July Museum Targeted Before Opening with False and Half-True Claims
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর তার কার্যালয় গণভবনকে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে রুপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট জাদুঘরটি উদ্বোধনের কথা থাকলেও সেটি হয়নি। অবশেষে এই বছর ৫ আগস্ট জাদুঘরটি উদ্বোধন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার।
শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনে গুম, খুন সহ মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং জুলাই আন্দোলনের সময় চালানো বর্বরতার বিভিন্ন ধরনের প্রামাণ্য নথিপত্র ও নিদর্শনাবলীর সংরক্ষণাগার এই জাদুঘরটি উদ্বোধনের আগে এটিকে ঘিরে নেতিবাচক সংঘবদ্ধ প্রচারণা শুরু হয়েছে। এই প্রচারণায় বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম অংশগ্রহণ করেছে।
এর মধ্যে তিনটি সংবাদমাধ্যমে– দৈনিক মানবজমিন, দৈনিক কালের কণ্ঠ এবং একাত্তর টেলিভিশনে প্রকাশিত তিনটি প্রতিবেদনে থাকা সবগুলো দাবি যাচাই করে দেখার চেষ্টা করেছে দ্য ডিসেন্ট।
গত ৪ জুলাই একাত্তর টিভিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি শিরোনাম ছিল, “প্রায় দেড়শো কোটি টাকা নিয়ে নয়ছয়! ডকুমেন্টারি বানানোর ঠিকানায় মিললো অটোরিক্সা গ্যারেজ!”। সুমন তানভীর নামে একজন সাংবাদিক ‘অনুসন্ধানী’ প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন।
এর আগে ২৮ এপ্রিল দৈনিক মানবজমিন “এলাহী কারবার ফারুকীর” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
একই প্রতিবেদন হুবহু কপি পেস্ট করে “ফারুকীর আমলে জুলাই জাদুঘর প্রকল্পে হরিলুট” শিরোনামে প্রকাশ করে কালের কন্ঠ।
এসব প্রতিবেদনে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণে বেশ কিছু অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে।
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনটি মানবজমিনের প্রতিবেদনের হুবহু কপি হওয়ায় দ্য ডিসেন্ট একাত্তর টিভি এবং মানবজমিনের প্রতিবেদন দুটিতে থাকা অভিযোগগুলো আলাদাভাবে চিহ্নিত করে সেগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে করে দেখেছে দ্য ডিসেন্ট। এতে দেখা গেছে, একাত্তর টিভি এবং মানবজমিনের প্রতিবেদনে একাধিক দাবি অসত্য এবং কয়েকটি দাবির ক্ষেত্রে অর্ধসত্য তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে যাওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
একাত্তর টিভির প্রতিবেদনে যত অভিযোগ
১. শিরোনামে উল্লেখ করা হয়েছে ‘দেড়শো কোটি টাকা নিয়ে নয়ছয় করা হয়েছে’।
২. প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ‘কোনো ভবন নির্মাণ ছাড়াই এতো টাকা খরচ কোথায় হলো?’
৩. দাবি করা হয়েছে, ১৯টি প্রামাণ্যচিত্র তৈরিতে ৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে এবং ৪/৫ মিনিট দৈর্ঘ্যের একেকটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে খরচ দেখানো হয়েছে ২৭ লাখ টাকার বেশি।
৪. বলা হয়েছে, “প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে কাজ দেওয়া হয়েছে মিনহাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে যাদের ঠিকানায় গিয়ে পাওয়া গিয়েছে অটোরিকশা তৈরির দোকান।”
৫. প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, “ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে গায়েবী প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে উত্তোলন করা হয়েছে নির্মাণ খরচের টাকা। জাদুঘরের ভেতরে ভাস্কর্য নির্মাণ করেছে তেজস হাওলাদারের মাটি স্টুডিও। অথচ খাতা কলমে কাজটি করার কথা এইচকে ইন্টারন্যাশনাল নামে আরেক প্রতিষ্ঠানের।”
৬. নকশা প্রণয়নে কাজ দেওয়া হয়েছে যে প্রতিষ্ঠানকে সে প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন খোদ জাদুঘরের ট্রাস্টিবোর্ডের সভাপতি মেরিনা তাবাসসুম। মূলত এখানে ‘স্বার্থের সংঘাত’ এর প্রশ্ন তোলা হয়েছে একাত্তর টিভির প্রতিবেদনে।
৭. টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আপ্যায়ন বিল দ্বিগুণ, তিনগুণ দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে’।
৮. খাবার কেনা হয়েছে প্রবর্তনা রেস্টুরেন্ট থেকে। কিন্তু তাদেরকে বিল পরিশোধ করা হয়েছে যেই ব্যাংক একাউন্টে সেটি রেস্টুরেন্টের একাউন্ট না।
৯. স্বেচ্ছাসেবকদের টাকা দেওয়ার কথা বলে সাদা কাগজে সই করে জাদুঘরের তহবিল থেকে ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
১০. জাদুঘরটির বাউন্ডারি নির্মাণে ৬৪ লাখ টাকা খরচ দেখিয়েছে জাদুঘর, কিন্তু সম্পুর্ণ নির্মাণ কাজ করেছে গণপূর্ত বিভাগ।
১১. “বিশেষ আশীর্বাদে যোগ্যতা না থাকলেও একজন ফটোগ্রাফারকে বসানো হয়ে পদে বসানো হয়েছে জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে।”
মানবজমিনের প্রতিবেদনে যত অভিযোগ
২৮ এপ্রিল মানবজমিনের প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে অভিযোগগুলো তোলা হয়েছে সেগুলো হলো:
১. অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই নিয়োগপ্রত্যাশীদের ভাইভা গ্রহণ করা হয়েছে।
২. একদিকে জুলাই জাদুঘরের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। অন্যদিকে একই কাজের জন্য আবার বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের বাজেট থেকে অর্থ নেয়া হয়েছে।
৩. কোনো টেন্ডার ছাড়া নির্দিষ্ট ভেন্ডরকে দিয়ে জুলাই জাদুঘরের ইনটেরিয়রের বিভিন্ন আসবাবপত্র এবং গ্যাজেট ক্রয় করা হয়েছে, যা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলসের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
৪. মাত্র ছয় মাসে আপ্যায়ন ও নাশতার বিল হিসেবে ১ কোটি ২ লাখ টাকার বেশি খরচ দেখানো হয়েছে। এবং মোহাম্মদপুরের ‘আড্ডা প্রবর্তনা রেস্টুরেন্টের’ নামে লাখ লাখ টাকা ভুয়া বিল তোলা।
৫. জুলাই জাদুঘরের সড়কের পাশে টিনের বাউন্ডারি নির্মাণের কথা বলে জাতীয় জাদুঘর থেকে তোলা হয়েছে ৬৪ লাখ ৩৮ হাজার ৪৭০ টাকা।
একাত্তর টিভির প্রতিবেদনে ১১টি অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে আর মানবজমিনের প্রতিবেদনে উত্থাপন করা হয়েছে ৫টি অভিযোগ। তবে মানবজমিনের ৫টি অভিযোগের ৩টি (২, ৪, এবং ৫) একাত্তর টিভির ৩টি অভিযোগের (৭, ৮, এবং ১০) সাথে মিলে যায়। ফলে দুটি প্রতিবেদনে মোট অভিযোগ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩টি।
২ সংবাদমাধ্যমের ১৩টি অভিযোগের ফ্যাক্ট চেক
শিরোনামে অসত্য তথ্য: বরাদ্দ দেড়শো কোটি টাকা নয়
একাত্তর টিভির শিরোনামেই অতিরঞ্জন করা হয়েছে। শিরোনামে উল্লেখ করা হয়েছে, “প্রায় দেড়শো কোটি টাকা নিয়ে নয়ছয়!”
কিন্তু ৮ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের প্রতিবেদনের ভেতরে কোথাও দেড়শো কোটি টাকার উল্লেখ নেই।
প্রতিবেদনের শুরুর বর্ণনা থেকে জানা যায়, জুলাই যাদুঘরে বরাদ্দ মোট ১৩১ কোটি টাকা। ওই প্রতিবেদনেই বলা হয়েছে, “জুলাই জাদুঘরের বাজেট নির্ধারণ করা হয় ১১১ কোটি টাকা। জাতীয় জাদুঘরের নিজস্ব তহবিল থেকেও খরচ দেখানো হয়েছে ২০ কোটি টাকার উপরে”।
অন্য একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকেও জানা যায় যে, জুলাই জাদুঘরের প্রাথমিক মূল বরাদ্দ ১১১ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে এবং জাদুঘরের নিজস্ব বরাদ্দ যুক্ত হয়ে যা বেড়ে ১৩১ কোটি টাকা হয়েছে।
তবে জাদুঘর কর্তপক্ষ দ্য ডিসেন্টকে বলেছে, “জুলাই জাদুঘরের পূর্ত, ই/এম ও অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তর প্রাথমিকভাবে ১১১ কোটি টাকার একটি প্রাক্কলন প্রণয়ন করে প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করে। পরবর্তীতে উক্ত প্রাক্কলন সংশোধনপূর্বক ৯৮ কোটি ৪৫ লক্ষ ২১ হাজার টাকায় পুনঃনির্ধারণ করা হয়। প্রশাসনিক অনুমোদনের পর এ কাজের জন্য (সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে) সর্বমোট ৯৮ কোটি ৪৫ লক্ষ ২১ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এ পর্যন্ত প্রধান প্রকৌশলী, গণপূর্ত অধিদপ্তরকে সর্বমোট ৮৮ কোটি ৩৯ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। অবশিষ্ট অব্যয়িত ১০,০৫,৪৬,০০০/- (দশ কোটি পাঁচ লক্ষ ছিচল্লিশ হাজার) টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত প্রদান করা হয়েছে।”

