‘পুলিশ হত্যা’ নিয়ে ভুয়া গল্প, অসত্য তথ্য ছড়াচ্ছেন সাবেক-বর্তমান সাংবাদিকরা
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে পুলিশসহ অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে সহস্রাধিক বিক্ষোভকারী ছাত্র-জনতা নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের তদন্ত মিশন জানিয়েছে, ২০২৪ এর ১৬ জুলাই থেকে অভ্যুত্থানের পরে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ১৪০০ এর বেশি মানুষ খুন হয়েছেন; যার বেশিরভাগই পুলিশের হাতে মারা গেছেন। এর মধ্যে ৪৪ জন পুলিশও রয়েছেন, যারা মূলত ৪ ও ৫ আগস্ট বিক্ষুব্ধ জনতার প্রতিরোধের সময় নিহত হয়েছেন।
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভ্যুত্থানকালে সহস্রাধিক বিক্ষোভকারীকে হত্যার বিষয়ে কোন তদন্ত বা বিচার দাবি না করে, ‘পুলিশ হত্যা’ নিয়ে নানান ভুয়া গল্প এবং দাবি সামনে আনা হয়।
এসব ভুয়া গল্পের মধ্যে রয়েছে, ‘জুলাই-আগস্টে ৩২০০ পুলিশকে খুন করা হয়েছে’ বা ‘৪ আগস্ট সিরাজগঞ্জে নিহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে একজন গর্ভবতী নারীও ছিলেন’।
অতি সম্প্রতি এসব ভুয়া গল্পের সাথে ‘পুলিশ হত্যা’ বিষয়ক আরও কিছু অসত্য তথ্য ফেসবুকে ছড়ানো হয়েছে। আওয়ামীপন্থী বিভিন্ন ফেসবুক পেইজ ও একাউন্টের পাশাপাশি যারা এসব অসত্য তথ্য ছড়িয়েছেন তাদের মধ্যে নামকরা সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন সাংবাদিকও রয়েছেন। এরকম কয়েকজন সাংবাদিকের ছড়ানো ভুয়া তথ্য নিয়ে আজকের এই প্রতিবেদন।
“পুলিশ হত্যার বিচার হবে”: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামে ভুয়া বক্তব্য ছড়ালেন নবনীতা
একসময় বিবিসি বাংলায় সাংবাদিকতা এবং একাত্তর টিভিতে উপস্থাপক হিসেবে কাজ করা নবনীতা চৌধুরী এখন নিজের ইউটিউব চ্যানেলে সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর বিশ্লেষণ করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি সেখানে “পুলিশ হত্যার আসল সংখ্যা কত? বিচার শুরু হলে ভয় কার?” শিরোনামে ১৪ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও আপলোড করেছেন নবনীতা।
ভিডিওটিতে একাধিক ভুয়া তথ্য ও গল্প হাজির করেছেন তিনি।
এর মধ্যে প্রথম ভুয়া তথ্যটি হলো নবনীতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের নামে একটি বানোয়াট বক্তব্য প্রচার করেছেন তিনি।
ভিডিও চার মিনিটের পর তিনি বলা শুরু করেন, “বিএনপি সরকার স্পষ্টভাবে এ ঘোষণা পুলিশকে জানিয়ে দিয়েছে যে পুলিশ হত্যার তদন্ত হবে এবং পুলিশ বিভাগ যাতে ওই সময়কার হত্যাকাণ্ডগুলোর বিভিন্ন প্রমাণাদি, সাক্ষ্য সংগ্রহ শুরু করে। এবং পুলিশ হত্যার মামলাগুলো যাতে আবারো চাঙ্গা হয়, নতুন করে মামলা করার প্রয়োজন হলে যাতে নতুন করে মামলা করা হয়। কারণ ৪৪ জন পুলিশ সদস্য হত্যা হয়েছে বলে পুলিশ সদরদপ্তর থেকেই বিবৃতি এসেছিল।”
বাস্তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন কোন কথাই বলেননি। মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে ভুয়া ফটোকার্ড ছড়ানো হয় এবং তা একাধিক ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান ভুয়া বলে চিহ্নিত করে।
