Two Suspects Identified in TikTok Scandal, but Police Say They Know Nothing About It

18 July 2026

গত তিন ধরে বাংলাদেশের সামাজিক মাধ্যম তোলাপাড় হচ্ছে টিকটকে কতিপয় মাদ্রাসা শিক্ষকের নানান অসামাজিক কার্যকলাপ সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে আসার পর। নামকরা অনলাইন এক্টিভিস্টরা এই বিষয়ে লেখালেখি করছেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। দ্য ডিসেন্ট কথিত এসব মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক শিশুদের নিয়ে বিকৃত যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ এবং শারিরীক নির্যাতনের ভিডিও করে সেগুলো টিকটকের প্রকাশ করার ঘটনায় একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। শিশুদের নির্যাতন যৌন হয়রানি করা দুই টিকটকার শিক্ষকের পরিচয়ও প্রকাশ করেছে দ্য ডিসেন্ট।

এত কিছু ঘটে যাওয়ার পরও এই ইস্যুতে কিছুই জানে না অভিযুক্তরা যেসব এলাকায় থাকেন সেখানকার স্থানীয় পুলিশ। চিহ্নিত হওয়া দুই অভিযুক্তের একজনের নাম এইচ এম নাইম হাসান। তিনি NAIM NUR নামক টিকটক একাউন্টে তার শিশু শিক্ষর্থীদেরকে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণভাবে উপস্থাপন করে ভিডিও প্রকাশ করতেন।

গতকাল তার এবং অন্য আরও কয়েকজন মাদ্রাসা শিক্ষকের এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে দ্য ডিসেন্ট। পুড়ন এখানে: “তেলাওয়াত-রত মেয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের ভিডিও আপলোড করে লেখা হয়েছে “কনটা পছন্দ হয়”?

নাইম ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা সদরের দক্ষিণ বাজার এলাকার মারকাজুল কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক। তার প্রকাশ করা ভিডিওগুলোর একটা অংশ এই মাদ্রাসায়ই রেকর্ড করা।

এই ঘটনার বিষয়ে রাজাপুর থানার ওসি সুজন বিশ্বাস দ্য ডিসেন্টকে বলেন, ‘‘এ ঘটনা সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই।’’

মাদরাসা থেকে বরখাস্ত হয়েছেন নাইম

পুলিশ কিছু না জানলেও মারকাজুল কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক তদন্ত শেষে আজ শনিবার নাইম হাসানকে শিক্ষকতা থেকে বরখাস্ত করেছে।

মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ আল মামুন খান গতকাল শুক্রবার জানিয়েছিলেন আজ শনিবার মিটিং করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজ আবার যোগাযোগ করলে মামুন খান দ্য ডিসেন্টকে বলেন, ‘‘আজকে কর্তৃপক্ষের মিটিংয়ের মাধ্যমে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সে চলে গেছে মাদরাসা থেকে।’’

তার বিরুদ্ধে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে কোন আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা জিজ্ঞাসা করা হলে মামুন খান জানান, কর্তৃপক্ষ এবং অভিভাবকরা বসে প্রয়োজন মনে করলে ব্যবস্থা নেবেন।

নাইম হাসানের সাথে এ ব্যাপারে গতকাল দ্য ডিসেন্টের সাথে কথা হলেও আজ তাকে কল করে পাওয়া যায়নি।

গতকাল তিনি দ্য ডিসেন্টকে বলেছেন, “প্রয়োজনে আমি একাউন্টই ডিলিট করে দেব। আমি আসলে না বুঝে এসব ভিডিও প্রকাশ করেছিলাম। এখন মানুষজন বলায় বুঝতে পেরেছে আমার ভুল হয়েছে। আপনারা এই ছোটখাটো বিষয়টা নিয়ে এত ব্যস্ত হয়েছেন কেন।”

নাইম তার টিকটক একাউন্টে শিশু ছেলে ও মেয়েদের ভিডিও আপলোড করে যৌন এবং অশোভন ইঙ্গিত মন্তব্য জুড়ে দিতেন। এসব ভিডিওর কমেন্ট সেকশনেও শিশুদের ব্যাপারে আপত্তিকর নানান মন্তব্য করা হতো।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুটি শিশু ছাত্রের ছবি নিজের ছবির দুই পাশে রেখে নাইম লিখেছেন, ‘দুই পাশে দুই সন্দরী’। শিশু মেয়েদের কোরআন তেলাওয়াতরত দৃশ্যের ভিডিওর করে নাইম পোস্ট করেছেন, ‘কনটা পছন্দ হয়’ লিখে। এরকম আরও বহু আপত্তিকর কন্টেন্টের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে দ্য ডিসেন্ট এর প্রতিবেদনে।


আরেক অভিযুক্ত রাকিব জানালেন নতুন মাদ্রাসায় যোগ দেয়ার খবর

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, একটি ৩/৪ বছরের মেয়ে বাচ্চা আরবি পড়ছে। তখন শিক্ষক একটি লাঠি দিয়ে ঐ ছাত্রীর ঠোটে সুড়সুড়ি দিচ্ছেন। ছাত্রীটি কান্না করছে এবং কান্না করতে গিয়ে শিশুটির মুখ খুললে ঐ শিক্ষক তার হাতে থাকা লাঠি শিশুটির মুখে ঢুকিয়ে সুড়সুড়ি ও খোচা দিয়েছেন।

