শ্রীলঙ্কার নতুন ভিসানীতি: সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে বিভ্রান্ত হলেন পাঠক
গতকাল ১৫ অক্টোবর বাংলাদেশের মূলধারার বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। শ্রীলঙ্কার নতুন ভিসানীতি বিষয়ক খবরটিকে কেন্দ্র করে বহু মানুষ যে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন তা সামাজিক মাধ্যমে অনেকের পোস্টে ফুটে ওঠেছে।
প্রথম আলো খবরটির শিরোনাম করে, “বাংলাদেশিদের আজ থেকে ভ্রমণের অনুমতি নিয়ে যেতে হবে শ্রীলঙ্কায়”।
দেখুন এখানে।
প্রতিবেদনের ভেতরে বলা হয়েছে, “শ্রীলঙ্কায় ভ্রমণে যেতে পর্যটকদের জন্য আগাম ‘ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথোরাইজেশন’ বা ইটিএ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছে দেশটির সরকার। আজ ১৫ অক্টোবর থেকে নতুন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। এত দিন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকেরা শ্রীলঙ্কার বিমানবন্দরে পৌঁছেও (অন-অ্যারাইভাল) নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে ভিসা সুবিধা পেতেন।”
অর্থাৎ, মূলত শ্রীলঙ্কার নতুন ভিসানীতিটি শুধু বাংলাদেশের জন্য না হলেও শিরোনামে শুধু বাংলাবেশিদের ক্ষেত্রে বিশেষায়িত করে তথ্যটি পরিবেশন করা হয়েছে।
অনেকের কাছে মনে হয়েছে, নতুন ভিসানীতিটি শুধু বাংলাদেশিদের জন্য। তেমনটি প্রতীয়মান হয় কয়েকজন ব্যক্তির ফেসবুক পোস্ট দেখলেই।
ইসরাত জাহান উর্মি নামে ডিবিসি নিউজ এর একজন সাংবাদিক প্রথম আলোর প্রতিবেদনটি ফেসবুকে শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছেন, “এরপর কি আফ্রিকার দেশগুলোও ভ্রমনের অনুমতি চাইবে বাংলাদেশীদের কাছে?”।

যেন শ্রীলঙ্কার নতুন ভিসানীতি শুধু বাংলাদেশিদের জন্য করা হয়েছে! একইরকম পোস্ট করেছেন আরেক ব্যক্তি যিনি লিখেছেন, “যে শ্রীলংকারে শেখ হাসিনা সরকার ঋণ দিয়েছিল। সেই শ্রীলংকায় বাংলাদেশিদের আজ থেকে ভ্রমণের অনুমতি নিয়ে যেতে হবে।”

অন্য আরেকটি পোস্টে লেখা হয়েছে, “আস্তে আস্ত্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সব বিদেশ যাত্রা এমনকি বাংলাদেশিদের আজ থেকে ভ্রমণের অনুমতি নিয়ে যেতে হবে শ্রীলঙ্কায়ও!”

পরে অবশ্য শিরোনাম বদলে প্রথম আলো করেছে, “শ্রীলঙ্কায় ভ্রমণে বাংলাদেশিসহ বিদেশি পর্যটকদের নিজ নিজ দেশ থেকে আগাম ইটিএ গ্রহণ বাধ্যতামূলক”।
সংশোধনী দিয়েছে পত্রিকাটি। লিখেছে, “শ্রীলঙ্কায় ভ্রমণে বাংলাদেশিসহ বিদেশি পর্যটকদের নিজ নিজ দেশ থেকে আগাম অনুমতি নিতে হবে। আগের শিরোনামে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় প্রতিবেদনটির শিরোনামসহ কিছু অংশ আরও স্পষ্ট করা হলো।”
তবে একই কাজ অন্য আরো বহু পত্রিকা বা টিভি চ্যানেলও করেছে। যদিও তারা একদিন পরও প্রতিবেদনগুলোর শিরোনাম সংশোধন করেনি।
যেমন, ঢাকা পোস্ট-এর শিরোনাম, “বাংলাদেশিদের জন্য শ্রীলঙ্কায় প্রবেশে নতুন নিয়ম, ১৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর”।
ভেতরে বলা হয়, “বাংলাদেশিদের জন্য শ্রীলঙ্কার বিমানবন্দরে অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা থাকলেও সেটির পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে শ্রীলঙ্কা যেতে ইচ্ছুক পর্যটকদের আগে থেকেই ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক করেছে সে দেশের সরকার।”
দেখুন এখানে।
জনকণ্ঠ পত্রিকায় শিরোনাম করা হয়েছে ”১৫ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশিদের জন্য শ্রীলঙ্কায় প্রবেশে নতুন নিয়ম।
দেখুন এখানে।
কালের কণ্ঠে শিরোনাম, “আজ থেকে শ্রীলঙ্কার ভিসা পেতে অনুমতি লাগবে বাংলাদেশিদের”।
দেখুন এখানে।
ডিবিসি নিউজের শিরোনাম, “শ্রীলঙ্কার ভিসা পেতে এখন থেকে অনুমতি লাগবে বাংলাদেশিদের”।
দেখুন এখানে।
যমুনা টিভির শিরোনাম, “এখন থেকে শ্রীলঙ্কায় ভ্রমণের অনুমতি নিয়ে যেতে হবে বাংলাদেশিদের”।
দেখুন এখানে।
কী বলছে শ্রীলঙ্কান সরকারের ওয়েবসাইট
এ বিষয়ে শ্রীলংকার ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথোরাইজেশন এর ওয়েবসাইটে (https://eta.gov.lk/slvisa/) একটি ইমার্জেন্সি নোটিশ সংযুক্ত করা হয়েছে।
সেখানে উল্লেখ করা হয়, সিচিলিস মালদ্বীপ ও সিঙ্গাপুর এর নাগরিক বাদে বাকি সকল দেশের পর্যটকদের জন্য ইটিএ সেবাটি ১৫ অক্টোবর থেকে বাধ্যতামূলক করা করা হয়েছে।
শ্রীলংকার সরকার দুই দেশ ছাড়া সকল দেশের পর্যটকদের জন্য ‘ইটিএ’ বাধ্যতামূলক করলেও, জনকন্ঠ ও ঢাকা পোস্ট তাদের প্রতিবেদনের কোথাও এটি উল্লেখ করেনি।