কিন্তু এরপরও এই ভুয়া বক্তব্য মন্ত্রীর নামে চালিয়েছেন নবনীবতা চৌধুরী। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ নিজেও জানান, তিনি পুলিশ হত্যার বিচার হবে এমন কোন কথা তিনি বলেননি। বরং ১ মার্চ সাংবাদিকরা যখন জানতে চান সামাজিক মাধ্যমে তার নামে যে বক্তব্য ছড়িয়েছে সেটির বিষয়ে তিনি কিছু বলবেন কিনা? তখন মন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের জানা আছে যে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল। তার ভিত্তি ছিল, জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকারনামায় একটি দফা। সে দফায় সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদে যারা সই করেছে, তারা সবাই অঙ্গীকারনামার বিষয়ে একমত হয়েছে। সেটি ছিল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় যারা নেতৃত্ব দিয়েছে, অংশগ্রহণ করেছে, তাদের আইনি সুরক্ষা দিতে হবে। সাংবিধানিক সুরক্ষা দিতে হবে। এসব অঙ্গীকারে আমরা সই করেছি। অঙ্গীকার করেছি।’
অর্থাৎ, পুলিশ হত্যার তদন্ত নিয়ে বর্তমান সরকারের নতুন কোন অবস্থান নেই, যা অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থানের বাইরে।
৩ হাজার পুলিশ নিহত হওয়ার ভুয়া গল্প
আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল পেইজ এবং নেতাকর্মীদের কেউ কেউ ৫ আগস্টের পর থেকে কোন তথ্য/প্রমাণ দেয়া ছাড়াই দাবি করে আসছেন, জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে ৩ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।
এই দাবির পক্ষে আওয়ামী লীগের কেউ কেউ টাইম ম্যাগাজিনের কথিত একটি প্রতিবেদনের রেফারেন্স দিয়ে থাকেন। যদিও ২০২৫ সালেই একাধিক সংবাদমাধ্যম ও ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান প্রমাণ করেছে যে, টাইম ম্যাগাজিনের নামে ছড়ানো খবরটি ভুয়া।
এই ভুয়া খবরটি আগেও একাধিকবার নবনীতা চৌধুরী তার ফেসবুক পোস্টে বা ইউটিউব ভিডিওতে প্রচার করেছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারির ভিডিওতেও তিনি ৩ হাজার পুলিশ হত্যার ভুয়া খবরটি নতুন করে প্রচার করেছেন।
নবনীতা চৌধুরী তার ভিডিওতে বলেছেন, “পুলিশ সদস্যরা যখন ৫ই আগস্টে মৃত কয়েকজন পুলিশের লাশ, পচে যাওয়া-গলে যাওয়া লাশ যাত্রাবাড়ী থানা থেকে উদ্ধার করে ৫ই আগস্টের আট দিন পর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে তাদের জানাজা হয়েছিল, তখন থেকে পুলিশ সদস্যরা দাবি করে আসছেন, অভিযোগ করে আসছেন অন্তত দুই হাজার পুলিশ সদস্য ২০২৪ এর জুলাই-আগস্টে নিহত হয়েছেন। এবং অনেক পুলিশ সদস্য মনে করেন তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার পুলিশ নিহত, নিখোঁজ ওই ২০২৪ এর জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পর থেকে।"
অর্থাৎ, নবনীতার দাবিমতে, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছিল, ৪৪ জন পুলিশ সদস্য হত্যা হয়েছে। তবে পুলিশ সদস্যরা নাকি দাবি করে আসছেন, তাদের অন্তত ২ হাজার পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে। কেউ কেউ নাকি বলছে, ৩ হাজার।
প্রথমত, প্রথম আলো পত্রিকায় ২৫ অক্টোবর ২০২৪ এর এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে পুলিশ সদর দপ্তরের বরাতে একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল।
সেই তালিকায় ৪৪ জন নিহত পুলিশ সদস্যের নাম, মৃত্যুর তারিখ, তার ইউনিটের নাম, মৃত্যুর ঘটনাস্থল তুলে ধরা হয়েছিল। এবং বলা হয়েছিল এর বাইরে কোনো পুলিশ সদস্যের নাম থাকলে যেন প্রমাণাদিস যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু এরপরে দেড় বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও আওয়ামী লীগ, কোন সাংবাদিক বা অন্য কেউ এই ৪৪ জন পুলিশ সদস্যের বাইরে কারো নাম পরিচয় প্রকাশ করেনি।
