Teacher Fired Over ‘Like’ on Video Criticising Prime Minister
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘কটূক্তি করা’ একটি ভিডিওতে লাইক দেওয়ার অভিযোগে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় মো. মামুন অর রশিদ তালুকদার নামে এক স্কুলশিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি উপজেলার মিঠাখালী পিজিএস আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিতের সহকারী শিক্ষক। গত ২১ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
এর পূর্বে তাকে দুই দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠায় স্কুল কর্তৃপক্ষ; যেটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি স্থানীয় এমপির ভাই। শিক্ষকের দেয়া জবাবে স্কুল পরিচালনা পর্ষদ সন্তষ্ট না হওয়ায় তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। তবে বর্তমানে ওই শিক্ষক নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত হলেও শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে অংশ না নিতে বলা হয়েছে। এবং তাকে আলাদা খাতায় হাজিরা দিতে বলেছেন প্রধান শিক্ষক।
প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তিমূলক একটি ভিডিওতে লাইক দেওয়ায় সাময়িক বরখাস্তের এই ঘটনাকে ‘খামখেয়ালিপনা’ বলছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
কী ছিল ভিডিওতে
গত ২৮ জুলাই হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির পদযাত্রায় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয় এনসিপি। রাজধানীর একটি বিক্ষোভে এনসিপি নেতা তৌহিদুল ইসলাম তুহিন স্লোগান দেন ‘সন্ত্রাসীদের বাপের নাম, তারেক রহমান’, ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’।
সেই বিক্ষোভের ২৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ গত ১ আগস্ট আপলোড দেয় ‘ভোলা ভিশন’ নামক একটি ফেসবুক পেইজ। সেই ভিডিওতে লাইক দেওয়ার কারণ দেখিয়ে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয় এই স্কুল শিক্ষককে।
২ বার কারণ দর্শানোর নোটিশ, অতঃপর সাময়িক বরখাস্ত
ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. মামুন অর রশিদ তালুকদারের ভাষ্যমতে, গত ৯ আগস্ট রাত সাড়ে নয়টার দিকে ফেসবুকে স্ক্রল করার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে লাইক পড়ে গেছে। পরে একজন নক করে জানালে তিনি লাইক তুলে দেন।
পরবর্তীতে ১২ আগস্ট মঠবাড়িয়া প্রতিদিন নামক একটি পোর্টালে ‘সন্ত্রাসীদের বাপের নাম তারেক রহমান ভিডিওতে লাইক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা’ শিরোনামে প্রতিবেদন করলে ২২ আগস্ট তাকে প্রথম দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব চাইলে তিনি পরদিনই জবাব দেন। এরপর ৫ সেপ্টেম্বর স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিখিল চন্দ্র মিত্র এবং স্কুল কমিটির সভাপতি মো নুরুল আমিন কামাল স্বাক্ষরিত এক নোটিশে তাকে ফের কারণ দর্শাতে বলা হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, পূর্বের জবাবে স্কুল কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হতে পারেনি। সময় দেওয়া হয় সাত কর্মদিবস। এরপর ৭ সেপ্টেম্বর মামুন লিখিত জবাব দেন।
এরপর ২১ সেপ্টেম্বর তাকে সাময়িক বরখাস্তের নোটিশ পাঠায় স্কুল কর্তৃপক্ষ।
স্কুল কমিটির সভাপতি মো. নুরুল আমিন কামাল স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে বলা হয়, ‘‘উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, অত্র বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গণিত) মোঃ মামুন-অর-রশিদ তালুকদারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ (প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যে লাইক, যাহা প্রধানমন্ত্রী/রাষ্ট্রের ভাবমুর্তিকে ক্ষুন্ন করে) বিষয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়। তিনি উক্ত নোটিশের জবাব দাখিল করেছেন।”
