খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ ও জেএসএসের গোলাগুলির দৃশ্য দাবিতে মিয়ানমারের ভিডিও প্রচার
ফেসবুকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হয়েছে যে, খাগড়াছড়ির ইউপিডিএফ ও জেএসএস-এর সশস্ত্র বিদ্রোহীরা একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
দেখুন এখানে
দ্য ডিসেন্ট এর যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওটি মিয়ানমারের মিয়াউং শহরে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে এক বা একাধিক বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হওয়া সংঘর্ষের ঘটনা।
যাচাইয়ে মিয়ানমারের Khit Thit Media তে ৯ মে ২০২৫ সালে প্রকাশিত মূল ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়।
ভিডিওর ক্যাপশন থেকে জানা যায়, “সাগাইং অঞ্চলে ৬ জন সামরিক কাউন্সিল সেনাদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং ৩টি বন্দুক জব্দ করা হয়েছে। সাগাইং অঞ্চলের ৪ জন সেনা সহ একজন সামরিক জেনারেল নিহত হয়েছেন এবং ৩টি বন্দুক জব্দ করা হয়েছে। সিডিএসওএম (জেনারেল সিংওয়া) সামরিক বল থেকে পুলিশ বসমা ইয়াঙ্গুন মডার্ন নিউজকে জানিয়েছেন।
এছাড়াও, ডেমোক্রেটিক ভয়েস অফ বার্মা (ডিভিবি) নামের মিয়ানমার ভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটেও এ বিষয়ে গত বছরের ১০ মে তারিখে একটি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ হতে দেখা যায়৷ উক্ত প্রতিবেদনটিতে সংযুক্ত ছবির সাথেও আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটিতে প্রদর্শিত স্থানের সাদৃশ্য পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, “মিয়াউংয়ে জান্তা সেনাদের উপর হামলা, ডেপুটি কমান্ডারসহ ৪ জন নিহত, ৩টি বন্দুক জব্দ | সাগাইং অঞ্চলের মিয়াউং শহরে ৫ মে তারিখে জান্তা সেনাদের উপর আচমকা হামলা চালানো হয়। এতে একজন ডেপুটি কমান্ডারসহ মোট ৪ জন সেনা নিহত হয় এবং কয়েকটি অস্ত্রও জব্দ করা হয় বলে ৯ মে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে হামলায় অংশ নেওয়া Myaung Rangers Force (M.R.F)…” (অনূদিত)
উক্ত তথ্যের সূত্র ধরে ‘Myaung Rangers Force -MRF’ নামের একটি ফেসবুক পেজ পাওয়া যায়৷ উক্ত পেজটিতে গত ৯ মে তারিখে একটি ভিডিও প্রচার হতে দেখা যায়৷ উক্ত ভিডিওটির নানা ফ্রেমে প্রদর্শিত স্থানের সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটিতে প্রদর্শিত স্থানের সাদৃশ্য পাওয়া যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হয়, “সংঘর্ষ সংক্রান্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তি | ৫ মে ২০২৫ তারিখে মিয়াউং শহরের টোল গেটে টোল আদায়ে নিয়োজিত জান্তা বাহিনীর একটি গেটকে Myaung Rangers Force (M.R.F), সাগাইং জেলার ব্যাটালিয়ন (১) এবং ဗိုလ်စကြာ (বো সিংজ্যা) ইউনিট যৌথভাবে আক্রমণ চালায়।
সংঘর্ষ শুরুর সময় আমাদের বাহিনীই প্রথমে হামলা চালায়। কিছুক্ষণ পর সংঘর্ষস্থলে জান্তা বাহিনীর একটি রিজার্ভ ইউনিট আনুমানিক ৩০ জন সেনা নিয়ে এসে শক্তি বাড়ায়, ফলে লড়াই আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এই যুদ্ধে আমাদের পক্ষে এক যোদ্ধা দুহাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। তবে আমরা জান্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে MA ধরনের ৩টি হালকা আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করতে সক্ষম হই। ঘটনার পর প্রাপ্ত প্রমাণাদি অনুযায়ী, জান্তা বাহিনীর পক্ষে একজন ডেপুটি কমান্ডারসহ মোট ৪ জন নিহত হয়েছে এবং আরও ৬ জন আহত হয়েছে।” (স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনূদিত)
অর্থাৎ, এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে প্রচারিত ভিডিওটি মিয়ানমারের।