ফ্রান্সের আন্দোলনের বলে একাধিক পুরোনো ভিডিও প্রচার করলো ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউন
গত সোমবার (৫ অক্টোবর) ফ্রান্সের উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করে ঢাকা ট্রিবিউন (আর্কাইভ) ও বাংলা ট্রিবিউন। উভয় প্রতিবেদনে লোগো হিসেবে ‘ট্রিবিউন ডিজিটাল’ ব্যবহার করা হয়েছে।
ট্রিবিউনের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হয়, “শিক্ষার্থী আ/ন্দোলনে উত্তাল ফ্রান্স, ব/ন্ধ ৫০০ স্কুল”।
দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, এক মিনিট ৩২ সেকেন্ডের ওই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত প্রথম তিনটি ফুটেজ পুরোনো ও ভিন্ন ঘটনার। এছাড়া প্রথম দুটি পুরোনো ফুটেজ প্রতিবেদনের শেষে আবারো দেখানো হয়েছে।
প্রথম দুই ফুটেজ ২০২২ সালের
ভিডিওটির শুরুতে থাকা প্রথম ফুটেজটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করে একাধিক ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।
ভারতীয় ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান Fact Crescendo-এর এক প্রতিবেদনে এই ফুটেজের উৎস হিসেবে ফরাসি সংবাদমাধ্যম Brut-এর একটি ভিডিওর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। Brut-এর ফেসবুক পেজে ২০২২ সালের ২৫ ডিসেম্বর ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, প্যারিসের একটি কুর্দি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সামনে হামলার পর সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
একই ফুটেজ নিয়ে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান Misbar-এর একটি প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, ভিডিওটি ফ্রান্সে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে পুলিশ ও কুর্দি সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার। অর্থাৎ, ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনের শুরুতে ব্যবহৃত ফুটেজটি বর্তমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের নয়।
প্রতিবেদনের দ্বিতীয় ফুুটেজে একটি বাসস্ট্যান্ড এর যাত্রী ছাউনি ভাঙচুরের দৃশ্য দেখা যায়। রিভার্স সার্চে এই ফুটেজেরও পুরোনো উৎস পাওয়া যায়।
আগের ফুটেজের ক্ষেত্রে উল্লেখ করা ফ্যাক্টচেকগুলোতেও দ্বিতীয় ফুটেজটিকে ২০২২ সালের বলে উল্লেখ রয়েছে।
ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে উল্লেখিত, তুরস্কের সংবাদমাধ্যম Yeni Şafak এর ২০২২ সালের ২৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদনের সঙ্গে ঢাকা ট্রিবিউনে ব্যবহৃত ফুটেজটির হুবহু মিল পাওয়া যায়।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্যারিসে একটি সশস্ত্র হামলায় তিনজন নিহত হওয়ার প্রতিবাদে পিকেকে (PKK)-এর সমর্থকেরা সহিংস কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন।
অর্থাৎ, ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনের প্রথম দুটি ফুটেজই ২০২২ সালের ডিসেম্বরের ভিন্ন দুটি ঘটনার।
তৃতীয় ফুটেজটি ২০২৩ সালের
ঢাকা ট্রিবিউনের ভিডিওতে ব্যবহৃত তৃতীয় ফুটেজটিও বর্তমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের নয়। ফুটেজটিতে একটি স্কুল বাসে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যম Midi Libre-তে ২০২৩ সালের ১৩ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে একই দৃশ্যের সন্ধান পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “Nîmes-এর রাস্তায় আগুনে জ্বলতে থাকা স্কুল বাসের চমকপ্রদ দৃশ্য”।
এছাড়া প্রতিবেদনে থাকা চতুর্থ ফুটেজটি সামজিক যোগাযোগমাধ্যম ও একাধিক সংবাদমাধ্যমে ফ্রান্সে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দেখুন এখানে, এখানে ও এখানে।
প্রসঙ্গত, ফ্রান্সে গত সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়। সংবাদমাধ্যমের খবরমতে, এই আন্দোলনের সূত্রপাত মূলত শিক্ষক সংকট নিয়ে। শুরুতে প্যারিস অঞ্চলের কয়েকটি স্কুলে বিক্ষোভ ও প্রবেশপথ অবরোধের মধ্য দিয়ে আন্দোলন শুরু হলেও পরে তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।