Kalbela Journalist Calls Two Actresses ‘Prostitutes’
জাতীয় দৈনিক কালবেলার মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টার মারিয়া বিনতে ইলিয়াস অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ও পরীমনিকে ‘পতিতা’ বলে সম্বোধন করেছেন। এছাড়া ওই নারী সাংবাদিক তার একাধিক ফেসবুক পোস্টে অভিনেত্রী বাঁধনকে ‘জঙ্গি’ আখ্যাও দেন। পাশাপাশি সম্প্রতি ইতালিতে বাঁধনকে আক্রমণকারীদের কার্যক্রমকে ‘সাবাস’ বলে উদযাপন করেন।
মারিয়া বিনতে ইলিয়াসের ফেসবুক টাইমলাইন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিভিন্ন সময়ে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের মিছিল ও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম তার একাউন্টে পোস্ট করেন। এছাড়া বাঁধন ও পরীমনিকে ‘পতিতা’ সম্বোধন করা ছাড়াও সাংবাদিক ও উপস্থাপক দিপ্তি চৌধুরীকে নিয়ে এক পোস্টে লিখেছেন, “Dipty Chowdhury নিজেই একজন দেশদ্রোহী এবং রাজাকার এবং কুকুর এবং সুযোগসন্ধানী পা চাটা একজন বেহায়া নারী।”
বাঁধন-পরীমনিকে ‘পতিতা’ বলে সম্বোধন
গত ৮ সেপ্টেম্বর ‘পরীমনি ও বাঁধনরা চলচিত্রের অভিশাপ’ মন্তব্য করে মারিয়া তার এক পোস্টে লিখেন, ‘‘যে সরকারই আসুক না কেন পরীমনি বা বাঁধনদের মতো অসভ্য নারী জাতির কলঙ্করা, সবসময় এতো আওয়াজ তুলতে পারে কি করে? কার বলে কার বা কাদের পাওয়ারে? যাদের পাওয়ারে এসব so called prostitute'ra অলওয়েজ ফর্মে থাকে আগে তাদের দল থেকে বিতারিত করতে হবে গোড়া কেটে না দিলে এদের পাওয়ার কখনই কমবে না। চিত্রনায়িকার তকমার আড়ালে যারা শুধুই দেহ ব্যবসা করে এবং হাজার হাজার মেধাবী ছেলেদের বা তাদের পরিবার ধ্বংস করে তাদের কি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে জায়গা দেওয়া উচিৎ বা হওয়া উচিৎ?’’
তিনি আরও লিখেন, ‘‘দুঃখজনক ব্যপার এই যে, অভিনয় দেখে না চেহারা আর লবিংয়ের জোরে এরা শিল্পী সত্তাকে একেবারে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এর শেষ হবে বলে আমার মনে হয় না বরংচো দিন দিন এটা বাড়বে, এবং ভাইরাসের মতো ছড়াবে। যোগ্যতা সম্পূর্ণ অভিনেত্রীরা এই দেহব্যবসার ট্রেন্ডে পড়ে হারিয়ে যাচ্ছে কারণ সবাই পরীমনি বাঁধন হতে চায় না এবং নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছে আর চলচিত্র জগৎটা মেধা শূন্য হয়ে একটু একটু করে নোংরামি আর সিন্ডিকেটের আধারে তলিয়ে যাচ্ছে। এক পরীমনি আর এক বাঁধন এবং আরো নাম জানি যারা পুরনো দিনের শিল্পী সত্তা তথা সাবানা ম্যাডাম ববিতা ম্যাডাম এদের সেই সোনালি যুগ আর সিনেমার জৌলুশকে কলঙ্কিত করেছে। এই পরীমনি বাঁধনরা চলচিত্রের অভিশাপ I repeat অভিশাপ। এদের সিন্ডিকেট ভেঙে দিন আওয়ামীলীগে যারা আগে ছিলো এদের প্রতিদিনের খদ্দের এদের সনাক্ত করে তাদেরও সরিয়ে দিন শত সংগ্রামের এই দল আওয়ামীলীগ থেকে। আরো লিখতে পারতাম বাট নিতে পারবে না কেও কেও। বাট প্রয়োজন হলে আরো বোল্ড লিখবো Depends on tym ad situation’’
‘সাবাস! নারী জঙ্গিডারে উচিৎ শিক্ষা দিছে’
সম্প্রতি ইতালির ভেনিসে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের দ্বারা হেনস্তা ও মারধরের শিকার হন বাঁধন। এরপর এ সংশ্লিষ্ট ভিডিও শেয়ার দিয়ে ওই সাংবাদিক বাঁধনকে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে আক্রমণকারীদের কার্যক্রমকে ‘সাবাস’ বলে তা উদযাপন করেন।
বাঁধনকে মারধর ও হেনস্তার ইস্যুতে এ পর্যন্ত ১২টি পোস্ট দিয়েছেন তার আইডিতে।

গত ৮ সেপ্টেম্বর বাঁধনকে মারধরের একটি ভিডিও শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেন, ‘‘সাবাস! নারী জঙ্গিডারে উচিৎ শিক্ষা দিছে। Such a dash lady ওরে দেখলেই বমি আটকে থাকে না আমার বাংলাদেশের কলঙ্ক একটা।’’
একই সময়ে বাঁধনের ফেসবুক লাইভ শেয়ার করে লিখেন, ‘‘তোরে তো ডিম মারছে এটা ক্যন বললি না? জঙ্গি একটা! থার্ড ক্লাস ’’
