দ্য ডিসেন্টে’র প্রতিবেদনের পর নীরবে সেই রিপোর্টগুলো সরালো বাংলাদেশ প্রতিদিন
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ক্ষমতাকালীন সময়ে প্রকাশিত তথ্য-প্রমাণহীন ও বিতর্কিত অনেক প্রতিবেদন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইট থেকে নীরবে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন বাংলাদেশ প্রতিদিন এর ওয়েবসাইটে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রকাশিত তারেক রহমান, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং কোটা আন্দোলনকে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে যুক্ত করে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদন সরিয়ে নেওয়া হয়নি।
২৮ জুন দ্য ডিসেন্টে ‘তারেক রহমানের সঙ্গে আইএসআইয়ের বৈঠকের প্রোপাগান্ডা রিপোর্ট এখনও ওয়েবসাইটে রেখেছে বাংলাদেশ প্রতিদিন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত পাঁচ পর্বের ধারাবাহিকটিতে অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে কোনো ধরনের যাচাইযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই একাধিক গুরুতর দাবি করা হয়েছিল।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বাংলাদেশ প্রতিদিন তাদের ওয়েবসাইট থেকে প্রতিবেদনগুলো সরিয়ে নিয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমটির পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা, সংশোধনী কিংবা সম্পাদকীয় নোট প্রকাশ করা হয়নি।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ প্রতিদিন ২০১৮ সালের ১৯ থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ‘দেশের রাজনীতিতে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতা’ শিরোনামে একটি বিশেষ ধারাবাহিক প্রকাশ করে। ধারাবাহিকটির বিভিন্ন পর্বের শিরোনাম ছিল ‘তারেক-আইএসআই নিবিড় যোগাযোগ’, ‘বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী তালিকা আইএসআইয়ের বানানো’ এবং ‘সড়ক আন্দোলনেও ইন্ধন ছিল পাকিস্তানি আইএসআইর’।
এর মধ্যে ২১ ডিসেম্বর প্রকাশিত ‘তারেক-আইএসআই নিবিড় যোগাযোগ’ শিরোনামের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আইএসআইয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে। ২২ ডিসেম্বরের ‘বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী তালিকা আইএসআইয়ের বানানো’ শিরোনামের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আইএসআই ৩০০ আসনের একটি প্রার্থী তালিকা তৈরি করে তা তারেক রহমানের কাছে পাঠিয়েছিল। আর ২৩ ডিসেম্বরের ‘সড়ক আন্দোলনেও ইন্ধন ছিল পাকিস্তানি আইএসআইর’ শিরোনামের প্রতিবেদনে ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পেছনেও আইএসআইয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়।
এসব প্রতিবেদনে একাধিক গুরুতর অভিযোগ করা হলেও দাবিগুলোর পক্ষে কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। দ্য ডিসেন্টে বিষয়টি তুলে ধরার পর বাংলাদেশ প্রতিদিনপ্রতিবেদনগুলো সরিয়ে নিলেও, কেন সেগুলো অপসারণ করা হলো বা প্রকাশিত তথ্য নিয়ে তাদের বর্তমান অবস্থান কী সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।