Habiganj NCP assault: Chhatra Dal members identified among attackers
গতকাল (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর সহিংস হামলার ঘটনার পর হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমদ রিংগন গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে দাবি করেছেন, এই হামলায় ছাত্রদল বা বিএনপির কোনো অঙ্গসংগঠন জড়িত নয়। তিনি ঘটনাটিকে ‘উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সাধারণ ছাত্র-জনতার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ’ এবং ‘অন্য একটি সংগঠনের সাজানো নাটক’ বলে দাবি করেন।
তবে দ্য ডিসেন্ট ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত বিভিন্ন পদ-পদবির অন্তত ৪ জনকে হামলায় জড়িত হিসেবে শনাক্ত করেছে।
এরা হলেন, সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আল সাইমুম আহাদ, বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুজাক্কির হোসেন ইমন, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আসিফুল ইসলাম ইমন, হবিগঞ্জ সদর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন অনি। এই ৪ জনই বিএনপি নেতা জি কে গৌছের অনুসারী হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত।
হামলার সময় আল সাইমুম আহাদকে গালি দিয়ে গাড়িতে থাকা এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করতে দেখা গেছে। তিনি নিজেই হামলার ভিডিও ধারণ করেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নামিয়ে রড দিয়ে ড্রাইভারের উপর একই সময় হামলা করেন আসিফুল ইসলাম ইমন ও মুজাক্কির হোসেন ইমন। পাশাপাশি রড দিয়ে আঘাত করে গাড়ির গ্লাসও ভেঙে ফেলেন তারা। পরে নাজমুল হোসেন অনিকেও ড্রাইভারের উপর রড দিয়ে হামলা করতে দেখা যায়। এছাড়াও তিনি অন্য এক এনসিপি কর্মীকে রড দিয়ে মারধর করেন।
এক ফেসবুক পোস্টে হামলার সূত্রপাত সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, “আজমেরীগঞ্জের সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গউছ ভাইকে ও তাঁর সহধর্মিণীকে নিয়ে অশালীন বক্তব্য দেয় এবং মিথ্যা ও বানোয়াট কথাবার্তা বলে। আমরাও আমাদের জায়গা থেকে প্রতিবাদ জানাই। হবিগঞ্জেও সে গউছ ভাই, তাঁর সহধর্মিণী এবং দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট কথাবার্তা বলে। তখনই হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি, সেক্রেটারি ও সাংগঠনিক সম্পাদক আমাদের নির্দেশনা দেন কেউ যাতে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনায় না জড়াই। আমরাও আমাদের দিক থেকে নিরব ছিলাম। সমাবেশস্থল থেকে আমরা প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে ছিলাম, হঠাৎ এনসিপির মিডিয়ার গাড়ি আমাদের সামনে আসে। আমরা প্রথমে মনে করেছিলাম গাড়িতে নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী আছে। আমরা তাকে সুন্দর করে বুঝিয়ে কথাবার্তা বলবো সেটাই ভেবেছিলাম। কিন্তু গাড়িটা আমাদের থেকে ৫/৬ হাত কাছে এসেই ফুল স্পিডে টান দেয়া শুরু করে। আমাদের প্রায় ২ জন নেতাকর্মীকে ধাক্কা দেয়। আমিও পায়ে একটু ব্যথা পাই। তারপর থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। আশেপাশের দোকানপাটের মানুষই গাড়িকে ধাওয়া দেওয়া শুরু করে। এরপরে আমাদের নেতাকর্মীদের উপর পেছন থেকে এনসিপির নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল ছুঁড়ে। তারপরেই মূলত ছাত্রদল প্রতিরোধ করে।”
মুজাক্কির হোসেন ইমন হামলা সংক্রান্ত একটি খবর লিংক শেয়ার দিয়ে লিখেছেন, “কেমন হলো বন্ধুরা”।
কমেন্টে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হামলার জন্য সাধুবাদ জানাতে দেখা যায় তাকে। এছাড়া তার আইডিতে ডজন খানেক পোস্ট দেখা যায় যেখানে অন্যরা তাকে ট্যাগ করে এনসিপি নেতাকর্মীদের মারধর করার জন্য তাকে প্রশংসা করেছেন।
মুজাক্কির নিজেও হামলার একটি ভিডিও শেয়ার দিয়ে লিখেছেন, “আমরা জুলাই বিপ্লবের সময় সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। হবিগঞ্জের রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে আমাদেরও অবদান রয়েছে। তাই আমাদের নিয়ে কোনো অশালীন, কুরুচিপূর্ণ বা অসম্মানজনক মন্তব্য করলে তা হবিগঞ্জের মানুষ মেনে নেবে না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু সম্মান ও শালীনতার সীমা অতিক্রম করলে তার প্রতিবাদ অবশ্যই করা হবে। মনে রাখতে হবে—হবিগঞ্জের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় ঐক্যবদ্ধ।”
আসিফুল ইসলাম ইমন তার ওয়ালে হামলার একাধিক ভিডিও শেয়ার দেন যেগুলোতে তাকে হামলায় যুক্ত থাকতে দেখা যাচ্ছে।