একই দিন আরেকটি পোস্টে আক্রমণকারীদের উদ্দেশ্যে ‘সাবাস’ মন্তব্য করেন এবং সময় আসলে ‘দেখে নেয়ার হুমকি’ দিয়ে লিখেন, ‘‘অনেক ভাবেই তো এতদিন গোসল করেছে জঙ্গিটা এবার ভেনিসে গিয়ে ডিমের গোসল কেমন হয় একটু experience নিলো আর-কি। সাবাস আমার ভায়েরা দেশদ্রোহীদের প্রশ্নে কোনো ছাড় নয় সে হোক দেশে বা বিদেশে।’’
আ. লীগ-ছাত্রলীগের পক্ষে করেন এক্টিভিজম
মারিয়া বিনতে ইলিয়াসের আইডির এক্টিভিটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের মিছিল ও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম তার একাউন্টে পোস্ট করেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর সজীব ওয়াজেদকে নিয়ে একটি পোস্টে লিখেন, ‘‘এক ভেনিস সফরে ফেসবুক দখলে নিয়েছে জয় ভাই আর তো দিন পরেই আছে! আওয়াজ হবে নাকি আবারও For Future Leader Of Bangladesh Sajeeb Wazed’’
১১ সেপ্টেম্বর ‘রাজধানীর গুলশানে নি'ষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল’ শিরোনামে যুগান্তর পত্রিকার ফেসবুক পেইজে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একটি মিছিলের ভিডিও পোস্ট করা হয়েছিল। সেই ভিডিও শেয়ার দিয়ে তিনি লিখেন, ‘‘এতো বড় মিছিলের ক্যাপশন ঝটিকা!? nothing to say’’

এছাড়া তার পোস্টে অনর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে ‘বিশ্ব বাটপার’ উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘‘চোরের দশ দিন গৃহস্থের এক দিন। দেশটাকে শেষ করে দিছে বিশ্ব বাটপারটা। ওনার সাথে আইনি লড়াই অনেক বাকি।’’
এ বিষয়ে মারিয়া বিনতে ইলিয়াস দ্য ডিসেন্টকে বলেন, ‘‘আপনি হয়তো আমার ডিটেইলস জেনেই আমাকে কল করেছেন। আমার মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে এজ এ সিটিজেন অফ বাংলাদেশ, দ্যাটস হোয়াই আমার যেটা ভালো মনে হয়েছে আমি সেটা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছি। আমার একদম যেটা সঠিক মনে হয়েছে, আমি আপনাকে বলছি, আমি সেটাই লিখেছি, সেটাই বলেছি।’’
এ বিষয়ে কালবেলার হেড অব অনলাইন অমৃত মলঙ্গী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে বলেন।
কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা দ্য ডিসেন্টকে বলেন, ‘‘উনি আমাদের কোনো পার্মানেন্ট কর্মী নয়। আমাদের এখানে প্রেজেন্টার হিসেবে আসেন। আর ফেসবুকে যার যার মতো করে লেখে। ওটা তো তার ব্যক্তিগত বিষয়। এটা নিয়ে আমি কিছু বলতে পারব না, সেটা আপনি উনাকে জিজ্ঞেস করেন।’’
একজন সাংবাদিক কর্তৃক কোনো নারীকে ‘পতিতা’ সম্বোধন করা কতটা সাংবাদিকতাসুলভ; এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. খোরশেদ আলম দ্য ডিসেন্টকে বলেন, ‘‘বিষয়টি কেবল সাংবাদিকতার জায়গা থেকে নয়। যে কোনো ব্যক্তি যদি অন্য কাউকে উদ্দেশ্য করে লিখিত বা মৌখিকভাবে মানহানিকর (স্ল্যান্ডার এবং লাইবেল) মন্তব্য করেন, সেটি স্পষ্টতই আইনি অপরাধ। পেশা যা-ই হোক না কেন, কেউ এমনটি করতে পারেন না। কেউ করলে ভুক্তভোগীর মানহানির মামলা করার পূর্ণ আইনি সুযোগ রয়েছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘নিষিদ্ধঘোষিত কোনো ছাত্রসংগঠন বা দলের পক্ষ নিয়ে কেউ কাজ করলে প্রচলিত আইনি কাঠামোর মাধ্যমেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই হয়তো এমন সংগঠনকে সমর্থন করে কথা বলছেন। সরকার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চাইলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে। এর জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাংবাদিক হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে প্রচলিত আইনে তার যতটুকু দায়বদ্ধতা রয়েছে, তাকে ঠিক ততটুকুই আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।’’