এছাড়াও জাদুঘর কর্তপক্ষ জানিয়েছে, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের ভাস্কর্য নির্মাণ, নিদর্শন সংগ্রহ ও শিল্পকর্ম ক্রয়, গ্যালারি সজ্জিতকরণ, তথ্য ও প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ শোভাবর্ধন এবং অফিস আসবাবপত্র ও সরঞ্জামাদি ক্রয়ের জন্য সর্বমোট ২৫ (পঁচিশ) কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। উক্ত বরাদ্দের বিপরীতে ভ্যাট ও আয়করসহ সর্বমোট ২২,৫২,২৮,৮৮৬/- (বাইশ কোটি বায়ান্ন লক্ষ আটাশ হাজার আটশত ছিয়াশি) টাকা ব্যয় হয়েছে। অবশিষ্ট অব্যয়িত ২,৪৭,৭১,১১৪/- (দুই কোটি সাতচল্লিশ লক্ষ একাত্তর হাজার একশত চৌদ্দ) টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত প্রদানের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

অর্থাৎ, গণপূর্ত ও জাদুঘর মিলিয়ে মোট চূড়ান্ত বরাদ্দ হয়েছে ১২৩ কোটি ৪৫ লক্ষ ২১ হাজার টাকা। এরমধ্যে অব্যয়িত থাকায় সরকারের কোষাগারে ফেরত গিয়েছে ১২ কোটি ৫৩ লক্ষ ১৭ হাজার ৮৮৬ টাকা। মোট জুলাই জাদুঘরে খরচ হয়েছে ১১০ কোটি ৯২ লক্ষ ৩ হাজার ১১৪ টাকা।
দ্য ডিসেন্ট এ সংক্রান্ত সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, জাতীয় জাদুঘর এবং গণপূর্ত বিভাগের বিভিন্ন নথি যাচাই করে জাদুঘর কর্তৃপক্ষের দেয়া উপরিউক্ত তথ্যের সতত্য পেয়েছে।
‘কোনো ভবন নির্মাণ ছাড়াই এতো টাকা খরচ’ এর দাবিটি বিভ্রান্তিকর
একাত্তর টিভির প্রতিবেদনে ২ নং অভিযোগে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, “কোনো রকম কোনো ভবন নির্মাণ ছাড়াই এত টাকা খরচ করা হলো কোথায়?”
এবং ১০ নং অভিযোগে বলা হয়েছে, “জাদুঘরের বাউন্ডারি নির্মাণে প্রায় ৬৪ লাখ টাকা খরচ দেখিয়েছে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ। অথচ গণপূর্ত বলছে এটির সম্পূর্ণ নির্মাণ কাজ হয়েছে তাদের অর্থায়নে।”
মানবজমিনের প্রতিবেদনেও একই দাবি করা হয়েছে ২ নং এবং ৫ নং অভিযোগে।
দুটি সংবাদমাধ্যমের এই দুটি দাবি বিভ্রান্তিকর।
কারণ প্রথমত, জুলাই জাদুঘরের যে নকশা ও পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়েছে তাতে কোন নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেই। দ্বিতীয়ত, জাদুঘরের যেসব ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে তার সবগুলোই নির্মাণ করেছে গণপূর্ত বিভাগ; জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ করেনি এবং নির্মাণ করার কর্তৃপক্ষীয় অধিকারও নেই। যাবতীয় ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের জন্য মোট বরাদ্দ (১২৩ কোটি ৪৫ লক্ষ্য ২১ হাজার) থেকে ৯৮ কোটি ৪৫ লক্ষ ২১ হাজার টাকা গণপূর্ত বিভাগকে দেয়া হয়েছে। জাতীয় জাদুঘর কেবল এই বরাদ্দের প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করেছে।
৬৪ লাখ টাকা খরচ করে যে বাউন্ডারি নির্মাণ করা হয়েছে সেটি নির্মাণ করেছে গণপূর্ত বিভাগ; জাদুঘর কর্তৃপক্ষ নয়।

দ্য ডিসেন্ট দেয়াল নির্মাণের জন্য গণপূর্ত বিভাগ ও জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষের মধ্যকার আদানপ্রদান করা বিভিন্ন নথি ও গণপূর্তকে পরিশোধ করা ব্যাংক চেক যাচাই করে দেখেছে।
ফলে, “বাউন্ডারি নির্মাণে প্রায় ৬৪ লাখ টাকা খরচ দেখিয়েছে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ”-- দাবিটি অসত্য।

“কোনো রকম কোনো ভবন নির্মাণ ছাড়াই এত টাকা খরচ করা হলো কোথায়?” প্রশ্নটির উত্তরে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক এবং জুলাই জাদুঘরের প্রধান কিউরেটর তানজিম ওয়াহাব দ্য ডিসেন্টকে বলেছেন, “আমরা এখানে নতুন কোন ভবন নির্মাণ করিনি মূলত লুই আইক্যানের ডিজাইন (জাতীয় সংসদ ভবন ও গণভবনের মার্কিন ডিজাইনার) অক্ষুন্ন রাখতে। কিন্তু ভবন নির্মাণ না করা হলেও এখানে বহু অবকাঠামোর কাজ করা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে আছে ১৭ একর জমিতে পাঁচটি নতুন ওয়াকওয়ে, তিনদিকে সম্প্রসারিত লেক, ফুডকোর্ট, প্রেয়ার রুম, প্রক্ষালন কক্ষ, টিকেট হাউজ, স্যুভেনির শপ, হেলিপ্যাডে জুলাই মঞ্চ, ২২টি সেল নিয়ে প্রতীকী আয়নাঘর, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে শাহাদাতবরণকারী প্রায় ৪,০০০ মানুষের নাম ও স্মৃতি সংরক্ষণে তৈরি মেমোরিয়াল এবং ক্ষতিগ্রস্ত মূল ভবন সংস্কার কাজ ইত্যাদি। এছাড়াও অবকাঠামোগত কাজের মধ্যে রয়েছে পুরো জাদুঘর এলাকার বিদ্যুতায়নের কাজ। এসব কাজ গণপূর্ত বিভাগ করেছে। আমরা শুধু তাদেরকে বাজেট দিয়েছি।”

