How the Media Erased the Real Reason Behind Jyotika Jyoti’s Tears
গতকাল (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় অভিনেত্রী জোতিকা জ্যোতি এক ফেসবুক লাইভে এসে কান্নারত অবস্থায় নিজের বর্তমান পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগপন্থী হিসেবে পরিচিত অভিনেত্রী জ্যোতি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে আওয়ামীপন্থী শিল্পীদের নিয়ে গঠিত বিতর্কিত ‘আলো আসবেই’ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের একজন সদস্য ছিলেন।
গতকালের আধাঘণ্টা দীর্ঘ এই ফেসবুক লাইভে তিনি তার বর্তমান পরিস্থিতি ও অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন। ‘হেল্পলেস’ অনুভব করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নিজের অসহায়ত্ব ও কষ্টের কারণ হিসেবে কী বলেছেন জ্যোতি?
জ্যোতি দীর্ঘ বক্তব্যে তার অসহায়ত্বের পেছনে দুই ধরনের কারণের কথা উল্লেখ করেছেন।
এক. আওয়ামী লীগের পতনের পর থেকে তিনি (আরও অনেক শিল্পীর সাথে) একঘরে ও বেকার হয়ে আর্থিক কষ্টে পড়েছেন এবং ২৪ এর আন্দোলন সংক্রান্ত মামলার কারণে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
দুই. অতি সম্প্রতি তিনি আওয়ামী লীগের অনলাইন এক্টিভিস্টদের একটি পক্ষের দ্বারা সংঘবদ্ধভাবে স্লাটশেমিংয়ের শিকার হয়েছেন যা তিনি ‘আর নিতে পারছেন না’ এবং এটি তার ‘সমস্ত ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা শেষ’ করে দিয়েছে। এবং মূলত এই অনলাইন বুলিংয়ের শিকার হওয়ার মাধ্যমে ‘ধৈর্য শেষ’ হওয়ার কারণেই তিনি ফেসবুক লাইভে এসেছেন।
দীর্ঘ ভিডিওতে জ্যোতি তার ভোগান্তির পেছনে উপরিউক্ত দুই ধরণের কারণ বর্ণনা করেছেন। ২৯ মিনিটের ভিডিওর ৪:৪০ মিনিট থেকে ১০:২৫ মিনিট পর্যন্ত সময়ে তিনি যা বলেছেন তা হুবহু নিচে তুলে ধরা হলো:
“গত দুই বছর ধরে দেশের এই পলিটিক্যাল সিচুয়েশনে আমি যে যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি, এটা কেউ জানে না।
যেহেতু আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক, কারণ আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি... সে কারণে একটা শ্রেণীর মানুষ আমাকে প্রতিনিয়ত হুমকি, নির্যাতন অনলাইনে বুলিং করে আসছে। এগুলোতে আমার কিছু যায় আসে না। আমি সহ্য করেছি, আমি কোনোদিন কারো সাথে শেয়ার করিনি।
এবং সম্প্রতি যেহেতু ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট’ ট্যাগ পেয়েছি... মানে আমাকে এই টাইটেল দেওয়া হয়েছে, ‘স্বৈরাচারের দোসর’। রাষ্ট্রীয়ভাবে আমাকে অনেকগুলো মামলা দেওয়া হয়েছে।
আমি প্রায় দেড় বছর ঘরবন্দী ছিলাম, কোথাও বের হতে পারিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে।
আর হচ্ছে যে... সরকার সম্প্রতি আরেকটা কাজ করেছে যেটা আমি এই মুহূর্তে লাইভে বলতে চাইনি। এটার পরে আমি অনেক বেশি ভেঙে পড়েছি। কিন্তু আমি আসলে কখনোই পালিয়ে দেশ ছেড়ে চলে যা- যেতে চাই না, যাব না আসলে।
