‘জয় বাংলা’ স্লোগানে নয়, চুরির মামলায় আটক হন ১৫ বছর বয়সী সুমন
গোপালগঞ্জে ‘‘জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ায় ৭ বছরের শিশুকে গ্রেফতার’’ বলে একটি দাবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েকটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমেওএই সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করেছে। তবে প্রতিবেদনগুলোতে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্যসূত্র উল্লেখ করা হয়নি।
কী-ওয়ার্চ সার্চে ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৬টায় প্রথম প্রকাশিত খবর পাওয়া যায় বেঙ্গলি জার্নাল পোর্টালটিতে। পরবর্তীতে চ্যানেল ১৪, ভোরের পাতা ও প্রথম সংবাদ একই খবর প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে ‘‘গোপালগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় যখন সাধারণ মানুষ নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলছেন, তখন প্রশাসন পুরো জেলাকে অঘোষিতভাবে এক ভীতিকর অবরুদ্ধ জনপদে পরিণত করেছে। সাধারণ অভিভাবক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা চোখের জল ফেলে বলছেন, যে বয়সে শিশুদের হাতে বই-খাতা থাকার কথা, সেই বয়সে তাদের রাজনৈতিক টার্গেট বানিয়ে বন্দি করা এক নির্মম তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।’’
প্রতিবেদনগুলোতে ব্যবহৃত ছবিগুলোতে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ওই শিশুকে হাত ধরে প্রিজন ভ্যানে তুলতে দেখা যায়।
দ্য ডিসেন্ট প্রতিবেদনগুলোতে দুটি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে। প্রথমত, ‘জয় বাংলা’ বলার জন্য নয়, বরং চুরির মামলায় এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, গ্রেপতারকৃত কিশোরের বয়স ৭ নয় বরং ১৫ বছর।
প্রচারিত ছবি রিভার্স ইমেজ ও প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড সার্চ করে প্রথম আলো, সমকালসহ একাধিক মূলধারার সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। দেখুন এখানে, এখানে ও এখানে।
প্রতিবেদনগুলোতে পুলিশকে তথ্যসূত্র দিয়ে বলা হয়, গত ১৪ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে কাশিয়ানী উপজেলার ভাট্টাইধোবা গ্রামের মো. রাজিব মিয়ার বসতঘরে চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় রাজিব মিয়ার স্ত্রী সোনিয়া ইসলামের স্বর্ণের কানের দুল, স্বর্ণের চেইনসহ অন্যান্য মূল্যবান মালামাল চুরি হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে কাশিয়ানী থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ১৫ বছর বয়সী সুমন শেখকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
কাশিয়ানী থানা পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত কিশোরের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। সর্বশেষ চুরির ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার পর আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘এটি একটি চুরির মামলা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক মামলার কথা বলে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা বিভ্রান্তিকর এবং বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। মামলার তদন্ত আইন অনুযায়ী চলমান রয়েছে।’’
বিষয়টি নিশ্চিত হতে কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্য ডিসেন্ট। তিনি বলেন, ‘‘গত ১৫ জুলাই ওই কিশোরকে আটক করা হয়েছিল এবং সেটা চুরির মামলায়। এখানে রাজনৈতিক কোনো বিষয় নেই।’’