Indian Users Share Old Video as Attack on Girls’ Education in Bangladesh
বাংলাদেশে মেডিকেল কলেজে মুসলিম পুরুষরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে এবং "নারীদের শিক্ষা দেওয়া হারাম" বলে তাদের পড়াশোনা বন্ধ করতে বাধ্য করেছে দাবিতে একটি ভিডিও প্রচার করছেন ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা।
দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এবং এখানে।
দ্য ডিসেন্ট এর যাচাইয়ে দেখা যায়, প্রচারিত দাবিটি অসত্য। ২০২৪ সালে মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তির ভিডিও ফুটেজ ব্যবহার করে ভুলভাবে সাম্প্রদায়িক হামলা বলে প্রচার করা হয়েছে।
ভিডিওটির কি-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ৩০ অক্টোবর ২০২৪ এ প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে “সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়া তরুণ ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’, আটকে রাখা হতো ঘরে” শিরোনামে এক|টি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনের ছবির সাথে আলোচিত ভিডিওটির কি-ফ্রেমের মিল রয়েছে।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ‘রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শ্রেণিকক্ষে লাঠি হাতে ঢুকে পড়া তরুণ জুবায়ের আলী (২০) প্রায় ১০ বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। পরিবারের দাবি, মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তাঁকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হতো। ছেড়ে দিলেই তিনি দূরদূরান্তে চলে যেতেন। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছিল।
সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ক্লাস চলাকালে লেকচার গ্যালারিতে লাঠি হাতে ঢুকে পড়েন ওই তরুণ। তাঁর মাথায় কালো কাপড় বাঁধা ছিল। তিনি চিৎকার করে কিছু বলছিলেন আর লাঠি দিয়ে মেঝেতে আঘাত করছিলেন। এতে ক্লাসের শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানালে পুলিশ আসার আগেই তিনি চলে যান। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, জুবায়ের আলী কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার গাইটাল পাক্কার মাথা এলাকার সুলতান মিয়ার ছেলে। লাঠি হাতে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর কিশোরগঞ্জ থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যায় ঢাকার কোতোয়ালি থানা-পুলিশের একটি দল। পরিবারের দাবির বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পুলিশ কিছুই বলতে পারছে না।
জুবায়েরের মা সুফিয়া আক্তার বলেন, নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় হঠাৎ একদিন তাঁর ছেলে ঘুম থেকে এক মেয়ের নাম বলে চিৎকার করে ওঠে। এর পর থেকেই সমস্যা। তবে ওই মেয়েকে তাঁরা কখনো দেখেননি। প্রায় ১০ বছর ধরে ছেলেকে নিয়ে ভুগছে পরিবার। জুবায়ের যখন পাগলামি করেন, তখন তাঁকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। রাজধানীর এক মানসিক চিকিৎসকের পরামর্শে ছেলেকে ঘর ছেড়ে দিয়েছিলেন। ওই চিকিৎসক বলেছিলেন, ছেড়ে দিয়ে রাখলে জুবায়ের একদিন সুস্থ হয়ে যাবেন।”