প্রসঙ্গত, অবকাঠামো নির্মাণের জন্য গণপূর্তকে দেয়া ৯৮ কোটি ৪৫ লক্ষ ২১ হাজার টাকার মধ্যে ১০কোটি ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকা অব্যয়িত রয়েছে; যা জাদুঘরের উর্ধ্বতন হিসাবরক্ষণ অফিসার স্বাক্ষরিত একটি নথিতে দেখেছে দ্য ডিসেন্ট। অর্থাৎ, মোট খরচ হয়েছে ৮৮ কোটি ৩৯ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা

“৪/৫ মিনিটের প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে খরচ ২৭ লাখ টাকা”-- দাবিটি অসত্য
একাত্তর টিভির প্রতিবেদনে ৩ নং দাবিটি করা হয়েছে, “১৯টি প্রামাণ্যচিত্র তৈরিতে ৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে এবং ৪/৫ মিনিট দৈর্ঘ্যের একেকটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে খরচ দেখানো হয়েছে ২৭ লাখ টাকার বেশি।”
এই দাবিটি সম্পূর্ণ অসত্য।
দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা যায়, ১৯টি প্রামাণ্যচিত্র নয়, বরং ১৯টি থিমে মোট ৬২টি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করা হয়েছে। এবং এগুলোর মধ্যে ৪/৫ মিনিট দৈর্ঘের কোনটির নির্মাণ ব্যয়ই ২৭ লাখ টাকা বা তার বেশি নয়।
১৭ মে ২০২৫ সালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো সাইফুল ইসলামের সাক্ষরিত একটি চিঠিতে দেখা যায়, ১৯টি ডকুমেন্ট/ প্রামাণ্যচিত্র/ ভিডিওচিত্র নির্মানের জন্য ৫ কোটি ২৩ লক্ষ ৭২৩ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে পরে ইস্যু করা আরেকটি নথিতে দেখা যায় ১৯টি ভিন্ন ভিন্ন থিমে মোট ৬২টি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করা হয়েছে এবং এতে ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ৯ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা। অর্থাৎ, মোট বরাদ্দ থেকে ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা অব্যয়িত রয়েছে।

দ্য ডিসেন্ট ৬২টি প্রামাণ্যচিত্রের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখছে, বেশি বাজেটের প্রামাণ্যচিত্রগুলোর মধ্যে ৫ মিনিট দৈর্ঘ্যের মাত্র একটি প্রামাণ্যচিত্র (নাম History and Bengal Legends: Lalon) রয়েছে যেটির নির্মাণ ব্যয় ১০ লাখ টাকা।

বেশি বাজেটের বাকি ১৭টি প্রামাণ্যচিত্রের মধ্যে সর্বনিম্ন দৈর্ঘ ১৩ মিনিট (নাম ‘No Treatment’) এবং এটির ব্যয় ২৩ লক্ষ টাকা। এবং সর্বোচ্চ দৈর্ঘ ৩৭ মিনিটের প্রামাণ্যচিত্র Teachers Of July এর খরচ দেখানো হয়েছে ১৬ লাখ টাকা।
এছাড়া Ainaghar Stories থিমের অধীনে ১৫টি স্বল্প বাজেটের প্রামাণ্যচিত্র এবং July Bishad Sindhu থিমের অধীনে ২৯টি স্বল্প বাজেটের প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছে যেগুলোর সমন্বিত ব্যয় দেখানো হয়েছে ৬৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ, ৪৪টি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে খরচ হয়েছে গড়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
একাত্তর টিভির প্রতিবেদক প্রামাণ্যচিত্র সংক্রান্ত মোট বরাদ্দের (৫ কোটি ২৩ লাখ) বিপরীতে ১৯টি প্রামাণ্যচিত্র (যেটি ভুল সংখ্যা। প্রকৃতপক্ষে ১৯টি থিমে নির্মিত হয়েছে ৬২টি ছোট/বড় প্রামাণ্যচিত্র) এর সংখ্যা ভাগ দিয়ে গড়ে ২৭ লাখ টাকার অঙ্কটি বের করেছেন, যা চরম বিভ্রান্তিকর এবং অসত্য।
“মিনহাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের ঠিকানায় অটোরিকশা তৈরির দোকান” বিষয়ে যা জানা গেল
একাত্তর টিভির প্রতিবেদনের ৪ নং অভিযোগ ছিল, “প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে কাজ দেওয়া হয়েছে মিনহাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে যাদের ঠিকানায় গিয়ে পাওয়া গিয়েছে অটোরিকশা তৈরির দোকান।”
মিনহাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এর লাইন প্রডিউচার মোহাম্মদ রুহুল আতিক দ্য ডিসেন্টকে জানান, “আমাদের ট্রেড লাইসেন্স করার সময় ওই অফিসটি ছিল। পরে আমরা পাশের ভবনে স্থানান্তরিত হই। একাত্তর টিভির রিপোর্টার আমাদের বর্তমান অফিসে এসেছিলেন এবং আমাদের সাক্ষাৎকারও নিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরেও আমাদের সাক্ষাৎকার প্রচার না করে আমাদের আগের ঠিকানায় এক রিকশা গ্যারেজ মালিকের সাক্ষাৎকার প্রচার করেছেন। ঐ রিকশা গ্যারেজের সাথে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”
তিনি আরো বলেন, “আমরা শুধু ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে ছিলাম। ১৯টি থিমের উপর ৬২টি ফিল্ম নির্মাণে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বাজেট দিয়েছে। সরকারি কাজে অন্যরা ৩০% ফি নিলেও আমরা মাত্র ৭% ফি নিয়ে কাজগুলো করিয়ে দিয়েছি।”
তবে একাত্তর টিভির প্রতিবেদক সুমন তানভীর দ্য ডিসেন্টকে বলেছেন, তিনি ট্রেড লাইসেন্সে থাকা ঠিকানায় যাওয়ার পর স্থানীয় একজনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিনহাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের বর্তমান অফিস হিসেবে পরিচিত পাশের আরেকটা দোকানে গিয়েও তিনি প্রতিষ্ঠানটির কাউকে পাননি।
জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাবকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “পিপিআর-২০০৮ মোতাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে মেসার্স মিনহাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল-এর মাধ্যমে ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ ৫ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১৯টি থিমে মোট ৬২টি তথ্যচিত্র নির্মাণ করা হয়েছে। এটি একটি বুদ্ধিবৃত্তিক ও সৃজনশীল কাজ। বিশেষজ্ঞরা নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রগুলোর গুণগত মান অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের বলে মত দিয়েছেন। পাশাপাশি নির্মাণ ব্যয়ও অত্যন্ত যৌক্তিক।”
তিনি আরও বলেন, “মেসার্স মিনহাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল-এর ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু হওয়ার সময় দোকানের ঠিকানা ছিল ১৭০, মুগদা স্টেডিয়াম মার্কেট। পরবর্তীতে মার্কেট কর্তৃপক্ষের নতুন অ্যালটমেন্টের ফলে পূর্বের দোকান ১৭০-এর পাশেই দোকান নম্বর ১৭৪ স্থানান্তরিত হয়। বর্তমানে মেসার্স মিনহাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ১৭৪, মুগদা স্টেডিয়াম মার্কেট ঠিকানায় নিয়মিত ব্যবসা পরিচালনা করছে। সম্প্রতি ৭১ টিভির সাংবাদিক প্রতিষ্ঠানে এসে সরেজমিনে বিষয়টি পরিদর্শন করেছেন কিন্তু প্রচারিত বক্তব্যে বিষয়টি সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়নি।”
এ ব্যাপারে সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, “এই আলোচ্য সাপ্লাইয়ারের অনেক ব্যবসার মধ্যে চায়না থেকে রিক্সা এনে বিক্রি করাও একটা। আজকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারি, তারা যখন ব্যবসা শুরু করে তখন কমলাপুরের যে দোকান থেকে শুরু করে সেই ঠিকানায় ট্রেড লাইসেন্স করায়। তারপর নতুন হোল্ডিং নম্বর পায় তারা। সেই হোল্ডিংয়ে তাদের অফিস আছেও। যেটা রিপোর্টার দেখেছেনও কিন্তু রিপোর্টে দেখাননি।”
ফারুকী আরও বলেন, “রিকশা গ্যারেজ জুলাইয়ের সব অসাধারণ ডকুমেন্টারি বানায় নাই। এই কাজগুলো করেছে বাংলাদেশের এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ ইয়াং ফিল্মমেকাররা। অনম বিশ্বাস, কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়, রাকা নোশিন নাওয়ার (যার জুলাই উইমেন লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটিতে দেখানো হচ্ছে কয়দিন পর), মাহাথির স্পন্দন, নাজমুল সূকর্ণ, মোমিন বিশ্বাস, মাহমুদুল হাসান আদনান, শাহরিয়ার সজীব (দীপক কুমার গোস্বামী স্পিকিং যে বানাইছে), নাজমুল নবীন, সাদিয়া ইসলাম রোজা, এবং আরো অনেকে। এর মধ্যে জাদুঘর ফাইন্যান্স করছে ১৯টা থিমের উপর ৬২টা কনটেন্ট। আর শিল্পকলার ফান্ড থেকে ফাইনান্স করা হইছে জুলাইয়ে আহতদের নিয়ে জুলাই বীরগাঁথা সিরিজ আর জুলাই রিমেমবারেন্স সিরিজ।”
তিনি নিজের উদাহরণ টেনে বলেন, “আমার ছবিয়ালের ট্রেড লাইসেন্স আমার বাবার বাসার ঠিকানায়। কারন আমি ডিওএইচএস-নিকেতন বিভিন্ন জায়গায় ভাড়া বাসায় অফিস চালাইছি সারা জীবন। এই বছর এখানে, পরের বছর আরেকখানে। তো পারমানেন্ট ঠিকানা হিসাবে বাবার বাসাই দিয়ে রাখছি। এখন কালকে একটা রিপোর্টার পাঠাইলে সেও তো বলতে পারে, ছবিয়াল একটা ভুয়া প্রতিষ্ঠান। ট্রেড লাইসেন্সের ঠিকানায় গিয়ে দেখা গেলো এখানে এরকম কোনো অফিসই নাই।”
“গায়েবী প্রতিষ্ঠানের নামে টাকা উত্তোলন” করা হয়েছে?
একাত্তর টিভির প্রতিবেদনে ৫ নং অভিযোগে বলা হয়েছে, “ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে গায়েবী প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে উত্তোলন করা হয়েছে নির্মাণ খরচের টাকা।”
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, “কোনো রকম চুক্তিপত্র ছাড়াই স্মৃতি জাদুঘরের ভেতরে যত ভাস্কর্য রয়েছে তার বেশিরভাগই নির্মাণ করেছে তেজস হাওলাদারের মাটি স্টুডিও। অথচ খাতা কলমে কাজটি করার কথা এইচকে ইন্টারন্যাশনাল নামে আরেক প্রতিষ্ঠানের।”
এ ব্যাপারে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব দ্য ডিসেন্টকে জানান, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের জন্য বিভিন্ন ভাষ্কর্য তৈরি ও অন্যান্য মাল্টিমিডিয়া সংক্রান্ত কাজের জন্য এইচ কে ইন্টারন্যাশনাল-এর অনুকূলে ৪,৯৮,৪৫,১৪৯.৯৭ (চার কোটি আটানব্বই লক্ষ পয়তাল্লিশ হাজার একশত উনপঞ্চাশ দশমিক নয় সাত) টাকা কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। এই জাদুঘরে বিভিন্ন মাধ্যমের ১৫০(দেড়শ) শিল্পীর কাজ রয়েছে।”
দ্য ডিসেন্টের হাতে আসা নথিতেও এইচকে ইন্টারন্যাশনালের সাথে চুক্তির প্রমাণ পাওয়া যায়।