তো এই সবকিছু আমি মেনে নিচ্ছিলাম। কিন্তু সম্প্রতি যেই ঘটনাটা ঘটেছে, সেটা আমি মেনে নিতে পারছি না গত দুই দিন ধরে। আওয়ামী লিগের একটা গ্রুপ, যাদেরকে আমরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এবং... তুলনামূলকভাবে ভালো বলেই জানি তারা আমাকে নিয়ে এই লেভেলের হ্যারাসমেন্ট করেছে যে, আমি এটা নিতেই পারছি না। তাদের লেখালেখি এসব কিছু পড়ে আমার কাছে মনে হয়েছে যে একটা প্রস্টিটিউট ছাড়া আর কোনো কিছু না। আমার সারা জীবনের শিক্ষা, আমার স্বপ্ন, আমার অবস্থান—সবকিছু আমার কাছে মিথ্যা মনে হচ্ছে।
এবং যাদের বুঝার কথা ছিল যে, না এরকম হওয়া উচিত না আমার সাথে, তারা সবাই নীরব এবং আমাকে কোনো রকমের কোনো হেল্প করেনি। উল্টো আমাকে বলা হচ্ছে যে আমি আওয়ামী লীগ আমলে হাজার কোটি টাকা ইনকাম করেছি। অথচ আমার এখন আমার কাছে আমার ট্রিটমেন্ট করার টাকা নেই।
গত দুই বছর ধরে আমি কোনো কাজ করি না। আমি ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে পারি না। কারণ... মিডিয়া থেকে আমাকে পুরোপুরি ব্লক করা হয়েছে। আমাকে বলা হচ্ছে যে, ‘আলো আসবেই’ গ্রুপে আমি কেন ছিলাম? সাধারণ যোগাযোগের একটা গ্রুপকে একটা ভয়াবহ কিছু ইমেজ দাঁড় করানো হয়েছে, যার জন্য টোটাল সামাজিকভাবে আমাদেরকে বয়কট করা হয়েছে। শিল্পকলা একাডেমিতে আমাকে মব করা হয়েছে... ‘আলো আসবেই’ গ্রুপের দোহাই দিয়ে। আমার বাড়িতে মব পাঠানো হয়েছে আওয়ামী লীগের দোহাই দিয়ে। আমাকে বেকার বানানো হয়েছে পুরোদমে আওয়ামী লিগের দোসর... মানে স্বৈরাচারের দোসর বলে। আমাকে হত্যা মামলার আসামি বানানো হয়েছে।
তো... আর সেই... সেই আওয়ামী লীগদের কারো কারো কাছ থেকেই শুনতে হচ্ছে যে, আমি... মানে যে তিনটি শব্দ আমাকে প্রতি মুহূর্তে হ্যামার করছে... ‘আমরা খাট কাঁপাই’, ‘আমরা বিছানা গরম করি’, মানে একটা নারীকে স্ল্যাট-শেমিং করার জন্য যতগুলো নোংরা নোংরা কথা বলতে হয়, তার কোনো কিছুই বাদ নেই। আমি এগুলো নিতে পারছি না। আমি নিতে পারছি না এবং যাদেরকে আমাদের পক্ষের লোক ভাবি, তাদের পক্ষ... তাদের থেকে এই ধরণের কথা তো আর নিতেই পারছি না। আমার সমস্ত ধৈর্যের, আমার সব ক্ষমতা শেষ। তার মধ্যে সরকার পক্ষ থেকে মামলা... কোথাও যেতে পারছি না আমি।”
আ.লীগপন্থীদের স্লাটশেমিং ক্যাম্পেইন জ্যোতিকে অতিষ্ঠ করেছে
জ্যোতিকা জ্যোতির কান্নারত বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তিনি মূলত ফেসবুক লাইভে এসেছেন আওয়ামী লীগের একটি পক্ষের অনলাইনে স্লাটশেমিংয়ের শিকার হয়ে। অন্য কারণগুলো গত দুই বছর ধরে তিনি সহ্য করছিলেন, কিন্তু আওয়ামীপন্থীদের স্লাটশেমিংয়ের শিকার হয়ে তার আর ‘নিতে না পেরে’ লাইভে এসেছেন।
আওয়ামীবিরোধীদের এবং সরকারের মাধ্যমে কথিত হয়রানির শিকার হওয়ার বর্ণনা দিয়ে জ্যোতি বলেছেন, “তো এই সবকিছু আমি মেনে নিচ্ছিলাম। কিন্তু সম্প্রতি যেই ঘটনাটা ঘটেছে, সেটা আমি মেনে নিতে পারছি না গত দুই দিন ধরে। আওয়ামী লিগের একটা গ্রুপ, যাদেরকে আমরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এবং... তুলনামূলকভাবে ভালো বলেই জানি তারা আমাকে নিয়ে এই লেভেলের হ্যারাসমেন্ট করেছে যে, আমি এটা নিতেই পারছি না। তাদের লেখালেখি এসব কিছু পড়ে আমার কাছে মনে হয়েছে যে একটা প্রস্টিটিউট ছাড়া আর কোনো কিছু না। আমার সারা জীবনের শিক্ষা, আমার স্বপ্ন, আমার অবস্থান—সবকিছু