তাতে আরও বলা হয়েছে, “দাখিলকৃত জবাব, সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ও অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনা এবং বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক, পিরোজপুর মহোদয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে অত্র বিদ্যালয়ের এডহক ম্যানেজিং কমিটির সভায় বিষয়টি আলোচনা করা হয়। এডহক কমিটির সভা নং-০৮/২৬, তারিখ ১৬/০৯/২০২৬ খ্রি. এর সিদ্ধান্তক্রমে এবং প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসরণপূর্বক অভিযোগটির পরবর্তী তদন্ত/নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সহকারী শিক্ষক (গণিত) মোঃ মামুন-অর-রশিদ তালুকদারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। এই সাময়িক বরখাস্তের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তার বেতন-ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধাদি প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে। অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক/শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে।’’
এ বিষয়ে ভোক্তভোগী শিক্ষক মো. মামুন অর রশিদ তালুকদার দ্য ডিসেন্টে বলেন, ‘‘আমি ইচ্ছাকৃতভাবে ওই ভিডিওতে লাইক দিইনি। ফেসবুকে স্ক্রল করার সময় সম্ভবত নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে বা আঙুলে ডাবল চাপ লেগে ভুলবশত লাইকটি পড়ে যায়। পরে পরিচিত একজন আমাকে বিষয়টি জানালে আমি সাথে সাথেই লাইকটি তুলে নিই। কিন্তু এই সামান্য সময়ের মধ্যেই কে বা কারা এর স্ক্রিনশট নিয়ে মঠবাড়িয়ার একটি অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ করে দেয়। ওই সংবাদের ভিত্তিতে পরবর্তীতে ডিজিএফআই এবং এনএসআই-এর মতো সংস্থাগুলো আমার বিষয়ে তদন্ত করে। তারা তদন্ত শেষে বুঝতে পারে যে, স্ক্রল করার সময় আঙুলের চাপে এমনটা হয়ে থাকতে পারে এবং এখানে আমার অপরাধমূলক কিছু নেই। এমনকি ভবিষ্যতে কেউ এই বিষয়ে আমাকে হয়রানি করলে তাদের ফোন করার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তারা আমাকে তাদের নম্বরও দিয়ে যান।’’
তিনি বলেন, ‘‘আমার নিজ প্রতিষ্ঠান এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাকে দুই বার শোকজ করে। আমি দুই বারই প্রকৃত সত্যটা তুলে ধরে জবাব দিয়েছিলাম, কিন্তু প্রকৃত ঘটনা জানার পরও স্কুল কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত আমাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে।’’
‘‘আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নই। তবে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে আমার সমর্থন ছিল। এর বাইরে কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে আমার বিন্দুমাত্র কোনো সম্পৃক্ততা নেই’’, বলেন মামুন অর রশিদ তালুকদার।
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিখিল চন্দ্র মিত্র দ্য ডিসেন্টকে বলেন, ‘‘আমি যথেষ্ট মানবিক মানুষ। কিন্তু অনেক সময় তা দেখাতে পারি না। আমার স্কুলের সভাপতি খুবই স্ট্রং তিনি শক্ত হাতে প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণ করেন।’’
যা ছিল কারণ দর্শানোর নোটিশে
শিক্ষক মো. মামুন অর রশিদ তালুকদারকে প্রথম দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় গত ২২ আগস্ট। দ্বিতীয় দফায় ফের নোটিশ দেওয়া হয় ৫ সেপ্টেম্বর।
নোটিশে বলা হয়, ‘‘সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপনার প্রদত্ত একটি প্রতিক্রিয়া (লাইক) নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা এবং অনলাইন সংবাদ মাধ্যম "মঠবাড়িয়া প্রতিদিন" তারিখঃ বুধবার ১২ আগস্ট ২০২৬ইং, সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি সরকারের 'বিভিন্ন গোয়েন্দা বিভাগ, আইন-শৃংখলা বাহিনীর তদান্তধীন সহ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদ ওশিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের গোচরীভূত হয়েছে। বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে আপনার পেশাগত আচরণ ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির সংগে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় এ ধরনের শৃংখলাবিরোধী ও রাষ্ট্রের সম্মান ক্ষুন্নকারী আচরণ সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত এবং গুরুতর অসদাচরন এর শামিল।