তবে তানজিম ওয়াহাব জানান, “কার্যাদেশপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানটিকে তেজস হালদার এবং সমমানের শিল্পীর মাধ্যমে ভাষ্কর্য নির্মাণ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে তেজস হালদার বা দ্যা ইনজিনিয়ার্স-এর সাথে জাদুঘরের কোন ধরণের চুক্তি হয়নি এবং কোন ধরণের আর্থিক লেনদেনের ঘটনা ঘটেনি। কার্যাদেশপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান অন্য কাউকে দিয়ে কোন কাজ করিয়ে থাকলে সেটা দেখার দায়িত্ব আমাদের নয়। শর্তানুযায়ী আমাদের কাজ বুঝে পেলাম কিনা সেটা দেখার দায়িত্ব আমাদের।”
মেরিনা তাবাসসুম নকশার কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক নন
৬ নং অভিযোগে বলা হয়েছে, “ক্রয়বিধি না মেনে নকশা প্রণয়নের কাজও দেওয়া হয়েছে যে প্রতিষ্ঠানকে সেখানে পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন খোদ জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি মেরিনা তাবাসসুম।”
জুলাই জাদুঘরের নকশা প্রণয়নের কাজ দেয়া হয়েছে Atelier Robin Architect-কে। এই প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক হিসেবে জাতীয় জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন মেরিনা তাবাসসুমের কাজ করার যে তথ্য একাত্তর টিভির প্রতিবেদনে দেয়া হয়েছে তা সঠিক নয়।
এ বিষয়ে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ দ্য ডিসেন্টকে দেয়া লিখিত বক্তব্যে বলেছে, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, স্থাপত্য ও আধুনিক অভ্যন্তরীণ (ইন্টেরিয়র) নকশা প্রস্তুত, প্রকৌশল নকশা, নির্মাণ তদারকিসহ (Construction Supervision) প্রয়োজনীয় পরামর্শক সেবা গ্রহণের লক্ষ্যে সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০০৮ (পিপিআর, ২০০৮)-এর সকল বিধি-বিধান অনুসরণপূর্বক সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে Atelier Robin Architect-এর সঙ্গে একটি চুক্তি সম্পাদন করা হয়। উক্ত চুক্তির মূল্য ছিল ভ্যাট ও আয়করসহ সর্বমোট ৫,৪৩,০৫,৫৫৫/- (পাঁচ কোটি তেতাল্লিশ লক্ষ পাঁচ হাজার পাঁচশত পঞ্চান্ন) টাকা। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে রাজস্ব খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ উপযোজন করে এ অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, উক্ত প্রতিষ্ঠানের সাথে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের পর্ষদ সভাপতির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে মর্মে যে সংবাদটি প্রচার করা হয়েছে তা সত্য নয়। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের পর্ষদের সভাপতি ও স্থাপত্যবিদ হিসেবে জুলাই জাদুঘরের নকশা প্রণয়নে মূল্যবান পরামর্শ প্রদান করে সহযোগিতা করেছিলেন। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সাথে তাঁর কোন স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক নেই।”
একাত্তর টিভির প্রতিবেদনে মেরিনা তাবাসসুমকে পরামর্শক হিসেবে যে ছবি দেখানো হয়েছে সেটি সম্পর্কে জানতে চাইলে জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব জানান, “ছবিটি Atelier Robin Architect প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক বোর্ডের ছবি নয়, এটি জুলাই জাদুঘরের নকশা সম্বলিত বইয়ের ছবি।”

