়তার অভিযোগ করলেও তার কোনো প্রমাণ বা বর্ষার বক্তব্য নেওয়া হয়নি।
মানবাধিকারকর্মী রেজাউর রহমান লেনিন দ্য ডিসেন্টকে জানান, “র্যাব টিম আসতে পারে যদি সেটা অনুমোদিত হয়। তবে এখানে সেটার লক্ষণ ছিল না। গ্রেফতারি পরোয়ানার কাগজপত্র ছিল না। তার (সুমন মিয়া) বিরুদ্ধে যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে, সেই মামলার কারণেই সুমন মিয়া আসলে তাকে অপহরণের চেষ্টা করেছে বলে মনে হচ্ছে। তাকে সিভিল ড্রেসে এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়া তুলে নেওয়ার চেষ্টা করাটা নি:সন্দেহে শেখ হাসিনার আমলের যেই র্যাব আমরা দেখেছি সেটার সিগনেচার এই আমরা এখন আবার দেখছি।”
বিচ্ছেদের পর অব্যাহত হুমকির অভিযোগ সুমনের বিরুদ্ধে
মমতাজ আরা বর্ষা ও তাঁর ছোট বোন শারমিন আক্তার শ্রাবণীর দাবি, ৬ সেপ্টেম্বর বর্ষাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনার সাথে জড়িত শ্রাবণীর সাবেক স্বামী সুমন আহমেদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ, একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ, বিবাহবিচ্ছেদ এবং এ নিয়ে করা মামলা।
শ্রাবণী দ্য ডিসেন্টকে বলেন, সুমনের সঙ্গে তার প্রায় আট বছরের দাম্পত্য জীবন ছিল। তাদের একটি সন্তানও রয়েছে। তবে বিয়ের কয়েক বছর পর থেকে তাদের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে। তার অভিযোগ, সন্তানসহ তাকে দীর্ঘ সময় দিনাজপুরে বাবার বাড়িতে রেখে সুমন ঢাকায় থাকতেন। ঢাকায় নিজের কাছে স্ত্রীকে রাখতে চাইতেন না তিনি।
বর্ষাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তার ভাষ্য, শ্রাবণী ঢাকায় সুমনের সঙ্গে থাকতে চাইলে নানা অজুহাতে তাকে দিনাজপুরে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। একবার বোন জোর করে ঢাকায় গেলে তাকে মারধর করে আবার বাবার বাড়িতে পাঠানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বর্ষা বলেন, “আমার বোন বারবার বলত, তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না। সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকলে গ্রামের মানুষ নানা কথা বলে। আমি তাকে ভাড়া বাসায় ওঠার কথা বলি। পরে সে ঢাকায় গেলেও সুমন তার সঙ্গে থাকত না। একবার আমার বোন ঢাকায় গেলে তাকে মারধর করে আবার পাঠিয়ে দেওয়া হয়।”
শ্রাবণীর অভিযোগ, তাকে দিনাজপুরে রেখে সুমন ঢাকার বাসায় একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন নারীকে বাসায় নিয়ে আসার কথাও পরে জানতে পারেন তিনি।
গত ১৪ ডিসেম্বর তাদের সন্তানের জন্মদিন উপলক্ষে সুমন দিনাজপুরে শ্বশুরবাড়িতে যান। ১৬ ডিসেম্বর তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। এর কিছুদিন পর ‘রিয়ানা’ নামের এক নারী মেসেঞ্জারে শ্রাবণীর সঙ্গে যোগাযোগ করে সুমনের বিষয়ে জরুরি কথা আছে বলে জানান।
শ্রাবণীর ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনালাপে ওই নারী জানান, প্রায় আড়াই বছর ধরে সুমনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল এবং তারা একসঙ্গে থাকতেন। তবে সম্পর্কের শুরুতে সুমন নিজের বৈবাহিক অবস্থা সম্পর্কে তাকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছিলেন।
“মেয়েটি আমাকে বলেছিল, সুমন তাকে বুঝিয়েছে যে আমার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। আমার শারীরিক সমস্যা আছে, তাই শুধু চিকিৎসার প্রয়োজনে যোগাযোগ হয়। সে আমাদের সন্তানের কথাও প্রথমে গোপন করেছিল,” বলেন শ্রাবণী।
পরে সন্তান থাকার বিষয়টি জানার পর ওই নারী সম্পর্ক থেকে সরে যাওয়ার কথা বলেন বলে দাবি শ্রাবণীর। তবে প্রথমে সন্তান থাকার কথা না জানার দাবি করলেও পরে তিনি তা আগে থেকেই জানতেন বলে স্বীকার করেন বলেও জানান শ্রাবণী।
ওই নারীর সঙ্গে কথা বলার পর সুমনের কাছে বিষয়টি জানতে চান শ্রাবণী। তার দাবি, ফোনালাপে সুমন সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। সেই কথোপকথনের কল রেকর্ড ও বার্তা তাঁর কাছে রয়েছে।
