‘ড. ইউনূস নিজের কর অব্যাহতি দিয়েছেন’ – ফের টকশোতে অসত্য তথ্য ছড়ালেন সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর

Roby Hossain
লেখক
রবি হোসাইন
২০ অক্টোবর, ২০২৬

গত ১৯ অক্টোবর ‘আগামীর সময়’ ইউটিউব চ্যানেলের ‘সন্ধিক্ষণে’ নামক এক টকশোতে সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর দাবি করেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় থাকাকালে নিজের কর অব্যাহতি দিয়েছেন। 

তিনি বলেন, “নিজের কর মুক্ত করে নিজেকে নিজের কর অব্যাহতি দিয়েছে।” 

পরদিন আনিস আলমগীর বক্তব্যের একটি ক্লিপ ফেসবুকে শেয়ার করেন।

এর আগেও ১৭ মার্চ প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও সাংবাদিক আনিস আলমগীর অভিযোগ করেন , ড. ইউনূস ক্ষমতায় এসে ৬৬৬ কোটি টাকার কর মাফ করে নিয়েছেন।  

আগামীর সময়ের টকশোর ১১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে উপস্থাপিকা শম্পা বিশ্বাস আনিস আলমগীরকে প্রশ্ন করেন, “আপনার কি মনে হয় যে বর্তমান এই অবস্থা এবং জুলাই সনদ নিয়ে যেটি হচ্ছে সেটির পেছনে আসলে ইউনূস সরকারই দায়ী?”

জবাবে আনিস আলমগীর বলেন, “কিছুটা তো দায়ী। বর্তমান যে চরিত্রটা আমরা যেটা বারবার বলছিলাম আমরা তো ক্ষমতা পরিবর্তন চেয়েছি। শেখ হাসিনার পরিবর্তন চেয়েছি। কিন্তু রাষ্ট্রকে এই অবস্থায় দেখতে চাই নাই। রাষ্ট্রকে এই অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার জন্য ইউনূস নিজেই দায়ী। অন্য কেউ না এবং এই এটা আমি বিএনপিকেও দায়ী করতে পারবো না অন্য দলকে দায়ী করতে পারবো না। তাদের দলকেও দায়ী করতে পারবো না। তারা তো রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল না। ইউনূস ক্ষমতায় ছিল তার পোষ্য কিছু ব্যক্তিকে নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে। নিজের খেয়াল খুশি অনুযায়ী করেছে। নিজের কর মুক্ত করে নিজেকে নিজের কর অব্যাহতি দিয়েছে। নিজের এমন কোন সুবিধা নাই সেটা নেয় নাই। কতটা নিকৃষ্ট হলে একটা ম্যানপাওয়ার বিজনেসের লাইসেন্স পর্যন্ত নেয়। এরকম একটা লোককে আমরা বানিয়েছিলাম রাষ্ট্র ক্ষমতায় দিয়েছিলাম। আজকে আমি দেখলাম যে এটা হাইকোর্ট আবার এটা দিয়েছে যে তার ৬৬৬ কোটি টাকার যে রায়টা হয়েছিল সেটা আবার স্থগিত করেছে।” 

দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা যায়, ড. ইউনূস ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজের কর অব্যাহতি দিয়েছেন এই দাবিটি সত্য নয়। 

মূলত, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট যে হাইকোর্ট বেঞ্চ গ্রামীণ কল্যাণের রিট খারিজ করে রায় দিয়েছিলেন, সেই বেঞ্চের একজন বিচারপতি এর আগে একই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন। বিষয়টি সামনে আসার পর ওই বছরের ৩ অক্টোবর হাইকোর্ট ওই রায় প্রত্যাহার করে মামলাটি নতুন বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। এটি কর মওকুফের কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না।

দ্য ডিসেন্টের ১৩ সেপ্টেম্বরের একটি প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে দায়িত্ব পালন করা দুই ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবীও নিশ্চিত করেছেন যে, ক্ষমতা খাটিয়ে কর মওকুফ করানোর দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং আইনি প্রক্রিয়ায় মওকুফ জাতীয় কোনো নির্দেশনাই কখনো দেওয়া হয়নি। 

গত ১০ সেপ্টেম্বর নতুন হাইকোর্ট বেঞ্চ গ্রামীণ কল্যাণের দায়ের করা দুটি রিটের রুল খারিজ করে দেন। এর ফলে এনবিআরের ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা কর দাবি আদায়ের আইনি বাধা দূর হয়। 

অর্থাৎ, ড. ইউনূস নিজের কর অব্যাহতি দিয়েছেন আনিস আলমগীরের এই দাবিটি সত্য নয়।