আপ্যায়ন ব্যয়ে নয়ছয়ের দাবিটিও ‘ছয়নয়ে’ পূর্ণ
একাত্তর টিভির প্রতিবেদনে ৭ এবং ৮নং অভিযোগে বলা হয়েছে, আপ্যায়ন বিল দ্বিগুণ, তিনগুণ দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং প্রবর্তনা রেস্টুরেন্টে যেই একাউন্ট এ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে সেটি রেস্টুরেন্টের না।”
এছাড়াও, মানবজমিনের ৪ এবং ৬ নম্বর অভিযোগেও একই তথ্য দেওয়া হয়। ২৮ এপ্রিল দৈনিক মানবজমিন ও কালের কন্ঠের প্রতিবেদনে নামহীন সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে, “মাত্র ছয় মাসে আপ্যায়ন ও নাশতার বিল হিসেবে ১ কোটি ২ লাখ টাকার বেশি খরচ দেখানো হয়েছে। দিন প্রতি হিসাব করলে যা গড়ে প্রায় ৫৬ হাজার টাকা। আর গত ২৫শে জানুয়ারি থেকে ১৫ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ২৫ দিনে ভিভিআইপিদের আপ্যায়ন ও ইন্টারনেট বিলই ভ্যাটসহ দেখানো হয়েছে ২৯ লাখ ৫৪ হাজার ৭৬০ টাকা। এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবকদের দৈনিক গড় খরচ দেখানো হয়েছে ৩১ হাজার ৬৬৬ টাকা। গত বছরের ৩রা সেপ্টেম্বর থেকে কাজ করা ৮০ জন স্বেচ্ছাসেবকের আপ্যায়ন খরচ দেখানো হয়েছে মোট ৫৭ লাখ টাকা। গত ৬ই অক্টোবর ইসলামিক ওয়ার্ল্ড এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশনের (আইসেস্কো) মহাপরিচালক (ডিজি) ড. সেলিম এম আল মালিকের এক দিনের জাদুঘর পরিদর্শনে আসা আপ্যায়ন বিলই তোলা হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। এর বাইরেও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের অদূরে মোহাম্মদপুরের ‘আড্ডা প্রবর্তনা রেস্টুরেন্ট’ এর নাম দেখিয়ে বিভিন্ন সভা ও অনুষ্ঠানের নামে ১০ লাখ ২৮ হাজার ৫১৫ টাকার বিল করা হয়েছে। বিভিন্ন কর্নার উদ্বোধনের ওই রেস্টুরেন্ট এর নামে এক দিনেই নাশতার বিল করা হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। লাইট লাগানোর খরচ দেখানো হয়েছে ৩৮ লাখ ২ হাজার ১৭৪ টাকা। গ্যালারি সংস্কারের নামেও দেড় কোটি টাকার বিল তোলা হয়েছে। জুলাই জাদুঘরের সড়কের পাশে টিনের বাউন্ডারি নির্মাণের কথা বলে জাতীয় জাদুঘর থেকে তোলা হয়েছে ৬৪ লাখ ৩৮ হাজার ৪৭০ টাকা।”
দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আপ্যায়ন খরচ নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলো অনেকটাই অসত্য এবং অপ্রমাণিত। অনুসন্ধানে জুলাই জাদুঘরের বিভিন্ন খাত এ ব্যয়ের হিসেব, বিভিন্ন নথি-পত্র দ্য ডিসেন্টের সংগ্রহ করেছে। প্রাপ্ত নথিপত্রগুলো বিশ্লেষণে দেখা যায়, মানবজমিনের রিপোর্টে আপ্যায়ন বাবদ যে ব্যায় দেখানো হয়েছে সেটি অফিসিয়াল নথির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
মানবজমিনের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, “মাত্র ছয় মাসে আপ্যায়ন ও নাশতার বিল হিসেবে ১ কোটি ২ লাখ টাকার বেশি খরচ দেখানো হয়েছে। দিন প্রতি হিসাব করলে যা গড়ে প্রায় ৫৬ হাজার টাকা।”
যদিও ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর একটি প্রেস রিলিজে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয় , “গত ১৫.০৪.২০২৫ থেকে ১৫.০২.২০২৬ তারিখ পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ৭০-৮০ জন স্বেচ্ছাসেবক, বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিশেষ রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির সময় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিদেশি কূটনীতিক ও দেশি-বিদেশি সংবাদিক/গণমাধ্যমকর্মীদের আপ্যায়ন বাবদ সর্বমোট ৩৭,৪৪,৬৯৮/- (সাইত্রিশ লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার ছয়শত আটানব্বই) টাকা ব্যয় করা হয়। প্রতিদিন একই হারে খরচ না হলেও দৈনিক গড় হিসেবে এই ব্যয়ের পরিমাণ মাত্র ১২,২৩৮/- (বারো হাজার দুইশত আটত্রিশ) টাকা মাত্র।”
দ্য ডিসেন্টের হাতে আসা জুলাই জাদুঘরের ১০ মাসের ( ১৫.০৪.২০২৫ থেকে ১৫.০২.২০২৬) আর্থিক ব্যয়ের নথিতে দেখা যায়, আপ্যায়নবাবদ মোট খরচ হয়েছে ৩৪ লক্ষ ৪৮ হাজার ২২২ টাকা। যদিও জাদুঘরের প্রেস রিলিজে বলা হয়েছে, আপ্যায়নবাবদ খরচ হয়েছে ৩৭ লক্ষ ৪৪ হাজার ৬৯৮ টাকা।

দুইরকম হিসেব কেন জানতে চাইলে জাদুঘরের কীপার (ইতিহাস ও ধ্রুপদী শিল্পকলা বিভাগ) মোহাম্মদ মনিরুল হক জানান, এই সামারি শিটে ভ্যাট ট্যাক্স অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এরপর তিনি তাঁর মুঠোফোনে ভ্যাট ট্যাক্স পরিশোধের একটি বিল প্রদর্শন করেন। সেখানে বিভিন্ন তারিখে মোট ২ লক্ষ ৯৫ হাজার ৪৭৬ টাকা পরিশোধের বিবরণ পাওয়া যায়। আপ্যায়ন বাবদ ব্যয়ের ৩৪ লক্ষ ৪৮ হাজার ২২২ টাকার সাথে এই টাকা যোগ করলে ৩৭,৪৪,৬৯৮/- হয়, যা জাদুঘর কর্তৃক প্রকাশিত প্রেস রিলিজের দাবির সাথে মিলে যায়।

স্বাক্ষরহীন সামারি শিটে আপ্যায়ন ব্যয়ের হিসেব মিলাতে দ্য ডিসেন্ট প্রতিদিনের ব্যয়ের সত্যায়িত বিবরণ বিশ্লেষণ করে এবং চিত্রধারণ করে। দ্য ডিসেন্ট ১৫ এপ্রিল ২০২৫ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে গত ১০ মাসের আপ্যায়নবাবদ বিভিন্ন ব্যায়ের হিসেব যোগ করে মোট ৩৭ লক্ষ ৪৪ হাজার ৬৯৮/ খরচ দেখতে পায়, যা আবার প্রথমে প্রদর্শিত সামারি শিটের সাথে মিলে যায়।
বিভিন্ন তারিখে ইস্যু করা বিলের কাগজগুলো জাদুঘরের মহাপরিচালক, সচিব, কীপার (জুলাই জাদুঘরের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাসহ সার্বিক দায়িত্ব) কর্তৃক স্বাক্ষরিত।