নানাভাবে সার্চ করে ৪৪ জনের বাইরে কোন পুলিশ সদস্যের নামের তালিকা পাওয়া যায়নি অনলাইনে।
দ্বিতীয়ত, নবনীতা চৌধুরী দাবি করেন, পুলিশ সদস্যরা নাকি অভিযোগ করে আসছেন যে, তাদের অন্তত দুই হাজার পুলিশ সদস্য ২০২৪ এর জুলাই-আগস্টে নিহত হয়েছেন। কিন্তু এর পক্ষে তিনি কোনো সূত্র দেননি। কবে কোথায় কোন পুলিশ সদস্য এমন দাবি করেছেন।
অনলাইনে এডভান্স সার্চ করে দুই হাজার হত্যার বিষয়ে কোন পুলিশ সদস্যের বক্তব্য কোনো সংবাদমাধ্যম বা সামাজিক মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সিরাজগঞ্জে গর্ভবতী পুলিশ সদস্য নিহতের ভুয়া গল্প
৫ আগস্টের পর আওয়ামীপন্থী বিভিন্ন ফেসবুক একাউন্ট থেকে আরেকটি ভুয়া গল্প ছড়ানো হয়েছিল যে, ৪ আগস্ট সিরাজগঞ্জের একটি থানায় হামলা করে যে ১৩ জন পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছিল বিক্ষুব্ধ জনতা সেখানে একজন গর্ভবতী পুলিশ সদস্যও ছিলেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর এর সাবেক সাংবাদিক এবং বর্তমানে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার নিয়মিত কলামিস্ট নাদিম মাহমুদ ২৮ ফেব্রুয়ারি এক পোস্টে সেই পুরানো ভুয়া গল্পটি নতুন করে তুলে এনেছেন। পাশাপাশি পুলিশ হত্যা নিয়ে আরও অসত্য এবং অর্ধসত্য দাবি করেছেন।
নাদিম তার পোস্টে লিখেছেন, “৪ আগস্ট ২০২৪ সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় ১৯ জন পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার খবর পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত হয়েছিল।”
কিন্তু বিভিন্ন কীওয়ার্ডে সার্চ করে ১৯ জন পুলিশ হত্যার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যায় ১৩ জন পুলিশের নিহত হওয়ার খবর।
যেমন, ৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখে ইত্তেফাক পত্রিকার শিরোনাম ছিল, এনায়েতপুরে “গণপিটুনিতে’ ১৩ পুলিশ সদস্য, গুলিতে তিন শিক্ষার্থী নিহত”।
এছাড়া একইদিনে এনটিভির খবরে বলা হয়, "সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় হামলা, ১৩ পুলিশ নিহত"। প্রথম আলোর খবরের শিরোনাম ছিল, “হামলায় সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার ১৩ পুলিশ নিহত"।
এই ১৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য শেখ হাসিনার অধীনে থাকা পুলিশই জানিয়েছে। এবং কোন সংবাদমাধ্যমেই ১৯ জন নিহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
অথচ নাদিম মাহমুদ তার পোস্টে অসত্যভাবে আরও দাবি করেছেন, “৪ আগস্ট সারাদেশের পত্রিকাগুলো যখন ১৯ পুলিশ সদস্যকে হত্যার খবর প্রকাশ করল, তখন ইউনূস সরকার সেটিকে নামিয়ে ১৫ তে করল।"
কিন্তু প্রকৃত ঘটনা ঠিক উল্টো।
হাসিনার অধীনের পুলিশের বরাতে যখন দেশের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল ১৩ জন নিহতের কথা, তার ৪দিন পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে তদন্ত করে এই ঘটনায় ১৫ জন পুলিশের নিহতের তালিকা প্রকাশ করে।
অর্থাৎ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এনায়েতপুরে পুলিশ নিহত হওয়ার সংখ্যা কমায়নি, বরং এই সরকারের হিসাবে হাসিনা সরকারের চেয়ে ২ জন বেশি নিহত বলে তালিকা প্রকাশ করেছে। নাদিম মাহমুদ তার পোস্টে অসত্য তথ্য দিয়েছেন।
প্রথম আলোর নিয়মিত কলামিস্ট নাদিম মাহমুদ তার ফেসবুকে আরও একটি দাবি করেছেন, “সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে এনায়েতপুর থানায় নিহতদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী ছিলেন।”