উক্ত স্পর্শকাতর বিষয়ে আপনার নিকট হতে ব্যখ্যা তলব করে গত ২২/০৮/২০২৬ইং ১ম কারণ দর্শানো নোটিশ জারী করা হয়েছিল। গত ২৩/০৮/২০২৬ইং তারিখে আপনার দাখিলকৃত জবাব পর্যালোচনা করে পরিচালনা পর্ষদ সন্তষ্ট হতে পারেনি।
অতএব, সরকারের আরোপিত অত্র প্রতিষ্ঠানের চাকুরীর প্রবিধানমালা এবং এমপিওভুক্ত বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের শৃংখলা ও আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী আপনাকে কেন চাকরি থেকে সাময়িক অপসারন করা হবে না তার লিখিত কৈফিয়ত নোটিশ প্রাপ্তির ৭(সাত) কর্মদিবসের মধ্যে নিম্নস্বাক্ষরকারীর নিকট দাখিল করার জন্য পুনরায় নির্দেশ প্রদান করা হলো। নির্ধারীত সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা দাখিল না করলে বা ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে আপনার বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী একতরফা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’’
এর জবাবেব ভোক্তভোগী শিক্ষক লিখেন, ‘‘আমি গত ০৯/০৮/২০২৬ ইং তারিখ আনুমানিক রাত সাড়ে নয়টার দিকে আমার ফেইজবুক আইডির নিউজফিড স্ক্রল করাকালিন সময়ে একটি ভিডিওতে অসাবধানতাবসত আঙ্গুলের ডাবল ট্যাব পড়ায় লাইক রিঅ্যাক্ট হয়ে যায়। সামান্য সময়ের ব্যবধানে আমার এক শুভাকাঙ্খী আমার ম্যাসেঞ্জারে নক করে আমাকে অবগত করলে সাথে সাথেই আমি স্ক্রল করে ব্যাকে গিয়ে দেখি ভিডিওটিতে লাইক পড়ে গেছে, তৎক্ষণাৎ আমি লাইকটি তুলে দেই এবং পরের দিন ১০/০৮/২০২৬ তারিখ আমার ফেইজবুক (সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম) আইডিতে একটি পোস্টের মাধ্যমে উক্ত বিষয়টি ব্যাখ্যা করে স্পষ্ট করি। কিন্তু আমার দূর্ভাগ্য যে ঐ সামান্যতম সময়ের মধ্যে কে বা কাহারা আমার লাইক রিঅ্যাক্টযুক্ত ভিডিওটির স্ক্রিনশট নিয়ে নেয় এবং সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেন এবং ১২/০৮/২০২৬ তারিখে মঠবাড়ীয়ার একটি অনলাইন পোর্টালে (মঠবাড়ীয়া প্রতিদিন) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এটি আমার ইচ্ছাকৃত ভুল/অপরাধ নয় বরং এটি আমার অসাবধানতাজনিত অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল এবং এ ভুলের জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত, ভবিষ্যতে যাতে এমন ভুল না হয় সে জন্য সচেতন থাকবো।
অতএব, মহোদয় সমীপে আমার বিনীত আবেদন এই যে, আমার উক্ত অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আমাকে ক্ষমা করতে আপনার একান্ত মর্জি হয়।’’
এ বিষয়ে স্কুল কমিটির সভাপতি ও পিরোজপুর-৩ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলালের ভাই মো নুরুল আমিন কামাল দ্য ডিসেন্টকে বলেন, ‘‘ওই শিক্ষকের সাথে আমার ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা নেই, তবে এই কাজের জন্যই মূলত আমি উনাকে শোকজ এবং সাময়িক বরখাস্ত করেছি। উনি দাবি করছেন যে, কাজটা উনার ভুলে হয়েছে এবং উনি ক্ষমা চাইতে চান। কিন্তু উনি তো আমার কাছে কোনো অন্যায় করেননি, করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তাই ক্ষমা চাইলে প্রধানমন্ত্রীর কাছেই চাইতে হবে এবং সেটা কীভাবে চাইবেন, তা উনারই ভালো জানার কথা।’’
দুইবার কারণ দর্শানোর নোটিশের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘‘আমি উনাকে দুইবার শোকজ করেছিলাম, কিন্তু দ্বিতীয় শোকজের জবাবে তিনি ‘ইচ্ছাকৃত ভুল’ বা ‘অপরাধ নয়’ জাতীয় কথা লেখায় তা আমাদের কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি। ডিসি সাহেব তখন আমাকে বলেন যে, ‘আপনে শোকজ করছেন কয়বার?’ আমি বলি দুইবার। তখন তিনি বলেন, ‘আপনে এখন যাইয়া ওরে সাসপেন্ড করিয়া তারপর আমারে কপি দিবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘‘স্থানীয় কিছু লোকজন আছে উনার পক্ষে। উনারা প্রধান শিক্ষককে হুমকি টুককি দিছে৷ পরে আমি সরাসরি ডিসি সাহেবের কাছে গেছি।’’
