দীপু দাস হত্যায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি—শরিফুল হাসানের এমন দাবি সঠিক নয়

Suraiya Salsabil Mukta
লেখক
সুরাইয়া সালসাবিল মুক্তা
৩০ আগস্ট, ২০২৬

আরটিভির ‘কেমন বাংলাদেশ চাই’ শীর্ষক টকশোতে ব্র্যাক এর এসোসিয়েট ডিরেক্টর ও  কলামিস্ট শরিফুল হাসান দাবি করেন, দীপু চন্দ্র দাস হত্যার ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকার কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। তিনি আরও বলেন, ওই সময় সরকারের কাছ থেকে শুনতে হয়েছে, ‘মব একটি প্রেশার গ্রুপ’।

আরটিভি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলে ২৬ মে ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত “গোটা পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ এক করলেও একজন মানুষের জীবন পাবেন না: শরিফুল হাসান” শিরোনামের ভিডিওর ১ মিনিট ১২ সেকেন্ড থেকে তাকে এসব কথা বলতে শোনা যায়।

ভিডিওটি দেখুন এখানে

তবে দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা যায়, দীপু চন্দ্র দাস হত্যার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছিল। এ ছাড়া ‘মব নয়, প্রেশার গ্রুপ’ মন্তব্যটি হত্যাকাণ্ডের প্রায় ছয় মাস আগে করা হয়েছিল। প্রেস সচিব শফিকুল আলম তখন স্পষ্ট করেছিলেন, এটি সরকারের নয়, তার ব্যক্তিগত বক্তব্য।

হত্যার ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি গ্রেপ্তার

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলার ওয়েবসাইটে ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত “ময়মনসিংহে হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১০” শিরোনামের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ময়মনসিংহের ভালুকায় সনাতন ধর্মাবলম্বী যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে (২৭) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে সাতজনকে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এবং তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

দ্য ডেইলি স্টার বাংলার ওয়েবসাইটে ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত “ময়মনসিংহে দিপু দাস হত্যা: ১২ আসামি ৩ দিনের রিমান্ডে” শিরোনামের আরেকটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা এবং পরে তার মরদেহে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১২ আসামির প্রত্যেককে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. লিমন সরকার, মো. তারেক হোসেন, মো. মানিক মিয়া, এরশাদ আলী, নিজুম উদ্দিন, আলমগীর হোসেন, মো. মিরাজ হোসেন আকন, আজমল হাসান সাগির, মো. শাহীন মিয়া, মো. নাজমুল, কাইয়ুম ও আশিক।

 

‘প্রেশার গ্রুপ’ মন্তব্যটি হত্যাকাণ্ডের ছয় মাস আগের

টকশোতে শরিফুল হাসান আরও দাবি করেন, দীপু চন্দ্র দাস হত্যার সময় সরকারের পক্ষ থেকে ‘মব একটি প্রেশার গ্রুপ’ বলা হয়েছিল।

কিন্তু দীপু চন্দ্র দাসকে হত্যা করা হয় ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর। অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ‘মব’কে ‘প্রেশার গ্রুপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন একই বছরের ২৬ জুন—অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডের প্রায় ছয় মাস আগে।

যুগান্তরের ওয়েবসাইটে ২৬ জুন ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত “‘মব’ নয়, এটা ‘প্রেশার গ্রুপ’: প্রেস সচিব” শিরোনামের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘মব ভায়োলেন্স’ প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেছিলেন, “বলা হচ্ছে মব তৈরি হচ্ছে—আমি এটাকে মব বলছি না, বলছি প্রেশার গ্রুপ। সেটা তৈরি হচ্ছে আগের সাংবাদিকতার ব্যর্থতার কারণে।”

তবে একই বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন, মন্তব্যটি তার ব্যক্তিগত; সরকারের নয়।