দ্য ডিসেন্টের প্রতিবেদনের পর সিপিডির ব্যাখ্যা

The Dissent Desk
লেখক
দ্য ডিসেন্ট ডেস্ক
২৫ আগস্ট, ২০২৬

‘‘সংবাদমাধ্যমের অসত্য তথ্য দিয়ে সিপিডির গবেষণা রিপোর্ট!’’ শিরোনামে দ্য ডিসেন্ট একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাখা দিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় প্রতিষ্ঠানটির সংলাপ ও যোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক অভ্র ভট্টাচার্য দ্য ডিসেন্টকে লিখিত ব্যাখ্যা পাঠিয়েছেন।

লিখিত ব্যাখ্যায় তথ্যটির মূল উৎস যাচাই না করেই প্রচার করায় দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। 

এর আগে গতকাল সোমবার (২৪ আগস্ট) বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)’ ‘সরকারের ছয় মাস :একটি অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া সংলাপের আয়োজন করে। এতে একটি গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। 

রিপোর্টে বলা হয়েছিল, জানুয়ারি থেকে আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে তিনটি প্রধান শিল্পাঞ্চল গাজীপুর, সাভার–আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ–নরসিংদীতে—৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সরাসরি ৬১ হাজার ৮৮১ জন কর্মী চাকরি হারিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য একই পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ‘‘২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৯৫টি কারখানা বন্ধ হয়েছে বিশেষ করে এইটা হলো গাজীপুর সাভার আশুলিয়া নারায়ণগঞ্জ নরসিংদী এলাকাতে। এবং প্রায় ৬২ হাজার মানুষ কাজ হারিয়েছে বলে আমাদের হিসাব।’’

পাঠকদের উদ্দেশ্যে সিপিডির লিখিত ব্যাখ্যাটি হুবহু তুলে ধরা হলো–

প্রতিবেদনে তথ্যগত বিভ্রান্তির বিষয়ে সিপিডি গবেষণা দলের ব্যাখ্যা

ঢাকাভিত্তিক ডিজিটাল অনুসন্ধানমূলক সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্টে (The Dissent) প্রকাশিত একটি সংবাদ আমাদের নজরে এসেছে। সেখানে গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ‘নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাস: একটি অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া সংলাপে উপস্থাপিত একটি তথ্যের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। 

উপস্থাপিত প্রতিবেদনের ১১ নম্বর স্লাইডে শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক অধ্যায়ে বলা হয়েছিল, জানুয়ারি থেকে আগস্ট ২০২৬ সময়কালে তিনটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে (গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী) ৯৫টি কারখানা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে ৬১ হাজার ৮৮১ জন কর্মহীন হয়েছেন।

উল্লেখ্য ‘প্রতিবেদনের গবেষণাপদ্ধতি’ অংশে বলা হয়েছিল যে এতে ব্যবহৃত তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সংসদীয় ও মন্ত্রী পর্যায়ের বিবৃতি, জাতীয় বাজেট, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এবং ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উৎসের সহায়তা নেওয়া হয়েছে।

উপরে উল্লেখিত শিল্পকারখানা সংক্রান্ত তথ্যটি ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ঢাকা ট্রিবিউনে ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে নেওয়া হয়েছিল (২৫ আগস্ট বিকেল ৪টা ৩৪ মিনিটে সংবাদমাধ্যমটি প্রতিবেদনটি সংশোধন করে)। প্রতিবেদন তৈরির সময় আমাদের পক্ষ থেকে তথ্যটির মূল উৎস যাচাই করা হয়নি।

পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, ঢাকা ট্রিবিউনের আগের সংবাদটিতে ৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে প্রথম আলোয় প্রকাশিত একটি সংবাদের মূল সময়কাল পরিবর্তন করে জানুয়ারি থেকে আগস্ট ২০২৬ উল্লেখ করে। এর ফলে এই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। অনবধানতাবশত বিভ্রান্তি সৃষ্টির ফলে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।

উল্লেখ করা প্রয়োজন যে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও তাদের নেতারা শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে আসছেন, যা আমাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এ কারণেই আমরা বিষয়টি তুলে ধরেছি। উল্লেখ করা তথ্যে বিভ্রান্তি থাকলেও অর্থনীতির এই বিষয়ে আমাদের উদ্বেগ অমূলক নয়। আমরা মনে করি এক্ষেত্রে সরকারের বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।

সিপিডির গবেষণা দল ভবিষ্যতে এ ধরনের তথ্যগত বিভ্রান্তি এড়াতে আরও সতর্ক থাকবে। একই সঙ্গে বিষয়টি আমাদের নজরে আনার জন্য দ্য ডিসেন্টকে এবং পেশাদারিত্বের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।