Road Widening, Not Religious Targeting, Led to Demolition of Temple and Mosque
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী পৌরসভায় চার লেন সড়ক নির্মাণের জন্য একটি পুরোনো ও পরিত্যক্ত হিন্দু মঠ ভেঙে ফেলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রদায়িক দাবিতে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যান স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিযোগের বরাত দিয়ে দাবি করেছে, ৫০০ বছরের পুরোনো স্থাপনাটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
একই দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি পোস্ট দেখা যাবে এখানে, এখানে ও এখানে।
তবে দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, সাম্প্রদায়িক কারণে মঠটি ভেঙে ফেলার দাবি সঠিক নয়। স্থানীয়ভাবে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সোনাইমুড়ী-চাটখিল চার লেন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে স্থাপনাটি অপসারণ করা হয়েছে।
একই প্রকল্পের আওতায় ওই এলাকায় একটি মসজিদসহ আরও কিছু স্থাপনাও ভেঙে ফেলা হয়েছে।
১৬ জুলাই ‘সাংবাদিক ফখর উদ্দিন’ নামের একটি ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এর ক্যাপশনে বলা হয়, সোনাইমুড়ী পৌরসভায় চার লেন সড়ক নির্মাণকাজের সময় একটি পাঞ্জেগানা মসজিদ ভাঙতে গিয়ে একটি এক্সকাভেটর বা ভেকু উল্টে গেছে।
ভিডিওতে একটি এক্সকাভেটরকে উল্টে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
পরদিন, ১৭ জুলাই ‘Noakhali City–The Royal City of Bangladesh’ নামের আরেকটি ফেসবুক পেজে একই ঘটনার ছবি প্রকাশ করা হয়। ওই পোস্টের ক্যাপশনেও সোনাইমুড়ী শপিং কমপ্লেক্সের সামনে একটি পাঞ্জেগানা মসজিদ ভাঙার সময় এক্সকাভেটর উল্টে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
ঘটনাটি সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ আহমেদের সঙ্গে কথা বলেছে দ্য ডিসেন্ট।
তিনি বলেন, চার লেন সড়ক নির্মাণের জন্যই ওই এলাকার স্থাপনাগুলো অপসারণ করা হচ্ছিল। তার দাবি, শুধু হিন্দু মঠ নয়, একই প্রকল্পের আওতায় কয়েকটি মসজিদও ভেঙে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিক সিদ্দিকুর রহমানও দ্য ডিসেন্টকে জানান, মঠটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। চার লেন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কারণেই এটি অপসারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সড়ক নির্মাণকাজের অংশ হিসেবেই মঠ ও মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে।
সোনাইমুড়ী থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক রেজাউল দ্য ডিসেন্টকে বলেন, সোনাইমুড়ী-চাটখিল চার লেন সড়ক নির্মাণের জন্য এলাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রম চলছে।
সড়ক প্রশস্ত করার কারণে কয়েকটি পুরোনো মসজিদও ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে জানান তিনি।
নোয়াখালী সড়ক বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. আলা উদ্দিনও বলেন, কয়েকটি ধর্মীয় স্থাপনা চার লেন সড়ক প্রকল্পের আওতায় পড়েছে। একই এলাকায় একটি পাঞ্জেগানা মসজিদও ভেঙে ফেলা হয়েছে।
মঠটি নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের বক্তব্য
বিষয়টি নিয়ে সোনাইমুড়ী উপজেলা মন্দির কমিটির সভাপতি প্রদীপ চন্দ্র সাহার সঙ্গেও কথা বলেছে দ্য ডিসেন্ট।
তিনি জানান, ভেঙে ফেলা মঠটি পাশের একটি চৌধুরী পরিবারের ছিল এবং এটি কয়েকশ বছরের পুরোনো।
“আমার জন্মের বহু আগে, এমনকি আমার ১০৭ বছর বয়সী দাদার জন্মের আগেও মঠটি সেখানে ছিল,” বলেন তিনি।
প্রদীপ চন্দ্র সাহা জানান, সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য প্রায় ছয় মাস থেকে এক বছর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থাপনাটি চিহ্নিত করে লাল দাগ দিয়ে যায়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মঠটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ছিল। ১৯৬৯ সালেই সড়ক নির্মাণের জন্য ওই জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। একই অধিগ্রহণের আওতায় তার নিজের বাড়ির একটি অংশও পড়েছে।
তিনি বলেন, অধিগ্রহণ করা জমির জন্য সরকার ক্ষতিপূরণও দিয়েছে।
প্রদীপ চন্দ্র সাহার দাবি, একই সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে একটি মসজিদও ভেঙে ফেলা হয়েছে। মসজিদটি তুলনামূলক নতুন হলেও সড়কের মধ্যে পড়ায় সেটিও অপসারণ করা হয়।
ভারতের একটি মসজিদসংক্রান্ত ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে কিংবা সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে হিন্দু মঠটি ভেঙেছে, এমন দাবিও নাকচ করেন তিনি।
দ্য ডিসেন্টকে তিনি বলেন, “এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এখানে এই মঠ নিয়ে কোনো হিন্দু প্রতিবাদ করেনি। কেউ দাঁড়িয়ে মঠ ভাঙতে বাধাও দেয়নি। কারণ, মঠটির মালিকানা দাবি করার মতো কেউ ছিল না। যাদের মালিকানা ছিল, তারা বহু আগে জায়গা-জমি বিক্রি করে ভারতে চলে গেছেন। মঠটি অনেক দিন ধরেই পরিত্যক্ত ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “অনেকে বিষয়টিকে হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সোনাইমুড়ীতে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি হয়নি। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিবাদ হয়নি।”
“সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য শুধু এই মঠ নয়, আশপাশের আরও স্থাপনা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের বাড়ির অংশও ভাঙা হয়েছে,” বলেন তিনি।