Old Mine Collapse Footage From Myanmar Misrepresented as Recent
গত ৩ জুলাই অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘রূপালী বাংলাদেশ’-এর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে ভূমিধসের একটি ভিডিও রিলস আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, একটি বিশাল পাহাড় ধসে নিচের হ্রদের পানিতে পড়ছে এবং মুহূর্তের মধ্যে সুনামি বা জলোচ্ছ্বাসের মতো বিশাল ঢেউ তৈরি হয়ে চারপাশ ভাসিয়ে দিচ্ছে।
রূপালী বাংলাদেশ-এর প্রকাশিত ভিডিওটি দেখুন এখানে
তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের কোনো ঘটনার নয়। এটি প্রায় ৬ বছর আগে ২০২০ সালের জুলাই মাসে মায়ানমারের একটি রত্ন খনিতে (Jade Mine) ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ ও দুর্ঘটনা, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সে সময়ই ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল।
যাচাই এ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ (Sky News) এবং ফক্স নিউজ (Fox News)-এ ২০২০ সালের জুলাই মাসের শুরুতে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ২ জুলাই (বৃহস্পতিবার) মায়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় কাচিন রাজ্যের হপাকান্ত (Hpakant) নামক একটি রত্ন সমৃদ্ধ এলাকায় এই খনি ধসের ঘটনা ঘটে। ওই দিন ভোরে ভারী বর্ষণের কারণে সৃষ্ট কাদার একটি বিশাল ধস খনিতে কর্মরত শ্রমিকদের ওপর আছড়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে খনির নিচের অংশে থাকা অসংখ্য মানুষ নিখোঁজ হয়ে যান।
মায়ানমার ফায়ার সার্ভিস ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত ১৭৪ জন খনি শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল এবং বহু মানুষ আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ৩৮ বছর বয়সী খনি শ্রমিক মং খাইং সে সময় আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, পাহাড়ের চূড়া থেকে বর্জ্যের স্তূপ ধসে পড়ার মুহূর্তে চারদিকে মানুষের ‘পালাও, পালাও’ চিৎকার শোনা যাচ্ছিল এবং এক মিনিটের মধ্যে নিচে থাকা সব মানুষ স্রেফ কাদার নিচে অদৃশ্য হয়ে যান।
ডেভিড জাহকুং নামের এক ব্যক্তির ক্যামেরায় সেই পুরো ভয়ংকর খনি ধস ও ২০ ফুট উঁচু কাদার ঢেউয়ের দৃশ্যটি ধারণ হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়।