এই ভিডিওটি “পিচ্ছি পোলাপানকে কান্না করাতে ভালোই লাগে” ক্যাপশনে “ঘ্যারত্যাড়া শাহজাদা” নামক টিকটক একাউন্ট থেকে আপলোড করা হয়েছিল। এছাড়াও একই পোস্টে লেখা হয়েছে, “কি মায়া করে কান্না করে গো।”

আরও বেশ কয়েকটি ভিডিওতে বাচ্চাদেরকে শারীরিক নির্যাতনের দৃশ্য দেখা গেছে তার একাউন্টে। এই একাউন্টের মালিক মাদ্রাসা শিক্ষক ইমরান হোসেন রাকিব। যিনি রায়পুরের হায়দরগঞ্জ দারুল কোরআন ইসলামিক একাডেমির শিক্ষক ছিলেন। ভাইরাল ভিডিওটি ওই মাদরাসায় ধারণ করা। 

আজ শনিবার রাকিবের সাথে দ্য ডিসেন্ট এর কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, হায়দরগঞ্জের ওই মাদ্রাসাটি ছেড়ে এখন তিনি যোগ দিয়েছেন খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার মাদ্রাসাতুত তাহফিজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে। তার দেয়া এই তথ্য দ্য ডিসেন্ট নিজস্বভাবে যাচাই করতে পারেনি। তার কাছে চাইলেও ওই মাদ্রাসার কোন ঠিকানা বা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের নম্বর দেননি।

তবে মাদরাসাতুত তাহফিজ চট্টগ্রাম শাখার পরিচালক মুফতি আজিজ দ্য ডিসেন্টকে জানিয়েছেন, খাগড়াছড়িতে তাদের কোনো শাখা নেই।

রাকিব জানিয়েছেন, তার বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগে। এর মধ্যে গতকাল শুক্রবার ফেসবুক লাইভে এসে রাকিব শিশু নির্যাতনের ঘটনা এবং আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের জন্য দু:খ প্রকাশ করেছেন। ভিডিওতে তিনি হাসিমুখে কথা বলেছেন। যদিও আজ শনিবার তার ফেসবুক আইডিটি লকড অবস্থায় পাওয়া গেছে।

দ্য ডিসেন্টকে রাকিব বলেছেন, ‘‘এসব ভিডিও দুষ্টুমি করে আপলোড দিয়েছিলাম। বিষয়টা বুঝতে পারি নাই। এখন ডিলিট করে দিয়েছি।”

‘রাকিব মাদ্রাসার মালামাল নিয়ে পালাইছে’

রাকিবের বিষয়ে জানতে গত শুক্রবার হায়দরগঞ্জ দারুল কোরআন ইসলামিক একাডেমির সভাপতি জনাব মো. মঞ্জুর আহমেদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানিয়েছিলেন তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন। 

আজ আবার কী ব্যবস্থা নিয়েছেন জানতে চাওয়ায় হলে তিনি দাবি করেন, রাকিব দু’মাস আগেই এই মাদরাসা থেকে মালামাল চুরি করে পালিয়েছিলেন। এজন্য তিনি এ ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। 

মোঃ মঞ্জুর আহমেদ বলেন, ‘‘ও ঝামেলা করে আমার মাদ্রাসার টাকা, বইপত্র, ক্যামেরা সিসিটিভি ক্যামেরার মেমোরিকার্ড এসব নিয়ে পালাইছে। এরপর মাদ্রাসা বন্ধ করে দিছি।’’

তবে মাদ্রাসার মালামাল চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে রাকিব বলেন, ‘‘চুরির ঘটনার সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এগুলো অন্য শিক্ষকরা করেছেন। মূলত সভাপতি মনজুর সাহেব প্রতি মাসের ৭-৮ তারিখে মাদ্রাসায় এসে বেতনের সব টাকা নিয়ে চলে যেতেন, কিন্তু শিক্ষকদের বেতন দিতেন না। এলাকায় খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন। দীর্ঘদিন বেতন না পেয়ে ক্ষোভ থেকেই অন্য শিক্ষকরা মাদ্রাসা থেকে সিসি ক্যামেরা, মনিটর ও লাইটসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে গেছেন।’’

এসব ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, ‘‘আমরা মাদরাসায় খবর নিয়ে জানলাম ওই শিক্ষকের বাড়ি সেনবাগে। তাই সেনবাগের প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা দেখবেন।’’

সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহসিয়া তাবাসসুমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি সেনবাগ থানাকে ঘটনা সম্পর্কে জানিয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘‘সেনবাগ থানা ব্যাপারাটা দেখছে।’’

তবে সেনবাগ থানার ওসি মো. আব্দুর রহিম সরকার এ ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন। 

‘‘আমাদের কাছে এ ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই,’’ বলেন আব্দুর রহিম সরকার।

টিকটকে রাকিবের কর্মকাণ্ড নিয়ে আরও দেখুন দ্য ডিসেন্ট এর এই প্রতিবেদনে