আমার কাছে মিথ্যা মনে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেছেন, “সেই আওয়ামী লীগদের কারো কারো কাছ থেকেই শুনতে হচ্ছে যে, আমি... মানে যে তিনটি শব্দ আমাকে প্রতি মুহূর্তে হ্যামার করছে... ‘আমরা খাট কাঁপাই’, ‘আমরা বিছানা গরম করি’, মানে একটা নারীকে স্ল্যাট-শেমিং করার জন্য যতগুলো নোংরা নোংরা কথা বলতে হয়, তার কোনো কিছুই বাদ নেই। আমি এগুলো নিতে পারছি না। আমি নিতে পারছি না এবং যাদেরকে আমাদের পক্ষের লোক ভাবি, তাদের পক্ষ... তাদের থেকে এই ধরণের কথা তো আর নিতেই পারছি না। আমার সমস্ত ধৈর্যের, আমার সব ক্ষমতা শেষ।”
মিডিয়ায় গায়েব হয়ে গেল আওয়ামী স্লাটশেমিংয়ের অংশটি
জ্যোতির লাইভ ভিডিওর বক্তব্য নিয়ে দেশের শীর্ষ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো খবর প্রকাশ করেছে। কিন্তু বেশিরভাগ মিডিয়াতে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জ্যোতির করা স্লাটশেমিং ও অনলাইন বুলিংয়ের অভিযোগগুলো এড়িয়ে গিয়ে শুধু তার কাজ না পাওয়ার কারণে আর্থিক কষ্টে থাকার বিষয়টি হাইলাইট করা হয়েছে।
যেসব সংবাদমাধ্যম আওয়ামী স্লাটশেমিংয়ের প্রসঙ্গটি তাদের রিপোর্ট থেকে গায়েব করেছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো: দৈনিক প্রথম আলো, যুগান্তর, ইত্তেফাক, চ্যানেল ২৪, স্টার নিউজ, আরটিভি, দেশ রূপান্তর, কালবেলা, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি, দৈনিক সংবাদ, টাইমস অব বাংলাদেশ, ইনকিলাব, ভোরের কাগজ, জাগো নিউজ, বাংলা ট্রিবিউন, বার্তা ২৪, বাংলা টিভি, ডেইলি অবজার্ভার, এনপিবি, ঢাকা মেইল, বাংলাদেশ টাইমস ইত্যাদি।


প্রথম আলো শিরোনাম করেছে, “ফেসবুক লাইভে অঝোরে কাঁদলেন অভিনেত্রী, জানালেন আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার কথা”।
বাংলা ট্রিবিউন শিরোনাম করেছে, ‘‘দুই বছর কাজ নেই, ফেসবুক লাইভে কাঁদলেন জ্যোতিকা জ্যোতি’’।
যুগান্তর শিরোনাম করেছে, ‘‘লাইভে এসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ‘আলো আসবেই’ গ্রুপের জ্যোতিকা’’।
আরটিভির শিরোনাম, ‘‘হঠাৎ লাইভে ‘আলো আসবেই’ গ্রুপের জ্যোতিকা, কাঁদলেন আঝোরে’’।

জ্যোতিকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ক্যাম্পেইন করেছে আওয়ামীপন্থীরা
জ্যোতিকা জ্যোতিকে নিয়ে আওয়ামী লীগের বেশ কিছু এক্টিভিস্ট সাম্প্রতিক সময়ে সংঘবদ্ধভাবে ক্যাম্পেইন করেছেন। এসব এক্টিভিস্টদের মধ্যে রয়েছেন ডাল্টন সৌভাত হীরা, ডাক্তার আইজুদ্দিন ওরফে শরীফ আজাদ, সামিউল বাসির প্রমুখ।

সামিউল বাসির সম্প্রতি রোকেয়া প্রাচীর পাঁচতারকা হোটেলে অবস্থানের ‘রাজকীয়’ ছবির পোস্টের স্ক্রিনশট দিয়ে সমালোচনা করে পোস্ট করলে সেখানে প্রাচীর পক্ষে কমেন্ট করেন জ্যোতিকা জ্যোতি। এরপর সেখান থেকে আওয়ামী পন্থী ডালটন সৌভাত হীরাসহ একাধিক এক্টিভিস্ট তাকে সমালোচনা করে পোস্ট করেন। সেসব পোস্টে ও পোস্টের কমেন্টে অনেকে নোংরা ভাষায় জ্যোতিকা জ্যোতিকে ঘিরে মন্তব্য করেন।
‘বিছানা গরম করা স্লাট’, ‘আবাসিক হোটেল কর্মী’, ‘বারো ভাতার’, ‘খা*কি’, ‘খাট পালঙ্কে ভুমিকম্প তোলা ব্যবসায়ী’ ইত্যাদি শব্দচয়নের মাধ্যমে তার সম্পর্কে মন্তব্য করা হয়।