Patient Dies in Ambulance Stuck in Dhaka Traffic, Not NCP Convoy Vehicle
নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সিলেট এমসি কলেজ শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তেলেন্ত কান্তি দাস ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘তাদের কাছে মানুষের জীবনের মূল্য নেই। তাদের পিছনে থাকা এম্বুল্যান্সের রোগীটি মারা গিয়েছে। লং মার্চের নামে এমন নাটকের জন্য একটা প্রাণ চলে গেলো।’’
পোস্টটিতে তিনি কালবেলার একটি সংবাদ ফটোকার্ড এবং ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের একটি ছবি যুক্ত করেন।
ছবিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে করমর্দন করতে দেখা যায়। তাদের গাড়ির কিছুটা পেছনে একটি অ্যাম্বুল্যান্সে সদৃশ গাড়ির লাল-সবুজ সাইরেন লাইটও দেখা যায়।
পোস্টটি পরবর্তীতে আওয়ামীপন্থী বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও শেয়ার ও রিপোস্ট করা হয়। দেখুন এখানে ও এখানে।
তবে দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, যানজটে আটকে পড়ে যে অ্যাম্বুল্যান্সে রোগীর মৃত্যু হয়েছে, সেটি নাহিদ ইসলামের গাড়িবহরের পেছনে থাকা অ্যাম্বুল্যান্স নয়।
ভাইরাল ছবিটি তোলা হয়েছিল কুমিল্লার নিমসার বাজার এলাকায়। আর সংবাদমাধ্যমের প্রমাণ অনুযায়ী, অ্যাম্বুলেন্সে মৃত্যুর ঘটনা ঢাকার যানজটের কারণে হয়েছে।
এদিকে এনসিপির গাড়িবহরের পেছনে থাকা অ্যাম্বুল্যান্সটি তাদের নিজেদের জন্য রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন এনসিপির মিডিয়া সেলের উপ-কমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত। তবে দ্য ডিসেন্ট এ দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
ছবিটি কুমিল্লার, রোগীর মৃত্যু ঢাকার যানজটে
দাবির পক্ষে ব্যবহৃত নাহিদ ইসলামের গাড়িবহরের ছবিটির মূল সংস্করণ সংগ্রহ করেছে দ্য ডিসেন্ট। ছবিটির মেটাডাটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এটি ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে তোলা হয়েছে।
ছবিটির এক অংশে নিমসার বাজার নূরে মদিনা ইসলামিয়া এর ভর্তির লিফলেট ছিল। নাহিদ ইসলামের ফেসবুক একাউন্টে ৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে পোস্ট করা একটি ভিডিওটিতে নিমসার উচ্চ বিদ্যালয় জামে মসজিদ দেখা যায়।
অর্থাৎ, ছবিটি তোলা হয়েছিল কুমিল্লার নিমসার বাজার এলাকায়।
অন্যদিকে, যে অ্যাম্বুল্যান্সে থাকা রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দাবিটি ছড়ানো হয়েছে, সেটি বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রওনা হয়েছিল। আর অ্যাম্বুল্যান্সটি মূলত যানজটে পরেছিল ঢাকায়।
সংবাদমাধ্যমে দেওয়া নিহতের ছেলে রুবেল সরদারের ভাষ্যমতে, ‘‘হানিফ ফ্লাইওভার হয়ে ঢাকায় প্রবেশের পথে যানজটের কবলে পড়েন তারা। মহাখালীর কলেরা হাসপাতালে (আইসিডিডিআরবি) যাওয়ার পথে একাধিক পয়েন্টে তীব্র যানজটের কারণে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকা পড়ে থাকে তাদের অ্যাম্বুলেন্সটি। দুপুর দেড়টার দিকে গাড়িটি যখন কলেরা হাসপাতালের গেটে পৌঁছায়, ততক্ষণে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই তার বাবা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।’’
অর্থাৎ, ছেলের ভাষ্য অনুযায়ীও এনসিপির গাড়িবহরের যানজটে আটকে পরার কারণে মৃত্যুর প্রমাণ মেলে না।