শ্রাবণী বলেন, “আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, আমার কী দোষ ছিল? আমাদের আট বছরের সংসার, সন্তান—সব থাকার পরও সে কেন এটা করল? তখন সে বিষয়টি স্বীকার করে।”
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এরপরও তিনি সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। সুমনের কয়েকজন সহকর্মী ও পরিচিত ব্যক্তির উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে সুমন নিজের ‘ভুল হয়েছে’ বলে স্বীকার করেন বলে দাবি করেন তিনি।
“আমি বলেছিলাম, তুমি সবার সামনে ভুল স্বীকার করো এবং মেয়েটিকে ফোন করে বলো, আজকের পর আর যোগাযোগ থাকবে না। কিন্তু আমি তার মুখ দিয়ে ওই কথাটি বলাতে পারিনি,” বলেন শ্রাবণী।
এরপরও সম্পর্কটি চলছিল বলে অভিযোগ তার। এক ঈদের দিন ওই নারীর সঙ্গে সুমনের সিনেমা দেখতে যাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেন তিনি। পরে সেই নারী আবার বর্ষার সঙ্গে যোগাযোগ করে উত্তরায় আরেক নারীর সঙ্গে সুমনের থাকার তথ্য দেন।
শ্রাবণীর দাবি, উত্তরার একটি সাবলেট বাসায় ‘বৃষ্টি’ নামের আরেক নারীর সঙ্গে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে থাকছিলেন সুমন। তারা ওই বাসার মালিকের সঙ্গেও কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, “প্রথম মেয়েটিই আমার বোনকে জানায়, সুমন উত্তরায় আরেকটি মেয়ের সঙ্গে থাকে। আমরা বাড়ির মালিকের সঙ্গেও কথা বলেছি। ওই মেয়ের সঙ্গে সুমনের ছবি এবং অন্য তথ্যও আমাদের কাছে রয়েছে।”
দ্য ডিসেন্টকে ওই দুই নারীর সাথে সুমনের ঘুরাফেরার কয়েকটি ছবি দিয়েছেন শ্রাবণী।
এসব তথ্য পাওয়ার পর বর্ষা পরিচিতদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নারীদের পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে খোঁজ নেন। কয়েকজনের সঙ্গে সরাসরি কথাও বলেন তিনি। শ্রাবণীর দাবি, বড় বোনের এই ভূমিকাই পরে সুমনের ক্ষোভের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।
“আমি ঢাকার বাইরের জগৎ তেমন চিনতাম না। আপুই পরিচিতদের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে মেয়েগুলোর বিষয়ে তথ্য বের করে। সুমন বুঝেছিল, আমি একা এসব করতে পারব না। তখন থেকেই আপুর ওপর তার রাগ তৈরি হয়,” বলেন শ্রাবণী।
বারবার একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসার পর সংসার না করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
“আমি সুমনকে বলেছিলাম, একটি ভুল একবার হতে পারে। কিন্তু একই কাজ যখন বারবার করা হয়, তখন সেটাকে আর ভুল বলা যায় না। সেটা অপরাধের পর্যায়ে চলে যায়। তখন সে বলেছিল, ‘আমার যা খুশি, আমি তা করব। তুই কিছু বলতে পারবি না,’” বলেন শ্রাবণী।
তিনি দাবি করেন, বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তটি তার নিজের ছিল। তবে সুমন মনে করতেন, বর্ষাই তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করেছেন।
শ্রাবণী বলেন, “আমি নিজে থেকেই তাকে ডিভোর্স দিয়েছি। কিন্তু সে মনে করত, আপু আমাকে দিয়ে ডিভোর্স করিয়েছে। মেয়েদের তথ্য আপু বের করেছে—এ কারণেও আপুর ওপর তার ক্ষোভ ছিল।”
বর্ষার ভাষ্য অনুযায়ী, বিচ্ছেদের আগে শ্রাবণীর শারীরিক গঠন নিয়েও অপমানজনক কথা বলতেন সুমন। একপর্যায়ে তাঁর বোন মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। এরপরই বোনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেন বর্ষা।
বিচ্ছেদের দুই দিন পর কোনো ফোন বা পূর্বঘোষণা ছাড়াই গভীর রাতে দিনাজপুরে শ্রাবণীর বাবার বাড়িতে যান সুমন। রাত প্রায় আড়াইটার দিকে তিনি একটানা কলিংবেল বাজাতে থাকেন বলে অভিযোগ।
শ্রাবণী বলেন, “আমি খুব ভয় পেয়ে আপুকে ফোন করি। পাশের বাসার একজন ব্যালকনি থেকে তাকে বলেন, এত রাতে কলিংবেল না বাজিয়ে সকালে আসতে। কিন্তু সে কোনো কথা শুনছিল না।”