সত্যায়িত ব্যয়ের হিসেবের ভিডিও দেখুন এখানে এবং এখানে।
তাহলে মানবজমিন এবং কালের কণ্ঠের রিপোর্টে ৬ মাসে আপ্যায়ন বাবদ ১ কোটি ২ লক্ষ টাকা ব্যয়ের তথ্যের উৎস কী জানতে চাইলে, জুলাই জাদুঘরের প্রধান কিউরেটর তানজিম ওয়াহাব দ্য ডিসেন্টকে জানান, “এই বর্ণনা পুরোটাই অসত্য এবং কাল্পনিক।”
তানজিম ওয়াহাব দাবি করেন, “এমন অসত্য রিপোর্ট প্রকাশের আগে আমি মানবজমিন এবং কালের কণ্ঠের রিপোর্টারদের সব তথ্য পাঠিয়েছি। কিন্তু এরপরেও এমন অসত্য তথ্য ছাপানো হয়েছে।”
মানবজমিন, কালের কণ্ঠের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, “গত ২৫শে জানুয়ারি থেকে ১৫ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ২৫ দিনে ভিভিআইপিদের আপ্যায়ন ও ইন্টারনেট বিলই ভ্যাটসহ দেখানো হয়েছে ২৯ লাখ ৫৪ হাজার ৭৬০ টাকা। এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবকদের দৈনিক গড় খরচ দেখানো হয়েছে ৩১ হাজার ৬৬৬ টাকা। গত বছরের ৩রা সেপ্টেম্বর থেকে কাজ করা ৮০ জন স্বেচ্ছাসেবকের আপ্যায়ন খরচ দেখানো হয়েছে মোট ৫৭ লাখ টাকা। গত ৬ই অক্টোবর ইসলামিক ওয়ার্ল্ড এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশনের (আইসেস্কো) মহাপরিচালক (ডিজি) ড. সেলিম এম আল মালিকের এক দিনের জাদুঘর পরিদর্শনে আসা আপ্যায়ন বিলই তোলা হয়েছে ৭০ হাজার টাকা।”
জাদুঘরের অফিশিয়াল নথিতে এমন কোনো তথ্য পায়নি দ্য ডিসেন্ট।
২০২৫ সালের ৬ই অক্টোবর ইসলামিক ওয়ার্ল্ড এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশনের (আইসেস্কো) মহাপরিচালক (ডিজি) ড. সেলিম এম আল মালিক জাদুঘর পরিদর্শনে আসা আপ্যায়ন বিলই তোলা হয়েছে ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হলেও জাদুঘরের বিলের সামারি শিটে ড. সেলিম এম আল মালিকসহ অন্যান্য অতিথিদের আপ্যায়নবাবদ ৪২,৯০০ টাকা উল্লেখ রয়েছে, তারিখ হিসেবে ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ লেখা রয়েছে।
দুই রকম তারিখ কেন জানতে চাইলে জুলাই জাদুঘরের প্রধান কিউরেটর তানজিম ওয়াহাব দ্য ডিসেন্টকে জানান, “আইসেস্কো মহাপরিচালক ও তাঁর সফরসঙ্গী ৬ ই অক্টোবর জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন করেন। তাঁদের জন্য হোটেল অবকাশ হতে আপ্যায়নের ব্যবস্থা ছিল। পর্যটন কর্পোরেশন অবকাশ রেস্টুরেন্ট পরে বিল দাখিল করায় ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিলটি পরিশোধ করা হয়।”
৩০ জানুয়ারিতে হোটেল অবকাশকে পরিশোধ করা ৪২ হাজার ৯০০ টাকার একটি বিলের নথি দ্য ডিসেন্ট সংগ্রহ করেছে।

এ ব্যাপারে হোটেল অবকাশের সহকারী রেস্তোরা ব্যবস্থাপক মো হুমায়ুন কবিরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি দ্য ডিসেন্টকে ৩০ জানুয়ারি ৪২ হাজার ৯০০টাকা প্রাপ্তির বিষয়ে নিশ্চিত করেন।
মানবজমিনের রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, “ এর বাইরেও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের অদূরে মোহাম্মদপুরের ‘আড্ডা প্রবর্তনা রেস্টুরেন্ট’ এর নাম দেখিয়ে বিভিন্ন সভা ও অনুষ্ঠানের নামে ১০ লাখ ২৮ হাজার ৫১৫ টাকার বিল করা হয়েছে। বিভিন্ন কর্নার উদ্বোধনের ওই রেস্টুরেন্ট এর নামে এক দিনেই নাশতার বিল করা হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা।”
মানবজমিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “প্রবর্তনা রেস্টুরেন্ট’ গিয়ে দেখা যায়, সেখান থেকে দিনে লাখ টাকার খাবার নেওয়ার তেমন কোনো সক্ষমতা নেই। রেস্টুরেন্টের দায়িত্বে থাকা মং মারমা ও মো. শাহিন বলেন, আমাদের এখান থেকে এখন আর খাবার নেওয়া হয় না। তবে কিছুদিন আগেও প্রতিদিন বিকেলে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ জনের নাশতা নেওয়া হতো। কোনো দিন নান রুটি, সবজি, পিঠা এসবই নিত। তবে তা লাখ টাকা হবে না। লাখ টাকার খাবার দেওয়ার মতো অবস্থা আমাদের নেই। হাজার টাকা হলেই আমরা খুশি। তবে আপনাদের নামে লাখ লাখ টাকার বিল তোলা হয়েছে— এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, আসলে এগুলো আমাদের জানা নেই।”
আড্ডা প্রবর্তনা রেস্টুরেন্টে এ ধরণের বিল এসেছে কি না জানতে চাইলে জাদুঘরের কীপার (ইতিহাস ও ধ্রুপদী শিল্পকলা বিভাগ) মোহাম্মদ মনিরুল হক জানান, “হ্যাঁ এটা সত্য। জুলাই জাদুঘরে প্রচুর লোক কাজ করত। অনেক মানুষের খাবার, নাশতার ব্যবস্থা করা হতো। আমরা প্রবর্তনা থেকে খাবার অর্ডার করতাম এবং ১০-১৫ দিন পরপর একসাথে চেকের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করতাম। এজন্য অনেক বিল দেখাত।”
দ্য ডিসেন্টের হাতে আসা একটি ব্যাংক চেকের নথিতেও ফেব্রুয়ারির ৭ তারিখে প্রবর্তনা রেস্টুরেন্টকে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা চেক দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।

দ্য ডিসেন্ট প্রবর্তনা রেস্টুরেন্টের দায়িত্বে থাকা মং মারমার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি দ্য ডিসেন্টকে জানান, “তারা আমাকে জিজ্ঞেস করেছে দৈনিক লাখ টাকা দেওয়া হয় কিনা, আমি বলেছি দৈনিক তো লাখ টাকা হয়না। কয়েক হাজার হয়।”
মানবজমিনের রিপোর্ট থেকে তার উক্তি পড়ে শোনালে মং মারমা জানান, “তারা জিজ্ঞেস করে একটা , এরপর বানিয়ে লিখে আরেকটা।”
ফেব্রুয়ারির ৭ তারিখে এক লক্ষ ৬০ হাজার টাকার গ্রহণের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “হ্যাঁ এই টাকা রিসিভ করেছি। আমাদের প্রতিদিনের বিল প্রতিদিন না দিয়ে এভাবে কিছুদিন পর পর একসাথে দেওয়া হতো, ফলে লাখ টাকা হয়ে যেত।”
৪ জুলাই একাত্তর টিভির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, “টাকাগুলো যে ব্যাংক হিসেবে জমা দেওয়া হয়েছে সেই ব্যাংকে রেস্টুরেন্টটির কোনো অ্যাকাউন্টই নেই।” একজন কর্মচারীকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, “যে অ্যাকাউন্টে ওনারা টাকা জমা দিছে সে অ্যাকাউন্টটাই আমাদের না।”
তবে, জাদুঘর থেকে আপ্যায়ন বাবদ বিল পরিশোধের চেক বিশ্লেষণ করে দ্য ডিসেন্ট দেখেছে চেক পরিশোধ করা হয়েছে প্রবর্তনা রেস্টুরেন্টের ক্যাশের দায়িত্বে থাকা মং মারমার নামে।
এছাড়াও একাত্তর টিভির প্রতিবেদনে, “বেশ কিছু কাগজেই জুলাই যোদ্ধাদের দুপুরের খাওয়া বাবদ হাজার হাজার টাকা খরচের বিল। আদতে স্মৃতি জাদুঘরে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবকরা খায় কোথায়?”। একাত্তর টিভির প্রতিবেদক কয়েকজনকে দুপুরের খাবার কোথায় খায় জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন, তারা “বাসা থেকে খাবার নিয়ে আসেন।”
এ ব্যাপারে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “নাশতার টাকার কথা বলা হয়েছে। এটা তো আর মন্ত্রী পর্যায়ে জানার কথা না। তবে এর আগে এই বিষয়ে প্রশ্ন উঠায় আমি জিজ্ঞেস করে জানতে পারি গড়ে খাওয়া দাওয়ার পিছনে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এর বেশি আমার জানার কথা না। আবার দেখলাম পিডব্লিউডির এক স্টাফকে ধরে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, ভাই আপনাদের নাস্তা দেয়? হাহাহা। তাকে নাস্তা কেনো দিবে? রিপোর্ট রিপোর্টার সাহেব আজকে গিয়ে ওখানে কোনো লোক না পেয়ে যে মন্তব্য করলেন তা সেনসেশন তৈরি করতে ভালোই কাজ করতে পারে। আদতে গত চার মাস ওখানে মেজর কোনো কাজই হচ্ছে না। যখন মিউজিয়ামের কাজ হতো তখন কখনো কখনো ৭০-৮০ জন লোকও থাকতো। এতো বড় মিউজিয়াম তো নিজে নিজে দাঁড়িয়ে যায়নি।”
একাত্তর টিভির প্রতিবেদনে জুলাই জাদুঘরের সামনে একজনকে ক্যামেরার সামনে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কোথায় খাওয়া দাওয়া করেন, তখন তিনি বলেন, তিনি বাহিরে থেকে খাবার খান।
এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে জাদুঘর কর্তপক্ষ লিখিত ব্যাখ্যায় জানান, “৭১ টেলিভিশনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যে ব্যক্তির সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়েছে তার নাম রোহান চন্দ্র দাস। তিনি মূলত জুলাই জাদুঘরে দৈনিক ভিত্তিতে পরিচ্ছনতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন। দৈনিক ভিত্তিতে একজন শ্রমিক-কে নাশত বা দুপুরের খাবার দেয়ার কোন নিয়ম নেই।”

