Indian Media Recycle Two-Year-Old Reports on Jamaat Ban in Bangladesh
গতকাল (২ আগস্ট) ভারতীয় সাংবাদমাধ্যম Zee News একটি ফটোকার্ড পোস্ট করে। যার শিরোনাম ছিল- ‘বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী ও এর ছাত্রসংগঠনকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা’। ক্যাপশনে দাবি করা হয়, ‘‘বাংলাদেশ সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী ও এর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষণা করেছে।’’
এতে আরও লেখা হয়, ‘‘এ সংক্রান্ত একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে এমন কর্মকাণ্ডের আশঙ্কার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির এবং তাদের সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে সরকার বলেছে, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে কথিত সম্পৃক্ততা নিয়ে উদ্বেগের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’
জি নিউজ ছাড়াও DNA India নামক ভারতীয় আরেকটি সংবাদমাধ্যমও একই প্রতিবেদন করেছে।
এছাড়া জি নিউজের হিন্দি ভার্সন, নিউজ১৮ এবং পত্রিকা নামক সংবাদমাধ্যমেও হিন্দি ভাষায় একই খবর গত ১ আগস্ট তাদের ওয়েবে প্রকাশ করেছে।
খবরটি ২০২৪ সালের। ২০২৪ সালের ১ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বৈষম্যবিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের এক নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে। পরবর্তীতে ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী হাসিনার পতনের পর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাটি একই মাসের ২৮ তারিখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রত্যাহার করে নেয়।
মূলত সেই নিউজকে বিভ্রান্তিকরভাবে আবারও প্রকাশ করছে ভারতীয় এসব সংবাদমাধ্যম। এরমধ্যে জি নিউজ হিন্দি এবং নিউজ ১৮ হিন্দি ভার্সনে বর্তমান ক্ষমতাসীন তারেক রহমান সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে উল্লেখ করেছে।
বাংলাদেশ সরকার বর্তমান জাতীয় সংসদের বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করেনি। এ সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপনও জারি করা করেনি বর্তমান সরকার।
তবে বর্তমানে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ও ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ আছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানবাধিকার লঙ্ঘন, হত্যাকাণ্ড, এবং রাষ্ট্রবিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে।