How a Fake Screenshot and Facebook Campaign Preceded Siam’s Two-Month Detention

16 August 2026

১৭ বছরের কিশোর সাবিদুল ইসলাম সিয়াম। তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন সময়ে জামায়াত-শিবিরের সমর্থনে পোস্ট করতে দেখা যায়। এ বছরের ২০ জুন ফেসবুকে একটি স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। স্ক্রিনশটে দেখা যায়, সিয়াম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছেন। 

স্ক্রিনশটটি মুহুর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ছাত্রদল ও বিএনপির অ্যাক্টিভিস্টরা স্ক্রিনশটটি পোস্ট করে সিয়ামকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে উল্লেখ করে গ্রেপ্তার ও শাস্তি দাবি করেন। যদিও সিয়াম ২১ জুন তার ফেসবুক পেজে একটি ভিডিওতে দাবি করেন, তিনি জাইমা রহমানকে নিয়ে এরকম আপত্তিকর পোস্ট করেননি। 

২২ জুন দ্য ডিসেন্ট এক ডিজিটাল অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রমাণ করে যে, সিয়ামের নামে প্রচারিত স্ক্রিনশটটি ভুয়া। মূলত আওয়ামীপন্থী সাইবার অপরাধীরা তার নামে ভুয়া স্ক্রিনশট ও স্ক্রিন রেকর্ড তৈরি করে ছড়িয়েছে।

প্রতিবেদনটি দেখুন এখানে। 

২২ জুন স্ক্রিনশটটি ভুয়া প্রমাণিত হলেও তার দুই দিন আগেই (২০ জুন) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থানায়  দুইটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়। এর মধ্যে একটি অভিযোগ দায়ের করেন ছাত্রদল আখাউড়া পৌরশাখার সাবেক সভাপতি এবং আখাউড়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী রিফাতুল ইসলাম তারেক।

অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ২১ জুন সিয়ামকে আটক করে ২০২৪ সালের নভেম্বর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় ‘ছাত্রলীগসমর্থক’ হিসেবে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

অর্থাৎ, অনলাইনে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগপন্থী বিভিন্ন আইডি থেকে সিয়ামকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন করা হলেও তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে যেই মামলায় সেটির এজাহারে (সম্পূরক) ‘ছাত্রলীগসমর্থক’ বলে দাবি করা হয়েছে।

এজাহারে ‘ছাত্রলীগসমর্থক’

সিয়ামকে অন্তবর্তী সরকারের সময়ের অর্থাৎ ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বরের পৃথক একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ এর ৬, ৭ ও ১২ ধারায় অধীনে দায়ের করা এই মামলায় সিয়ামকে দেখানো হয় ছাত্রলীগসমর্থক হিসেবে। দাবি করা হয়, ছাত্রলীগের একটি মিছিলে সিয়াম উপস্থিত ছিলেন এবং সেসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে পালিয়ে গিয়েছেলেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, “সাবিদুল ইসলাম (১৭) একজন ছাত্রলীগের সমর্থক। এই মামলার বাদী এসআই (নিরস্ত্র) আব্দুল আলীম (আখাউড়া থানার জিডি নং-৮০৩) ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর ফোর্সসহ আখাউড়া থানায় ডিউটি করছিলেন। ওইদিন দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নারায়নপুর মোড়ে অবস্থান করছিলেন। সেখানে তিনি তথ্য পান, ৫নং আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের গাজীরবাজার দিগন্ত, বাস টার্মিনাল এর সামনে পাকা সড়কে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে নৈরাজ্য ও নাশকতা মূলক কর্মকান্ড করার জন্য চেষ্টা করছিল।”

“পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামীরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এসময় রনি ভূইয়াকে আটক করা হলেও অন্যান্যরা পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়া আসামীদের মধ্যে সাবিদুল ইসলামও ছিল। এছাড়া মামলাটির প্রাথমিক তদন্তকালে সাবিদুল ইসলামের উপস্থিত থাকার সাক্ষ্য প্রমাণ পেয়ে আসামী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরে ব্রহ্মণবাড়িয়া সদর থানাধীন মাছিহাতা ইউপিস্থ উত্তর জগতসার এলাকা হইতে আটক করা হয়।”

এর আগে ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর মূল এজাহারটি দায়ের করা হয়। সেখানে ১৫ জন নামীয় আসামী এবং ৭০/৮০ জন অজ্ঞাতনামা আসামী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

দ্য ডিসেন্ট স্বাধীনভাবে মিছিলে সিয়ামের উপস্থিতি থাকার বা না থাকার বিষয়ে যাচাই করতে পারেনি। তবে, সিয়ামের ফেসবুকে একাউন্ট বিশ্লেষণ করে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের স্বপক্ষে কোনো প্রচারণা করতে দেখা যায়নি। তবে, তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়ে অভ্যুত্থানের পক্ষে সক্রিয় ভুমিকা পালন করেন। 

জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ছিলেন সিয়াম

জুলাই অভ্যুত্থানের শুরু থেকেই সক্রিয় ভুমিকায় ছিলেন সাবিদুল ইসলাম সিয়াম। ২০২৪ সালের ১১ জুলাই থেকে শুরু করে নিয়মিত তিনি আন্দোলনের পক্ষে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। (, , )

এমনকি ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট ১ দফার দাবিতেও ফেসবুকে প্রোফাইল ছবি আপডেট করেন তিনি। তাছাড়া ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালানোর পর স্বাধীন লিখে পোস্ট করেন এবং এক পোস্টে লিখেন, ‘‘আলহামদুলিল্লাহ বিজয় মিছিল করে আসলাম।’’

শুধু তাই নয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরেও নিয়মিত জামায়াত-শিবিরের পক্ষে ও আওয়ামীগের বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট করতেন সাবিদুল। বিএনপির ও ছাত্রদলের বিপক্ষেও পোস্ট রয়েছে তার টাইমলাইনে। (, , , , , , , )

 

‘মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে তাকে’

মামলায় সিয়ামের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম বাদল দ্য ডিসেন্টকে বলেন, ‘‘সাবিদুল ইসলাম সিয়ামকে প্রাথমিক অবস্থায় যে মামলায় সাসপেক্ট হিসেবে আটক করা হয়েছিল, সেটা ফাইন্ডআউট হয়নি। পরবর্তীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। কিন্তু মূল এজাহারে তার নাম ছিল না। কোনো আসামীও তার নাম বলেনাই। তাছাড়া সে ঘটনাস্থলেও ছিল না। জুলাই আন্দোলনের পক্ষের ছিল। কিন্তু আইও (তদন্তকারী কর্মকর্তা) বলতেছে অজ্ঞাতনামা কতেক আসামিরা ছিল। আইও অজ্ঞাতনামা হিসেবে সাসপেক্ট করে তারে দিছে। কিন্তু সে যদি ঘটনাস্থলে থাকত তাইলে তার এজাহারে নাম থাকত।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘ঘটনাস্থলে যদি থাকত তাহলে অন্য আসামিরা তার নাম বলত। আইওর কথা দিয়া তো আর হবে না। আসলে ওই দিন সে ঘটনাস্থলে ছিল না। ঘটনাস্থলে যদি থাকত তাহলে এজাহারে নাম থাকত। আর সে তো কোনো রাজনৈতিক কর্মীও না, তার কোনো পদ-পদবি নাই। তারে হচ্ছে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হইছে। আর সে জুলাইয়ের পক্ষেও একটিভ ছিল।’’

আইনজীবী বাদল বলেন, ‘‘সাবিদুল ইসলাম সিয়াম বর্তমানে গাজীপুরের কিশোর সংশোধনাগারে আছে। ছেলেটা মাইনর (নাবালক) বয়সও কম। তবুও অধস্তন আদালত তাকে জামিন দেয়নি। জামিন নিতে হলে হাইকোর্ট থেকেই নিতে হবে।’’

২০২৪ সালের মামলার বাদী এসআই (নিরস্ত্র) আব্দুল আলীম (আখাউড়া থানার জিডি নং-৮০৩) বলেন, ‘‘ওই সময় ছাত্রলীগের একটা মিছিল হয়েছিল। কয়েকজনের নামে মামলা করা হইছিল। ওই মামলায় নতুন করে বর্তমানে কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে কি-না আমার জানা নেই। আমি ট্রান্সফার হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় আছি।’’

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আখাউড়া থানার সাব ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) এমরান হোসেন বলেন, ‘‘সিয়াম এখন কাস্টরিতে আছে। তদন্ত চলমান আছে। তদন্ত শেষে বলা যাবে।’’

ব্রাহ্মণবাড়িয় জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জুলফিকার হায়দার রাফি দ্য ডিসেন্টকে বলেন, ‘‘সিয়াম আমাদের সমর্থক। আমাদের পক্ষে ফেসবুকে প্রচার-প্রচারণা চালায়। সিয়ামের নামে প্রথমে একটা ভুয়া স্ক্রিনশট ছড়িয়ে আটক করা হয়। স্ক্রিনশট ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। চব্বিশ পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা এই ধরণের বন্দোবস্ত দেখতে চাই না। আমরা এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সিয়ামের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।’’

ভুয়া স্ক্রিনশট ছড়িয়ে ‘শিবিরকর্মী’ বলা হয়েছিল

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীগপন্থী অনলাইন একটিভিস্ট ‘Ryan Draper’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি স্ক্রিনশট প্রকাশ করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, ‘Sabidul Islam Siam’ নামের একটি আইডি থেকে জাইমা রহমানকে নিয়ে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যসহ ছবিটি পোস্ট করা হয়েছিল।

এই পোস্টের পর স্ক্রিনশটটি বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ফেসবুকে শেয়ার করেছেন এবং সাবিদুল ইসলামের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। 

ছাত্রদল নেত্রী Tawhida Sultana ফেসবুকে Ryan Draper এর পোস্ট করা স্ক্রিনশটটি শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘‘এই ছেলেটা শুনলাম ক্লাস নাইনে পড়ে। শিবিরের জনশক্তি। ক্লাস নাইনের একটা বাচ্চা ছেলে আনোয়ার টিভি, মিমার্স লীগের মতো প্রোপাগান্ডা পেজ চালায়। শিবির রুট লেভেল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ট্রেনিং দিয়ে এদের এরকম বানিয়েছে নিঃসন্দেহে। কিন্তু কথা হইলো দেশের বিশাল একটা জনগোষ্ঠী এই জংলি, অসভ্যদের হাত থেকে বাঁচার জন্য বিএনপিকে ভোট দিয়েছে। সরকার তো এই ইস্যুতে যথেষ্ট স্টেপ নিচ্ছে না।’’

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মানসুরা আলম সহ অনেকেই এটি শেয়ার করেছেন। তাছড়াও স্বতন্ত্রভাবে প্রোফাইলে স্ক্রিনশট যুক্ত করে পোস্ট করেছেন অনেকেই। দেখুন এখানেএখানে