Hindus Express Satisfaction with Peaceful Durga Puja Celebrations

21 October 2026

অঞ্জলি, আরতি ও পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে আজ বিজয়া দশমীতে শেষ হয়েছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সকালে দশমী বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর দেবীকে সিঁদুর দিয়ে বরণ, সিঁদুর খেলা ও অন্যান্য আয়োজন শেষে বিকেলে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ছয় দিনের উৎসব। গত শুক্রবার দেবীর পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল এবারের দুর্গোৎসব।

এবারের দুর্গাপূজা উদযাপনের অভিজ্ঞতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, স্বজনদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি এবং উৎসবের পরিবেশের কথা তুলে ধরে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারা।

তবে, একই সময়ে দুর্গাপূজা ও বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়কে ঘিরে ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে একাধিক গুজব ও অসত্য দাবি। এর মধ্যে পুরোনো হামলার ভিডিওকে সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে প্রচার, ভিন্ন ঘটনার ভিডিওতে মন্দিরে হামলার দাবি এবং ভারতের ঘটনাকে বাংলাদেশের বলে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তবে সারাদেশে বড় ধরণের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক সংবাদমাধ্যম প্রথম কলকাতার একটি ফেসবুক পোস্টে বাংলাদেশের পূজার পরিবেশ নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশের সনাতন ধর্মালম্বীরা। প্রথম কলকাতার ফেসবুক পেজে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে প্রশ্ন করা হয়, “নতুন সরকারের আমলে কেমন কাটছে বাংলাদেশের দুর্গাপুজো?”

১৩৭টি মন্তব্যের মধ্যে ১৩৫টিতে সন্তোষ

এই প্রতিবেদনটি লিখার সময় পোস্টটিতে প্রায় দুই হাজার মন্তব্য ছিল। সেখান থেকে ফেসবুকের ‘মোস্ট রিলেভ্যান্ট’ হিসেবে প্রদর্শিত ২০০টি মন্তব্য বিশ্লেষণ করেছে দ্য ডিসেন্ট। 

এই ২০০টির মধ্যে ১৩৭টি মন্তব্য ছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের। এর মধ্যে ১৩৫টিতে পূজা উদযাপন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। বাকি দুটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছুটা কড়াকড়ির কথা বলা হয়েছে।

বিষ্ণু শীল নামে একজন লিখেছেন, তার বিশ্বাস, স্বাধীনতার পর তারেক রহমানের সরকারের আমলেই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পূর্ণ আনন্দ নিয়ে দুর্গাপূজা উদযাপন করছেন। সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও সব ধর্মের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, সেই প্রত্যাশা জানান তিনি।

গোপাল দত্ত নামে আরেকজন নিরাপত্তাব্যবস্থা ও স্থানীয় পর্যায়ের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেছেন।

তিনি লিখেছেন, “এবার পুজো আনন্দময় হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আনসার থেকে শুরু করে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সবাই পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মতো।”

সরকার সব ধর্মের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফরিদপুরের বাসিন্দা সুজয় সাহার লিখেছেন, স্বাধীনতার পর এবারের দুর্গাপূজাই তার কাছে সবচেয়ে নির্বিঘ্ন মনে হয়েছে। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাননি বলে জানান তিনি।

তার মন্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন জেলায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সার্বিক সহযোগিতার কথা উঠে এসেছে। পূজা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য তাকে কৃতিত্ব দিয়ে তার মঙ্গল কামনা করেছেন সুজয় সাহা।

চন্দনদাস সচীন লিখেছেন, ভালোকে ভালো এবং খারাপকে খারাপ বলার স্বাধীনতা ও অধিকার সবার রয়েছে। তার অভিজ্ঞতায়, অন্যবারের তুলনায় এবারের পূজা সুন্দরভাবে উদযাপিত হয়েছে এবং তিনি আপত্তিকর কোনো ঘটনার খবর পাননি।

প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে ঈদ, পূজাসহ সব ধর্মীয় অনুষ্ঠান মিলেমিশে উদযাপনের প্রত্যাশাও জানান তিনি।

কিশোর দাসের মন্তব্য, “নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে যদি বলি, গত কয়েকবছরের মধ্যে সেরা পূজা ছিল এটা। সরকারের আন্তরিকতা ছিল যথেষ্ট।”

পিরোজপুরের লিটন বিশ্বাস লিখেছেন, “এবারের দুর্গাপূজো ভালই কেটেছে। কোন আপত্তিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এ জন্য সরকার বাহাদুরকে ধন্যবাদ।”