সাদা কাগজে সই করে জাদুঘরের তহবিল থেকে ১৫ লাখ টাকা তছরুপ?
একাত্তর টিভির প্রতিবেদনে ৯ং অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, “স্মৃতি জাদুঘরের নামে টাকা তছরুপ কতটা সহজ এই সাদা কাগজেই যার প্রমাণ মেলে। ভলান্টিয়ারদের টাকা দেওয়ার কথা বলে গত ১৬ মার্চ এমন সাদা কাগজে সই করে জাদুঘরের তহবিল থেকে ১৫ লাখ টাকা উঠিয়ে নেন প্রতিষ্ঠানটির ডিজির পিএস তৌসিফুর রহমান। তবে ভলান্টিয়াররা জানান কখনোই তারা কোনো টাকা পাননি।”
তবে তানজিম ওয়াহাব লিখিত জবাবে দ্য ডিসেন্টকে জানান, “জুলাই আন্দোলনের নিদর্শন সংগ্রহ এবং স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মানী প্রদানসংক্রান্ত বিষয়টি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের একটি দরপত্রের আওতাভুক্ত ছিল। উক্ত দরপত্রের শর্তানুযায়ী সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মানী বাবদ সর্বমোট ১৫ লক্ষ টাকা পরিশোধ করেছে। উল্লেখ্য, স্বেচ্ছাসেবীদের এ সম্মানীর অর্থ জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বা সরকারি তহবিল থেকে সরাসরি প্রদান করা হয়নি; বরং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব তহবিল থেকে তা পরিশোধ করেছে।”
জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব কি শুধু ফটোগ্রাফার?
একাত্তর টিভির প্রতিবেদনে ১১ নম্বর অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, “এবার যেতে হবে জাদুঘরের মহাপরিচালকের কাছে। এই পদটিতে বসার ন্যূনতম যোগ্যতা যুগ্ম সচিব। কিন্তু বিশেষ আশীর্বাদে একজন ফটোগ্রাফারকে এখানে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।”
তবে দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা যায়, তানজিম ওয়াহাবের পেশাগত পরিচয় শুধু ‘ফটোগ্রাফার’-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তানজিম ওয়াহাব একজন পেশাদার কিউরেটর ও গবেষক। তিনি ঢাকার Chobi Mela International Festival of Photography-এর ফেস্টিভ্যাল ডিরেক্টর ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বার্লিনভিত্তিক Spore Initiative-এর কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ওয়াহাব একাধিক কিউরেটরিয়াল গবেষণা প্রকল্প ও প্রদর্শনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৮ সালে তিনি The Foundation for Indian Contemporary Art (FICA) এবং Korean Cultural Centre India (KCCI) থেকে কিউরেটরিয়াল গ্রান্ট পান। ওয়াহাব ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত Bengal Foundation-এর Arts Program-এর প্রধান কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি Pathshala South Asian Media Institute-এর ভাইস প্রিন্সিপ্যাল ছিলেন।
পাশাপাশি তিনি Transcontinental Partnerships, German Federal Cultural Foundation-এর grants program-এ পরামর্শক হিসেবে যুক্ত আছেন। এছাড়া তিনি Art for Social Change, United States এবং Art Think South Asia (ATSA), India-সহ বিভিন্ন প্রোগ্রামের ফেলো ছিলেন।
তথ্যসূত্র: Asia Society, Beyond Borders: Interrogating ‘South Asia’ through Visual Culture
টেন্ডার ছাড়া সরকারি কাজ প্রদানের দাবিটি সত্য: যা বলেছে কর্তৃপক্ষ
মানবজমিনের প্রতিবেদনে ৩ নং অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, “কোনো টেন্ডার ছাড়া সুনির্দিষ্ট ভেন্ডারকে দিয়ে জুলাই জাদুঘরের ইনটেরিয়রের বিভিন্ন আসবাবপত্র এবং গ্যাজেট ক্রয় করা হয়েছে, যা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলসের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।”
দ্য ডিসেন্টের যাচাই এ দেখা যায়, এ অভিযোগ সত্য।
গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ বানাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১১১ কোটি ১৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা। এই বরাদ্দ কোনো দরপত্র আহ্বান না করে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে দেওয়া হয়েছে, যা পেয়েছে মেসার্স শুভ্রা টেডার্স ও দ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড।
সাবেক অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে ১৫ জুলাই ২০২৫ তারিখে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শুভ্রা ট্রেডার্সকে দিয়ে জাদুঘরের ইএম অংশের কাজ করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের গণপূর্ত বিভাগ। এর জন্য ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪০ কোটি ৮২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। এ ছাড়া পূর্ত অংশের কাজ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘দ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড’। এর জন্য ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৭০ কোটি ৩৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
এ ব্যাপারে তানজিম ওয়াহাব দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “প্রথম দিকে একটা তাড়াহুড়ো ছিল। আপনার যদি মনে থাকে প্রধান উপদেষ্টা আমাদের বলেছিলেন এটা উদ্বোধন করতে হবে সুনির্দিষ্ট সময়ে। তখন ক্যাবিনেটে একটা সিদ্ধান্ত আসে, এটা তাহলে ওপেন টেন্ডার করার দরকার নেই। ৫ আগস্টের মধ্যে আমাদের ওপেন করার কথা ছিল। তখন আমরা ক্যাবিনেট থেকে এই বিশেষ অধ্যাদেশটা পাই যেহেতু সময় কম ছিল ওপেন করার জন্য।
তিনি আরও বলেন, “এটা নিয়ে টিআইবি বলেছিল যে এটা ঠিক হচ্ছে না। এটা কিন্তু অবৈধ না কিন্তু এটা সঠিক উপায়ও না। কিন্তু আমাদেরকে সেটার অনুমতি এবং অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। এবং সেটার কাগজপত্রও আমাদের কাছে আছে।”
বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগের ভাইভা?
মানবজমিন, কালের কণ্ঠ, একাত্তর টিভির প্রতিবেদনে প্রথম অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, “জাতীয় নির্বাচনের আগে গত ২৮ জানুয়ারি মাত্র এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়ে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের ব্যবস্থাপক, উপ-পরিচালক, কিউরেটর, ডেপুটি কিউরেটরসহ অন্তত ৯৬ জনের নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। ওই নিয়োগের আবেদনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল ৪ঠা ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। মানবজমিন-এর হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ঠিক দুই দিন আগে অর্থাৎ গত ২৬শে জানুয়ারি থেকেই জাদুঘরের ওই ৬২টি পদের জন্য মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়ে যায়। অফিস সময় শেষে বিকেল ৫টা থেকে জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তন ও সিনে কমপ্লেক্সে হওয়া ওই মৌখিক পরীক্ষা চলে রাত ১২টা পর্যন্ত। ২৬ থেকে ৩১শে জানুয়ারি পর্যন্ত গোপনে অন্তত শতাধিক কথিত প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। গত ২৬শে জানুয়ারির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৮টার পর সুফিয়া কামাল মিলনায়তন ও সিনে কমপ্লেক্সের করিডোরে একের পর এক লোক প্রবেশ করছে। কারো হাতে কাগজের খাম, কারো হাতে কাগজপত্র ভরা শপিং ব্যাগ। কেউ আবার আগতদের কাগজ পরীক্ষা করে একেক জন করে ভেতরে পাঠাচ্ছেন। ভেতর থেকে অনেকে আবার হাসিমুখে বের হয়ে আসছেন।”
