গণঅভ্যুত্থানে ৬০০ পুলিশ নিহতের ভুয়া তথ্য জাতিসংঘের নামে প্রচার করলেন সিনিয়র সাংবাদিক এম এ আজিজ
২০২৪ সালের জুলাই গণ- অভ্যুত্থানে নিহতদের নিয়ে জাতিসংঘের হিসেবে ১৪০০ নিহত ব্যক্তির মধ্যে অন্তত ৫০০ থেকে ৬০০ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন—এমন দাবি করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক এম এ আজিজ।
গত ২২ আগস্ট কালের কণ্ঠের একটি টকশোতে তিনি বলেন, “জাতিসংঘ বলছে ১৫ [আগস্ট] তারিখ পর্যন্ত ১৪০০ [ব্যক্তি নিহত হয়েছে], এর মধ্যে পুলিশই আছে ৫০০-৬০০।”
তবে দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ৫০০ থেকে ৬০০ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার কোনো তথ্য নেই। বরং বাংলাদেশ পুলিশের দেওয়া তথ্য উদ্ধৃত করে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর বা OHCHR জানিয়েছে, ওই সময়ে নিহত পুলিশ সদস্যের সংখ্যা ছিল ৪৪ জন।
২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত OHCHR-এর Human Rights Violations and Abuses related to the Protests of July and August 2024 in Bangladesh শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন বিশ্বাসযোগ্য উৎস থেকে পাওয়া মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি অনুমান করেছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নিহতদের ১২ থেকে ১৩ শতাংশ শিশু হতে পারে।
কিন্তু এই প্রায় ১,৪০০ নিহতের মধ্যে ৫০০ থেকে ৬০০ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন—এমন কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
বরং পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের ২২৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বাংলাদেশ পুলিশের দেওয়া তথ্য উদ্ধৃত করে OHCHR জানায়, ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ৪৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত এবং আরও ২,৩০৮ জন আহত হন। একই অনুচ্ছেদে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের তিন সদস্য, আনসার ও ভিডিপির তিন সদস্য এবং র্যাবের দুই সদস্য নিহত হওয়ার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটির ২২২ নম্বর অনুচ্ছেদে OHCHR আরও জানায়, প্রতিশোধমূলক সহিংসতায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মোট কতজন নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে সংস্থাটি নিজস্ব কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব নির্ধারণ করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ তাদের ১৪৪ জন কর্মকর্তা ও নেতাকর্মী নিহত হওয়ার একটি তালিকা OHCHR-কে দিয়েছিল। তবে জাতিসংঘ ওই ঘটনাগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে অন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য সূত্রেও ৫০০ থেকে ৬০০ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে, ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট পুলিশ সদর দপ্তর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় নিহত ৪৪ পুলিশ সদস্যের একটি তালিকা প্রকাশ করে। সেখানে জানানো হয়, নিহতদের মধ্যে তিনজন পরিদর্শক, ১১ জন উপপরিদর্শক বা এসআই, সাতজন সহকারী উপপরিদর্শক বা এএসআই, একজন এটিএসআই, একজন নায়েক এবং ২১ জন কনস্টেবল ছিলেন।
৫০০ থেকে ৬০০ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার তথ্যের উৎস জানতে চাইলে এম এ আজিজ দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “আমি একটা ফিগার বলেছি। অনুমান করে বলেছি। টকশোতে তো অনুমান করে বলতে হয়।”
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ৪৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার তথ্য রয়েছে—এ বিষয়টি তাকে জানানো হলে তিনি বলেন, “আমি ঠিক বলেছি।” এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।