Student Who Died by Suicide Misidentified as Protest Shooting Victim
ফেসবুকে সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের শাহবাগ থানা সহ-সভাপতি পরিচয় দেওয়া MD Mosarof Hossen নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে নাগরিক টিভির লোগো সম্বলিত একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, গতকাল ১৪ জুলাই সংসদ ভবনের সামনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জের সময় এক ছাত্রী বাধা দিতে গেলে পুলিশ তাকে গুলি করে হত্যা করে। পোস্টে আরও দাবি করা হয়, গুলি করে হত্যার পর ঐ শিক্ষার্থীর লাশ গুম করা হয়েছে।
তবে দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, দাবিটি সঠিক নয়। আলোচিত ছাত্রী পুলিশের গুলিতে নিহত হননি। বরং তিনি এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন শুরুর আগেই আত্মহত্যা করেছিলেন বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
দাবির সূত্র ধরে নাগরিক টিভির ফেসবুক পেইজে গিয়ে দেখা যায়, ১৪ জুলাই দিবাগত রাত ১২টা ৬ মিনিটে ‘‘পুলিশি লাঠিচার্জের জেরে ক্ষোভ ঝাড়লেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা’’ শিরোনামে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়।’’
ভিডিওটির ৪০ সেকেন্ডে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বলতে শোনা যায়, ‘‘যখন একটা স্টুডেন্ট আত্মহত্যা করে…। আমাদের যেই বোন মারা গেছে ওই বোনের জবাব দিতে হবে শিক্ষামন্ত্রীকে। এটা মারা যায়নাই, এটা মার্ডার হইছে।’’
ভিডিওটিতে কোথাও ওই ছাত্রীর পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার দাবি করা হয়নি। বরং একজন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আত্মহত্যায় মারা যাওয়া শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে ‘মার্ডার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বক্তব্য দিচ্ছিলেন।
১৪ জুলাই সংসদ ভবনের সামনে আন্দোলনরত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের খবর ও ভিডিও পাওয়া গেলেও পুলিশের গুলিতে কোনো শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। দেশের মূলধারার কোনো সংবাদমাধ্যমও এমন কোনো ঘটনা প্রকাশ করেনি।
আলোচিত ছাত্রীর মৃত্যুর বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড সার্চে ১২ জুলাই একাধিক সংবাদমাধ্যমে ‘‘পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা’’ শিরোনামে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। দেখুন এখানে, এখানে ও এখানে।
খবরে বলা হয়েছে, ‘‘রাজশাহীর দুর্গাপুরে এইচএসসি পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় গলায় ফাঁস নিয়ে এক পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। আজ রোববার বেলা ২টার দিকে উপজেলার পানানগর ইউনিয়নের গুনাজিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দিশা রানী মহন্ত গুনাজিপাড়া গ্রামের দ্বিজেন্দ্রনাথ মহন্তের মেয়ে। তিনি পুঠিয়া উপজেলার ধোকড়াকুল ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।’’
দিশার চাচা প্রশান্ত কুমার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘গত বছর আইসিটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পর থেকে দিশা রানী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। এ বছর আবারও পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। কিন্তু পরীক্ষা ভালো হয়নি। হতাশায় আত্মহত্যা করেছে।’’
অর্থাৎ, ‘‘আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে এক ছাত্রী নিহত হয়েছে’’ এমন দাবি ভিত্তিহীন। প্রকৃতপক্ষে, আলোচিত ছাত্রী রাজশাহীতে পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় আত্মহত্যা করেছিলেন। নাগরিক টিভির ভিডিওকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর দাবি ছড়ানো হয়েছে।