সিসিটিভি ফুটেজের ভিডিও প্রচার করে একাত্তর টিভি।
দ্য ডিসেন্ট এই দাবিটি নিজস্ব পদ্ধতিতে যাচাই করতে পারেনি।
যদিও জাদুঘর কর্তৃপক্ষ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই খবরকে “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অসত্য ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত” বলে দাবি করেছে।
জাদুঘরের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, “জাদুঘর নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে এর গবেষকদের জুলাই শহীদ পরিবার, আহত ব্যক্তি এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয়েছে। সেই সূত্রেই তাঁদের মধ্যে অনেকেই জুলাই জাদুঘরে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সেই প্রেক্ষিতে শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয় যার মূল উদ্দেশ্য ছিল আগ্রহী প্রার্থীদের যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন পদে আবেদন করতে উৎসাহ দেওয়া।”
বর্তমানে জাদুঘরের ব্যবস্থাপক, উপ-পরিচালক, কিউরেটর, ডেপুটি কিউরেটরসহ অন্তত ৯৬ জনের যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে, সেটি স্থগিত রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই কেন নিয়োগের বিষয়ে বৈঠক হয়েছিল জিজ্ঞেস করলে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “আমরা যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটা প্রথমে দিয়েছি, সেটা শুধুমাত্র যে ৯৬ জনের পূর্ণনিয়োগ তাদের জন্য। এর বাইরেও আমরা আউটসোর্সিং এর জন্য বিজ্ঞপ্তি দিতাম। এবং সেটার অনুমতিও আমরা পেয়েছিলাম। আমরা আসলে অনেক ধরণের আউটসোর্সিং এর নিয়োগের অনুমতি নিয়েছিলাম। আমাদের গেস্টদের গাইড করার জন্য তরুণদের নিয়োগ দিতে হয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম, যারা জাদুঘরে কাজ করতে আগ্রহী জুলাই যোদ্ধা, শহীদ পরিবার, তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছে। আমরা তাদের জিজ্ঞেস করতাম আপনারা কোন ধরনের কাজে এপ্লাই করতে আগ্রহী। এই জরিপের জন্য এবং তাদেরকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য আমরা এই জিনিসটা করেছিলাম উদ্দেশ্য ছিল বুঝার জন্য যে আমরা কেমন সাড়া পাব আউটসোর্সিং এর ক্ষেত্রে, পূর্ণ নিয়োগের ক্ষেত্রে। “
তানজিম ওয়াহাব আরও বলেন, “কিন্তু পূর্ণ নিয়োগ একটা ফরমাল স্ট্রাকচারে হয়। সেই ইন্টারভিউতে জনপ্রশাসনের প্রতিনিধি থাকা লাগে। তো আমাদের তো ওরকম কোনো প্রতিনিধি ছিল না। আমরা নিজেরা মিলে উনাদের ডেকে উনাদের কাছ থেকে উনাদের আগ্রহের কথা শুনেছি এবং আমরা উনাদের গাইড করেছি যে সামনে যে পূর্ণ নিয়োগ এবং এরপর যে আউটসোর্সিং হবে সেখানে আপনারা এপ্লাই করেন। কারণ আমরা চাচ্ছিলাম জুলাইয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট লোকেরাই যাতে এপ্লাই করে। আমরা যদি প্রো অ্যাক্টিভলি উনাদের সাথে যোগাযোগ না করতাম আমাদের একটা আশঙ্কা ছিল যে জুলাই সংশ্লিষ্ট অনেকে এটাতে এপ্লাই করতে পারবে না বা কম আসবে। এ কারণে মিট এন্ড গ্রিট করা হয়েছে।”
জুলাই জাদুঘর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজে যুক্ত ছিলেন জুলাইয়ের শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকত বড় বোন সাবরিনা আফরোজ শাবন্তি।
তিনি ২৬ জানুয়ারি রাতে জুলাই জাদুঘরে নিয়োগ ভাইবা/ মিট এন্ড গ্রিটে যুক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন জাদুঘরের প্রধান কিউরেটর তানজিম ওয়াহাব।
শ্রাবন্তি দ্য ডিসেন্টকে জানান, “২৬ তারিখে বৈঠকটি কোনো নিয়োগের পরিক্ষা ছিলোনা। জাদুঘরের বিভিন্ন নিয়োগে আবেদন করার জন্য আমরা বিভিন্ন সময় শহীদ পরিবারের সদস্যদের উৎসাহ দিয়েছি। জুলাইয়ে যারা চোখ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন তাদেরকেও উৎসাহ দিয়েছি আবেদন করার জন্য। ২৬ তারিখের প্রোগ্রামটিও ছিলো এমন মিট এন্ড গ্রিট প্রোগ্রাম।”
জাদুঘরের কর্তৃপক্ষের জায়গা থেকে নিয়োগে আবেদনে কাউকে উৎসাহিত করা বিধিসম্মত কিনা জানতে চাইলে শ্রাবন্তি জানান, “আমরা চেয়েছিলাম জুলাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই জুলাই জাদুঘরে বেশি আবেদন করুক। কারণ তারা ইতিহাসকে জীবন্তভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারবে,”
অনুসন্ধান চলাকালে দ্য ডিসেন্টের হাতে কিছু ছবি আসে, যেখানে দেখা যায়, ২৬ তারিখ রাতে জাদুঘরের রেজিস্ট্রার বইতে শূন্য পদে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবরিনা আফরোজ শাবন্তি জানান, “তিনি এই লেখা সম্পর্কে জানেননা। তবে সেটা মিট এন্ড গ্রিট প্রোগ্রাম ছিলো।”
জাদুঘরের কীপার (ইতিহাস ও ধ্রুপদী শিল্পকলা বিভাগ) মোহাম্মদ মনিরুল হকের কাছে জানতে তিনি বলেন, “এটি হবে কাগজ যাচাই-বাছাই। সিকিউরিটি গার্ড ভুল করে মৌখিক পরিক্ষা লিখেছে।”
নোটঃ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দুদিন আগে ২৬ জানুয়ারীতে জুলাই জাদুঘরে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি নিয়োগের মৌখিক পরিক্ষা ছিলো কিনা এ ব্যাপারে দ্য ডিসেন্ট স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি।
ডামি কবর ১০০টি নয়, ২৫০০ এর বেশি
একাত্তর টিভির প্রতিবেদনের এক জায়গায় দাবি করা হয়েছে, “জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে বড় মাপের কাজ বলতে ১০০টি ডামি কবর আর ভাস্কর্য নির্মাণ। সঙ্গে করা হয়েছে অভ্যন্তরীণ কিছু সাজসজ্জাও। ১৯টি প্রামাণ্যচিত্রও বানানো হয়েছে। "

এ ব্যাপারে জুলাই জাদুঘরের প্রধান কিউরেটর তানজিম ওয়াহাব দ্য ডিসেন্টকে জানান, “১০০টি ডামি কবর নির্মাণের দাবিটি সঠিক নয়। সেখানে ২৫০০ এর বেশি ডামি কবর বানানো হয়েছে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে জুলাই আন্দোলন, শাপলা ট্রাজেডি, বিডিআর বিদ্রোহ ইত্যাদিসহ গুম/খুনের শিকার প্রায় ৪,০০০ মানুষের নাম ও স্মৃতি সংরক্ষণে মেমোরিয়াল তৈরি করা হয়েছে। আরও ভিকটিমের নাম পরিচয় সংগ্রহের কাজ চলছে। সংরক্ষিত সবগুলোর নামের বিপরীতে একটি করে ডামি কবর নির্মাণ করা হবে।