পঞ্চগড়ে তরুণীসহ আটক ব্যক্তি জামায়াত নেতা নন

Rabbi Miah
লেখক
রাব্বি মিয়া
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পঞ্চগড়ে এক তরুণীসহ আটক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের স্থানীয় নেতা ও মসজিদের খতিব মো. শহিদুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামীর নেতা দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর পঞ্চগড় চিনিকল কলোনির একটি কোয়ার্টার থেকে স্থানীয়রা শহিদুল ইসলামকে এক তরুণীসহ আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ওই ঘটনার তথ্য ও ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে তাকে জামায়াত নেতা হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়।

এমন কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে এবং এখানে।

তবে দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, আটক শহিদুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর নেতা নন। তিনি জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের নেতাদের সঙ্গে চলাফেরা করেন। তবে তিনি পদধারী নন বলে স্থানীয় ওলামাদলের নেতারা জানিয়েছেন।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর বার্তা বাজার, দৈনিক আমাদের সময় সহ একাধিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে আটক ব্যক্তিতে পঞ্চগড় জেলা ওলামা দলের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে পঞ্চগড় চিনিকল কলোনির একটি কোয়ার্টার থেকে এক তরুণীসহ শহিদুল ইসলামকে আটক করেন স্থানীয়রা। তিনি পঞ্চগড় জেলা ওলামা দলের সদস্য এবং পঞ্চগড় সুগার মিল জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

তবে দ্য ডিসেন্ট খোঁজ নিয়ে জেনেছে, আটক হওয়া শহিদুল ইসলাম জেলা ওলামা দলের পদধারী নেতা নন। ওলামা দলের কমিটিতে ক্বারী শহীদুল ইসলাম নামে একজন সদস্য রয়েছেন। যার কারণে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

অর্থাৎ জেলা ওলামা দলের সদস্য শহীদুল ইসলাম ও আটক ব্যক্তি ভিন্ন ব্যক্তি।

তবে আটক শহিদুল জেলা ওলামা দলের সদস্য না হলেও দলটির নেতাদের সঙ্গে তার নিয়মিত ওঠাবসা আছে। দলটির জেলা শাখার ও পঞ্চগড় সদর উপজেলার পদধারী নেতাদের সঙ্গে তার ছবি রয়েছে।

এছাড়াও পঞ্চগড় সদর উপজেলা জাতীয়তাবাদী ওলামাদলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রথম সারিতে তাকে দেখা যায়। শাখাটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজের কাভার ফটো সহ একাধিক পোস্টে আটক ব্যক্তির ছবি দেখা যায়।

দেখুন এখানে, এখানে ও এখানে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর উপজেলার পেইজের অ্যাডমিন ও পঞ্চগড় সদর উপজেলা ওলামাদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের মাহমুদ দ্য ডিসেন্টকে বলেন, ‘‘আটক শহিদুল ইসলাম আমাদের জেলা বা সদর উপজেলার কোনো কমিটিতে পোস্টেড না। তবে ৫ আগস্টের পর তার (আটক ব্যক্তি) আমাদের দলের লোকজনের সঙ্গে উঠাবসা আছে। তাছাড়া ২০২৩ সালের পর থেকে পঞ্চগড় সদর উপজেলা ওলামা দলের কমিটিই হয়নি।’’

আপডেটঃ আপডেট: একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আটক শহিদুল ইসলামকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের নেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেসব প্রতিবেদনকে সূত্র হিসেবে ধরে দ্য ডিসেন্টও তাঁকে বিএনপির সহযোগী সংগঠনটির পঞ্চগড় জেলা শাখার সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেছিল। তবে পরবর্তী অনুসন্ধানে দ্য ডিসেন্ট জানতে পেরেছে, আটক শহিদুল ইসলাম জেলা ওলামা দলের কোনো পদধারী নেতা বা কমিটির সদস্য নন। সংগঠনটির জেলা কমিটিতে ‘ক্বারী শহীদুল ইসলাম’ নামে ভিন্ন একজন সদস্য থাকায় এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।