এরপর বর্ষা একটি ভয়েস বার্তায় সুমনকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। অন্যথায় তাদের বাবা পুলিশ ডাকবেন বলেও সতর্ক করেন তিনি। বার্তাটি পাওয়ার পর সুমন বাড়ির সামনে থেকে সরে যান বলে জানিয়েছেন শ্রাবণী।
ঘটনাটির পর শ্রাবণীর বাবা ফোন করে গভীর রাতে বাড়িতে যাওয়ার কারণ জানতে চান। শ্রাবণীর ভাষ্য অনুযায়ী, সুমন তখন তাঁর বাবাকে বলেন, তিনি চাইলে পরিবারটির পক্ষে দিনাজপুরে টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।
শ্রাবণী বলেন, “আমার বাবা তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তুমি কি আমার মেয়েকে খুন করতে গিয়েছিলে? তোমাদের বিচ্ছেদ হয়েছে। সন্তানকে দেখতে চাইলে দিনের বেলা আসতে পারো। তখন সে বাবাকে বলে, ‘আমি যদি চাই, আপনাদের দিনাজপুরে টিকে থাকা মুশকিল হয়ে যাবে।’”
বিচ্ছেদের পর সন্তান তাঁর কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সুমন এবং ডিএনএ পরীক্ষা করানোর কথা বলেন বলে অভিযোগ করেছেন শ্রাবণী। এটিকে নিজের চরিত্রের ওপর গুরুতর আঘাত হিসেবে দেখেন তিনি।
“এত বড় একটা অভিযোগ আমি সহ্য করতে পারিনি। তখন প্রথমে জিডি করি। এরপর বাধ্য হয়ে মামলায় যাই,” বলেন শ্রাবণী।

তার দাবি, মামলা করার পর হুমকির মাত্রা আরও বেড়ে যায়। নিজের পরিচিত নম্বরের পরিবর্তে বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি নম্বর থেকে ফোন ও বার্তা পাঠানো হতো। অনেক ক্ষেত্রে বার্তা পাঠানোর পর তা মুছে ফেলা হতো বলেও জানান তিনি।
শ্রাবণী বলেন, “মামলার পর সে বার্তা দিয়ে বলে, ‘তোরা এক ধাপ আগালে আমি পাঁচ ধাপ আগাব। তোরা এখনো আমার রূপ দেখিস নাই।’ সে আমার বাবাকে বলেছে, চাইলে আমাদের পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দিতে পারবে।”
সুমনের সঙ্গে সম্পর্কে থাকা এক নারীও ফোন করে তাদের হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন শ্রাবণী।
“ওই নারী আমাকে বলে, ‘আপনাদের কী হয় দেখেন। এক সপ্তাহের মধ্যে আপনাদের আর আপনার বোনের কী হয়, শুধু দেখেন।’ সুমন যদি তাকে এই সাহস না দিত, সে কীভাবে আমাদের এ কথা বলে?”—বলেন তিনি।
এরপর একটি বার্তায় সুমন পরিবারের সদস্যদের একে একে ‘স্বর্ণ ভরে দেওয়ার’ হুমকি দেন বলে দাবি শ্রাবণীর।
তিনি বলেন, “সে লিখেছিল, ‘এক সপ্তাহের মধ্যে তোদের ওয়ান বাই ওয়ান স্বর্ণ ভরে দেব। তোর বাবা-মা, তোর বোন আর তোকে ওয়ান বাই ওয়ান স্বর্ণ ভরে দেব।’ সেই বার্তার স্ক্রিনশট আমার কাছে আছে।”
পরিবারটির ভাষ্য, ‘স্বর্ণ ভরে দেওয়া’ বলতে চোরাই সোনা বা অন্য কোনো অবৈধ বস্তু দিয়ে তাঁদের ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
শ্রাবণীর দাবি, আরেকটি বার্তায় সুমন বলেন, বিচারককে ১০ লাখ টাকা দিলেও মামলায় তার কিছু হবে না। উল্টো তাঁদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবেন বলেও হুমকি দেন তিনি।
“সে বলেছে, জজকে ১০ লাখ টাকা ছিটিয়ে দিলে মামলায় তার কিছুই হবে না। আমরা যে মামলা করেছি, সেটি দিয়ে তার কিছু করতে পারব না; বরং সে আমাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবে,” বলেন শ্রাবণী।
তার অভিযোগ, বিয়ের সময় এবং পরে তার বাবার কাছ থেকে চাপ প্রয়োগ করে বিভিন্ন সময়ে অর্থ নেওয়া হয়েছে। একটি ব্যাংক লেনদেনের নথিতে তাঁর বাবার কাছ থেকে সুমনের দুই লাখ টাকা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যাবে বলেও দাবি করেন তিনি।
শ্রাবণী বলেন, “আমার বাবা সামান্য চাকরি করেন। মেয়ের সংসার ভালো থাকবে—এই আশায় চাপের মুখে তিনি দুই লাখ টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার সংসারও টেকেনি, সন্তানও বাবার আদর থেকে বঞ্চিত হয়েছে।”
বর্ষা ও শ্রাবণীর ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার পর সুমনের ক্ষোভ মূলত বর্ষার দিকে যায়। তিনি বারবার শ্রাবণীকে বলতেন, বর্ষা ‘বাড়াবাড়ি করছেন’ এবং তাঁকে থামাতে হবে।
বর্ষা বলেন, “সে আমার বোনকে বারবার বলত, ‘তোর বোন বাড়াবাড়ি করছে। তোর বোনের পেছনে কে আছে? তোর দ্বারা এসব সম্ভব নয়। তোর বোনকে থামতে বল, না হলে দেখে নেব।’”