এই দাবিটিও কোনো সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যায়নি। বরং ওই ঘটনাস্থলে কোনো অন্তঃস্বত্বা নারী পুলিশ ছিলেন না– এ সংক্রান্ত অজস্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, হয়েছে ফ্যাক্টচেকও।
মূলত অভ্যুথানের পরপর ৪ আগষ্ট সিরাজগঞ্জে নিহত পুলিশের মধ্যে একজন গর্ভবতী নারীও ছিলেন– এমন একটি দাবি প্রচার করা হয় ফেসবুকে আওয়ামীপন্থী কিছু একাউন্টে।
কিছু পোস্টে এক নারী পুলিশ সদস্যের ছবিও প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু দৈনিক আজকের পত্রিকার নিজস্ব যাচাইয়ে দেখা গেছে, সিরাজগঞ্জে সেদিন কোন নারী পুলিশ মারা যাননি। এবং ছড়িয়ে পড়া ছবিটি জীবিত আরেকজন নারীর। তার নাম পৃথিবী চাকমা তিনি বেঁচে আছেন। এ নিয়ে একাধিক ফ্যাক্টচেকিং প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়, দেখুন এখানে এবং এখানে।
ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাগ্রহণের পর পুলিশ হত্যার অসত্য দাবি
পুলিশ সদস্যদের মৃত্যু বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন বিবিসি বাংলার আরেক সাবেক সাংবাদিক ও বর্তমানে ‘আলাপ’ নামে একটি ডিজিটাল প্লাটফর্মে কর্মরত আহরার হোসেন।
তিনি একইদিন এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “তারপর তারা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বুঝে নিল এবং নিজেরাই খুনী হয়ে উঠলো। তাদের অনুসারীরা খুঁজে খুঁজে হত্যা করলো রাষ্ট্রের পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের - উম্মত্তের মত পেটালো, কোপালো, পোড়ালো, খুন করে লাশ ঝুলিয়ে রাখলো। দিনের পর দিন তারা এই কাজ করে বেড়ালো - অথচ রাষ্ট্রের মালিক তখন তারা। সেই ম্যান্ডেটবিহীন রাষ্ট্রের মালিকেরা এবার জারি করলো আরেকটি ইনডেমনিটি - এই পুলিশ হত্যাকারীদের বিচার করা যাবে না? বিপ্লব হয়ে যাওয়ার পর দিনের পর দিন এতগুলো মানুষকে তারা উম্মত্তের মত হত্যা করলো - তাদের নাকি বিচার করা যাবে না!"
অর্থাৎ, তিনি এখানে দাবি করছেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুথানের পর ছাত্ররা রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেয়ার পর বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর (৮ আগস্ট) থেকে ছাত্রদের অনুসারীরা খুঁজে খুঁজে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করেছে। লাশ পুড়িয়ে এবং খুন করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে।
কিন্তু যাচাইয়ে দেখা গেছে, দাবিটি নিছক ভিত্তিহীন।
প্রথম আলোর ২৫ অক্টোবর ২০২৪ এর খবর অনুযায়ী যে ৪৪ জন নিহত পুলিশের তালিকা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর তাতে সবার মারা যাওয়ার স্থান এবং সময় উল্লেখ করা আছে।
সেখানে দেখা যাচ্ছে, ৫ আগস্টের পরেরদিন থেকে কোনো পুলিশ নিহতের তথ্য নেই। ৪৪ জন পুলিশের ৪৩ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন ১৬ জুলাই আন্দোলন শুরুর পর থেকে ৫ আগস্ট বিকালে শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে চলে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর পর্যন্ত সময়ে। এই সময়ে আহত একজন পুলিশ সদস্য মারা গেছেন ১৪ আগস্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। অর্থাৎ, নিহত ৪৪ পুলিশের কেউই ৫ আগস্টের আগে হামলার শিকার হননি।
(প্রথম প্রকাশের পর প্রতিবেদনটিতে জনাব নাদিম মাহমুদের পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য আপডেট করা হয়েছে)