নেপালের জেন-জি অভ্যুত্থানে পতন হয়েছিল ওলি সরকারের, দেউবার নয়

Rabbi Miah
লেখক
রাব্বি মিয়া
১৫ আগস্ট, ২০২৬

নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার দেশে ফেরা এবং তাঁর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি অনুসন্ধান নিয়ে খবর প্রকাশ করতে গিয়ে বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যম তথ্যগত ভুল করেছে।

সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, ২০২৫ সালে নেপালের জেন-জি আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার সরকারের পতন হয়েছিল।

এমন দাবি করা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলাদেশ বুলেটিন, কালবেলা, চ্যানেল ওয়ান নিউজ, এবং মানবকন্ঠ

বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, "প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে শুরু হওয়া নেপালের জেন-জি আন্দোলন দ্রুত দুর্নীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণবিক্ষোভে রূপ নেয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, সরকারি স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের মধ্যে আন্দোলন তীব্র হলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা সরকারের পতন ঘটে।"

তবে দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, দাবিটি ভুল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালে দুর্নীতিবিরোধী জেন-জি আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। ওই সময় শের বাহাদুর দেউবা নেপালের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনেও আন্দোলনের মুখে ওলির পদত্যাগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বিক্ষোভের সময় নেপালের সংসদ ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও তুলে ধরা হয়।

শের বাহাদুর দেউবা তাঁর রাজনৈতিক জীবনে পাঁচবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তাঁর সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদ শেষ হয় ২০২২ সালে। ফলে ২০২৫ সালের জেন-জি আন্দোলনের সময় তাঁকে ‘তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী’ বলা কিংবা ওই আন্দোলনের মুখে তাঁর সরকারের পতন হয়েছিল বলে দাবি করার কোনো ভিত্তি নেই।

২০২৫ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর নেপালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের ব্যাপক সমর্থনে বালেন্দ্র শাহ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়।

এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের এপ্রিলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা এবং তাঁর স্ত্রী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবার বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

২০২৫ সালের আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীরা দেউবার বাসভবনেও হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছিল। সে সময় তাঁর বাড়ি থেকে নগদ অর্থ উদ্ধারের দাবি করে একটি ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে দেউবা ওই দাবিকে ভুয়া বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

এর মধ্যে প্রায় ছয় মাস বিদেশে চিকিৎসা শেষে গত ১৩ আগস্ট নেপালে ফেরেন দেউবা। তাঁর দেশে ফেরা এবং তাঁর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি অনুসন্ধানের খবর প্রকাশ করতে গিয়েই কয়েকটি বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম ২০২৫ সালের জেন-জি আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে ভুলভাবে যুক্ত করেছে।