এসব বক্তব্য মন্তব্যকারীদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও মূল্যায়ন। বিশেষ করে ‘স্বাধীনতার পর সবচেয়ে ভালো পূজা’ কিংবা কোথাও কোনো ঘটনা না ঘটার মতো বক্তব্যগুলো তাদের মতামত হিসেবেই বিবেচ্য।

ব্যক্তিগত পোস্টেও আনন্দের অভিজ্ঞতা

প্রথম কলকাতার পোস্টের বাইরেও নিজেদের ফেসবুক প্রোফাইলে পূজা উদযাপনের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন অনেকে।

ঢাকার বাসিন্দা পাপ্পু কুমার কুন্ডু এক দীর্ঘ পোস্টে দাবি করেছেন, প্রথম কলকাতার প্রশ্নের উত্তরে প্রায় ছয় হাজার বাংলাদেশি হিন্দু মন্তব্য করে জানিয়েছেন, স্বাধীনতার পর তারা এত সুন্দর পূজা দেখেননি।

এই সংখ্যা দ্য ডিসেন্টের পর্যবেক্ষণের সময় পাওয়া প্রায় দুই হাজার মন্তব্যের হিসাব থেকে আলাদা। দুটি হিসাব ভিন্ন সময়ে নেওয়া কি না, তা স্পষ্ট নয়। মন্তব্যকারীদের সবাই বাংলাদেশি হিন্দু কি না, সেটিও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

পাপ্পু কুমার কুন্ডুর দাবি, তিনি ওই মন্তব্যকারীদের প্রায় সবার প্রোফাইল দেখেছেন। তার পর্যবেক্ষণে, তারা শিক্ষিত এবং প্রায় সবাই চাকরিজীবী। কারও কারও কভার ছবিতে শেখ হাসিনার ছবি থাকলেও অনেকে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উপভোগ করতে পারায় তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পোস্টটিতে এবারের পূজাকে পাঁচই আগস্টের পর আওয়ামী লীগের বড় রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন পাপ্পু। তার ভাষ্য, স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগবিহীন অবস্থায় এমন শান্তিপূর্ণ পূজা উদযাপন হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে দলটির প্রচলিত রাজনৈতিক বক্তব্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

প্রতিবছর পূজার সময় সমস্যা সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগ ছাড়া হিন্দুদের রক্ষা করার কেউ নেই—এমন ভয় দেখানো হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আওয়ামী লীগকে হিন্দুদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। এসব বক্তব্য তার রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও অভিযোগ।

তবে সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে, এমন দাবি করেননি পাপ্পু। দেবী দুর্গাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য এবং পূজাকে কেন্দ্র করে অনলাইনে বিদ্বেষ চলমান থাকার কথাও লিখেছেন তিনি।

তার মতে, সেই অনলাইন বিদ্বেষকে বাস্তব জীবনের সহিংসতায় রূপ নিতে না দেওয়ার কৃতিত্ব সরকার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশপন্থী নাগরিকদের।

পূজার আনন্দকে হিন্দু, মুসলমান, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ—সব সম্প্রদায়ের আনন্দ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। আর এই পরিস্থিতিকে আওয়ামী লীগ ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত থেকে সুবিধা নিতে চাওয়া ব্যক্তিদের পরাজয় বলে মন্তব্য করেছেন।

হবিগঞ্জের বাসিন্দা সৃজন বিশ্বাস নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে লিখেছেন, “লাইফে সবচেয়ে আনন্দময় দুর্গা পূজা উদযাপন করলাম।”

ঢাকার বাসিন্দা নুপুর রয়ের পোস্টে উঠে এসেছে রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা।

তিনি লিখেছেন, “গত দুই দিন ধরে ঘুরে বেড়ানো ঢাকার চেনা-জানা সুন্দর সুন্দর পূজামণ্ডপ, মনের মতো ছবি তোলা, প্রিয়জনদের সঙ্গে আড্ডা, ঘোরাঘুরি আর আনন্দ-উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে এবারের দুর্গোৎসব হয়ে উঠেছে আরও রঙিন, আরও স্মরণীয়।”

ঢাকার আরেক বাসিন্দা জয় সাহা গুলশান-বনানীর পূজামণ্ডপের প্রশংসা করে লিখেছেন, “গুলশান বনানী পূজা মন্ডপ এবার ঢাকার সর্বশ্রেষ্ঠ পূজা প্যান্ডেল। দেখার মত একটি পূজা প্যান্ডেল ও উৎসব মুখর পরিবেশ।”

পৃথক একটি ভিডিওতে আরেক তরুণীও নির্বিঘ্ন ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপনের সুযোগ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনের মধ্যেও ছড়িয়েছে গুজব

বাংলাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনের মধ্যেও পূজা ও হিন্দু সম্প্রদায়কে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে একাধিক ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর দাবি। ভারতভিত্তিক কয়েকটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে পুরোনো ও ভিন্ন ঘটনার ভিডিওকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। ছড়ানো হয়েছে সংবাদমাধ্যমের ফটোকার্ড সম্পাদনা করে তৈরি মিথ্যা তথ্যও।

এর মধ্যে একটি দাবি ছিল, এ বছর দুর্গাপূজা শুরুর আগেই বাংলাদেশে ৩০টির বেশি পূজামণ্ডপে হামলা হয়েছে। তবে দাবিটির সঙ্গে প্রচারিত ভিডিওটি সাম্প্রতিক নয়। দ্য ডিসেন্টের যাচাই অনুযায়ী, ২০২১ সালের অক্টোবরে চৌমুহানির লোকনাথ মন্দিরের কাছে একটি অস্থায়ী প্যান্ডেলে ভাঙচুরের ভিডিওকে সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। ফলে ওই ভিডিও দিয়ে এবারের পূজার আগে হামলার দাবির সত্যতা প্রতিষ্ঠা করা যায় না।

এ ছাড়া বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের নাম ও লোগোযুক্ত একটি ফটোকার্ড সম্পাদনা করে ছড়ানো হয়েছে। এতে দাবি করা হয়, ভারতে পূজামণ্ডপে যাওয়ায় একজন মুসলিম নারীকে হিন্দুরা পিটিয়ে হত্যা করেছেন।

যাচাইয়ে দেখা যায়, মূল ফটোকার্ডটি ছিল গাইবান্ধায় পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনকালে অসুস্থ হয়ে নারী আনসার সদস্য পারভীন বেগমের মৃত্যুর খবর নিয়ে। ডিবিসি নিউজের প্রকাশিত ‘গাইবান্ধায় পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনকালে অসুস্থ হয়ে নারী আনসার সদস্যের মৃত্যু’ শিরোনামের ফটোকার্ডটি বদলে এই মিথ্যা দাবি প্রচার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ভারত থেকে পরিচালিত বলে চিহ্নিত Bappa Sarker নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয়েছে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বাংলাদেশে ৩০টির বেশি হিন্দু বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।

তবে দাবিটির সঙ্গে প্রচারিত ভিডিওটি ময়মনসিংহে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার। ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ২২শে সেপ্টেম্বর সকালে চরআলগী ইউনিয়নের চর কালিবাড়ি এলাকায় মামলার প্রধান আসামি শরীফের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। পরে সন্ধ্যায় একই মামলার আসামি ফাহিম, রাজিব ও এনামুলের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। সেই ঘটনাকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হিন্দুদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ভারতভিত্তিক Jitendra pratap singh নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে আরেকটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হয়েছে, ভিডিওতে থাকা মুসলিম ব্যক্তি বাংলাদেশে একটি দুর্গাপূজার মণ্ডপ ও একটি হিন্দু মন্দির ভাঙচুর করেছেন এবং সে কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওর ব্যক্তি ফজলুল হক আমিনীকে মণ্ডপ বা মন্দির ভাঙচুরের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়। ওই মামলাতেই তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন।

একইভাবে ভারতভিত্তিক Pakistan Untold নামের আরেকটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয়েছে, নেত্রকোনায় ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে উগ্র ইসলামপন্থী জনতা হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা ও তাদের ওপর নির্যাতন করেছে।

তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি গত জুলাইয়ের একটি ঘটনার। নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ফেসবুকে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে দুই যুবকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করে পুলিশ। এর জেরে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তদের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। সেই ঘটনার ভিডিওকে এবারের দুর্গাপূজার সময়ের বলে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর। তবে ভিডিওটির সময় শনাক্ত করার মাধ্যমে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ সত্য না মিথ্যা ছিল, তা নির্ধারণ করা যায় না।

ভারতভিত্তিক আরেকটি অ্যাকাউন্ট Kreately.in থেকে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশের উজিরপুরে দুর্গাপূজা উদযাপনের সময় ইসলামপন্থীদের হামলার শিকার হয়েছেন হিন্দুরা। প্রচারিত দাবিটির সংরক্ষিত সংস্করণে একটি ভিডিও ব্যবহার করা হয়েছে।

যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়, ভারতের। স্বপ্না দাস নামে এক ভারতীয় নারীর প্রোফাইলে ঘটনাটি নিয়ে একাধিক ভিডিও পাওয়া যায়। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ মহকুমার গাইঘাটায় একটি প্রতিমা গাড়িতে তোলার সময় পড়ে যায়। সে সময় ধারণ করা ভিডিওই বাংলাদেশের উজিরপুরে পূজা উদযাপনকারীদের ওপর হামলার দাবি দিয়ে ছড়ানো হয়েছে।