‘‘ডিসি সাহেব এবং বরিশাল বোর্ডের নির্দেশেই আমি বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছি; এটা অপরাধ না হলে তো ডিসি সাহেব আমাকে সাসপেন্ড করতে বলতেন না। আর নিয়ম অনুযায়ী একজন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করার ক্ষমতা স্কুল কর্তৃপক্ষের অবশ্যই রয়েছে’’, বলেন নুরুল আমিন কামাল।
প্রধান শিক্ষককে হুমকির বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক মামুনকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘‘স্থানীয় কেউ মনে হয় হেড স্যারের সাথে কথা বলছে। ওই যে পক্ষ নিতে গিয়ে হিতে বিপরীত আরকি৷ আমি এটা নিয়ে জানি না বিস্তারিত।’’
তবে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু সাঈদ বিষয়টা নিয়ে পুরোপুরি অবগত নন বলে জানান। এবং তিনি স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলতে বলেন। তবে স্কুল কমিটি আপনার নির্দেশনায় বরখাস্ত করেছে দাবি করেছে—এমন প্রশ্ন করলে জবাবে তিনি দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “ওইটা আমার অথরিটি না।”
মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আতাউর রাব্বী দ্য ডিসেন্টকে বলেন, ‘‘এটা তো স্কুল কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’’
কমিটি বা সভাপতি কাউকে বরখাস্ত করার এখতিয়ার রাখেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘থাকার কথা। যদি না থাকে সে ক্ষেত্রে আমার কাছে অভিযোগ আকারে আসার কথা। কিন্তু ওই শিক্ষক তো আমার কাছে আসেননি বা কোনো অভিযোগ করেননি।’’
‘নেতার ভাষা ও নির্দেশনা অনুধাবন করতে কর্মীরা ব্যর্থ’
প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তিমূলক একটি ভিডিওতে লাইক দেওয়ায় সাময়িক বরখাস্তকে ‘খামখেয়ালিপনা’ বলছেন মানবাধিকারকর্মী নুর খান লিটন।
তিনি দ্য ডিসেন্টকে বলেন, ‘‘যখন কোনো বিষয়ে শোকজ হয় এবং সেই বিষয়ে যখন সে অনিচ্ছাকৃত ভুল এবং সেজন্য যখন ক্ষমা চান, তারপরে আসলে এই ধরনের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা আছে কিনা, সেটা খুব ভেবে দেখা দরকার কর্তৃপক্ষের। আরেকটা হচ্ছে, যেখানে প্রাইম মিনিস্টার নিজেই গতকালকে একটা উদাহরণ তৈরি করেছেন যে, তার বিরুদ্ধে মন্তব্য করার কারণে বা অপিনিয়ন দেওয়ার কারণে যাকে আটক করা হয়েছিল তাকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন। এটার মধ্য দিয়ে তো বার্তা পৌঁছে গেছে যে, এই ধরনের বিষয়গুলো নিয়ে যাতে ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ না হয়। তার একটা নির্দেশনা তো এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আমরা পেলাম, বার্তা। তারপরে তো এই বিষয়গুলো নিয়ে কোনো মহলের এই ধরনের খামখেয়ালিপনা বা এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার যুক্তি ধোপে টেকে না।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী এক ধরনের নির্দেশনা দেন বা এক ধরনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চান, কিন্তু তার দলীয় লোকরা সেই বিষয়টা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। এটা একটা কারণ। তার মানে, দলের নেতার কথা কর্মীরা বুঝতেই পারে না। নেতার ভাষা, নেতার নির্দেশনা, নেতার বার্তা—এটা কর্মীদের লেভেলে এই পর্যায়ে যে, তারা অনুধাবনই করতে পারে না। একটা ভালো দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন গতকালকের ঘটনায়। এই দৃষ্টান্তটা ফলো করা উচিত তাদের রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের।’’
‘‘ওই শিক্ষক যদি ভুল নাও স্বীকার করতেন, যে হ্যাঁ এটা তিনি মনে করেন, তাহলেও তো তার বিরুদ্ধে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন, যে রেফারেন্স তৈরি করেছেন, তারপরে তো আর পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই’’, বলেন নুর খান লিটন।